৬ জুলাই, পাকতিয়া প্রদেশের জুরমত এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে কার্যকর লেগ-ব্রেক ও গুগলি বোলিং করে থাকেন। আফগানিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশগ্রহণ করেছেন। আফগানিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। পাকিস্তানী ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আফগান ক্রিকেটে মিস আইনাক রিজিওনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আফগান চিতা ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে খেলেছেন। ১২ মার্চ, ২০১৩ তারিখে আবুধাবিতে স্কটল্যান্ড বনাম আফগানিস্তানের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। উপযুক্ত সুযোগের অভাবে কেবলমাত্র আফগানিস্তানের মধ্যেই তাঁকে খেলতে দেখা যায়। তবে, ২০১৬ সাল থেকে জাতীয় দলের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পান। সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সালে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লীগ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরে নানগড়হর দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।
পাকিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে আফগানিস্তানের ‘এ’ দলের সদস্যরূপে খেলেন। ফয়সালাবাদ ও রাওয়ালপিণ্ডি দলের পক্ষে ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে শাপিজা ক্রিকেট লীগে বন্দ-ই-আমির ড্রাগন্সের পক্ষে টি২০ ক্রিকেটে প্রথম খেলেন।
জুলাই, ২০১৮ সালে মিস আইনাক রিজিওনের পক্ষে গাজী আমানুল্লাহ খান রিজিওন্যাল ওয়ান-ডে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। পাঁচ খেলায় অংশ নিয়ে ২৫৮ রান তুলেন। এছাড়াও, দলটির পক্ষে সমসংখ্যক খেলায় অংশ নিয়ে আটটি উইকেট লাভের মাধ্যমে সর্বোচ্চ উইকেট লাভ করেন।
২০১৩ সাল থেকে আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ৬ মার্চ, ২০১৩ তারিখে শারজায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। এক সপ্তাহ পর আফগানিস্তানের পক্ষে একই দলের বিপক্ষে আবুধাবিতে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। ৪ জুন, ২০১৬ তারিখে স্কটল্যান্ড সফরে ওডিআইয়ে প্রথম শতক হাঁকান।
মে, ২০১৮ সালে আসগর আফগানের অধিনায়কত্বে আফগানিস্তানের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট খেলার জন্যে আফগানিস্তানের সদস্যরূপে ঠাঁই হয়। জুন, ২০১৮ সালে ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণকারী এগারোজন খেলোয়াড়ের অন্যতম। ১৪ জুন, ২০১৮ তারিখে বেঙ্গালুরুতে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৪ ও ৪ রান তুলতে সক্ষম হন। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ২৬২ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়।
এরপর, ২০১৮-১৯ মৌসুমে আসগর আফগানের অধিনায়কত্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলতে ভারত সফর করেন। ১৫ মার্চ, ২০১৯ তারিখে দেরাদুনে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে অপূর্ব খেলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৯৮ ও ৭৬ রানের ইনিংস খেলে তাঁর দলকে ৭ উইকেটের ব্যবধানে জয় এনে দেন। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
এপ্রিল, ২০১৯ সালে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) কর্তৃক আসগর আফগানের পরিবর্তে টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন। তবে, ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর রশীদ খানকে ক্রিকেটের সকল সংস্করণে অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়। এপ্রিল, ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে ঘিরে আফগানিস্তানের সদস্য হন। নয় খেলায় ২৫৪ রান তুলে ঐ প্রতিযোগিতায় দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হন। এছাড়াও, টেস্টের পূর্বেই অধিনায়কত্ব হাতছাড়া হয়। সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের একমাত্র টেস্টে শতরান করেন। ফলশ্রুতিতে, প্রথম আফগান হিসেবে টেস্টে শতক হাঁকানোর কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।
ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সালে সফরকারী আয়ারল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে হাশমতউল্লাহ শহীদি’র নেতৃত্বে থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে টলারেন্স ওভালে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে দুই দলের মধ্যকার সর্বনিম্ন ৭৪৭ রানের খেলায় তিনি ০ ও ৯ রান সংগ্রহ করে প্রতিপক্ষের ৬ উইকেটের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেন। ঐ টেস্টে অংশ নিয়ে আফগানিস্তানের পক্ষে সর্বাধিক ৯ টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। এরফলে, হাশমতউল্লাহ শহীদি’র আট টেস্টে অংশ নেয়ার রেকর্ডকে ম্লান করে দেন।
২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে হাশমতউল্লাহ শহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের অন্যতম সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৩৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ৪২৪ বল মোকাবেলায় তাঁর এ দ্বি-শতকটি প্রথম ছিল। এ পর্যায়ে ৪২.৭৪ গড়ে ৮১২ রান সংগ্রহ করেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। একই সফরের ২ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৯ ও ১৩৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রশীদ খানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৭২ রানে জয় তুলে নেয় ও ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। এ সিরিজে ৩৯২ রান তুলে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
