|

কাসিম উমর

৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭ তারিখে নাইরোবিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও মাঝারিসারিতে যে-কোন অবস্থানে খেলতে নামতেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সিন্ধু প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কাম্বারল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ২৬ টেস্ট ও ৩১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। মাত্র চার বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে টেস্টগুলো থেকে ৩৬.৬৩ গড়ে ১৫০২ রান তুলেন। তন্মধ্যে, দুইটি দ্বি-শতক, একটি শতক ও পাঁচ অর্ধ-শতক ছিল। এছাড়াও, ফিল্ডার হিসেবে যথেষ্ট ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি, ১৫টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন তিনি।

১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে জহির আব্বাসের নেতৃত্বে পাকিস্তানী দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে হায়দ্রাবাদের ডেকানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একই সফরে ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে জলন্ধরে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। শোয়েব মোহাম্মদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তেমন সুবিধে করতে পারেননি। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ওয়াসিম রাজা’র অনবদ্য ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। সাত ঘণ্টা বৃষ্টির কারণে খেলাটি বন্ধ ছিল ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।

১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ অক্টোবর, ১৯৮৪ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২১০ রান তুলেন। এ পর্যায়ে দ্বিতীয় উইকেটে মুদাসসর নজরের সাথে রেকর্ডসংখ্যক ২৫০ রানের জুটি গড়েন। এছাড়াও, তসলিম আরিফের সাথে ফয়সালাবাদে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ টেস্ট রানের রেকর্ডের সাথে যুক্ত হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। তবে, ৪ নভেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য করাচী টেস্টটি ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ডের কারণে বাতিল ঘোষিত হয়। এরপর, ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে একই মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০৬ রান করেন।

১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে জাভেদ মিয়াঁদাদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অল্পের জন্যে উভয় ইনিংসে শতক লাভ করা থেকে বঞ্চিত হন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৫৭ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রান সংগ্রহের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৯৬ ও ৮৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ওয়াসিম আকরামের প্রাণবন্তঃ বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ২ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২০ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৫ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দলনায়ক ইমরান খানের অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও ১-১ ব্যবধানে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। সবমিলিয়ে একদিনের আন্তর্জাতিকগুলো থেকে চারটি অর্ধ-শতক সহযোগে ৬৪২ রান করেন। তন্মধ্যে, ব্যক্তিগত সেরা করেন ৬৯ রান। তিনবার আন্তর্জাতিক ও পাঁচবার ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেছেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দূর্নীতির কথা প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে তিনি আরও কয়েকজন সন্দেহজনক শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়ের কথা জানিয়েছিলেন। তবে, ক্রিকেট প্রশাসন থেকে তাঁর অভিযোগের সত্যতা যাঁচাইয়ে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো তাঁর প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে।

Similar Posts

  • |

    ধীরাজ পারসানা

    ২ ডিসেম্বর, ১৯৪৭ তারিখে গুজরাতের রাজকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৪০ একর ভূমির মালিক, ধনী কৃষকের সন্তান ছিলেন। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান…

  • | |

    জ্যাক প্লিমসল

    ১১ অক্টোবর, ১৯১৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কল্ক বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে ১৯৪৯-৫০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ…

  • |

    পার্সি ফেন্ডার

    ২২ আগস্ট, ১৮৯২ তারিখে লন্ডনের বলহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘মসি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। অন্যতম সেরা অধিনায়কের মর্যাদা পেলেও কখনো ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাননি। সেন্ট পলস স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। মারকুটে…

  • |

    ডেনিস বেগবি

    ১২ ডিসেম্বর, ১৯১৪ তারিখে ট্রান্সভালের মিডেলবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক কিংবা লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দ্রুতলয়ে রান সংগ্রহে বেশ তৎপরতা দেখাতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম থেকে…

  • |

    ড্যান টেলর

    ৯ জানুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিং করতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৭-০৮ মৌসুম থেকে ১৯১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। সব মিলিয়ে মাত্র…

  • |

    ট্রাভিস হেড

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে থাকেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৯ মিটার) উচ্চতাসম্পন্ন। চমৎকার নেতৃত্বের গুণাবলীর অধিকারী। পরিচ্ছন্ন মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।…