১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৪ তারিখে ত্রিনিদাদের বেলমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ, প্রশাসক ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বামহাতি স্পিন বোলার ছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম চীনা বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারের মর্যাদা পেয়ে আসছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৩০.২৩ গড়ে ১১০ উইকেট দখল করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ৩০.২৩ গড়ে ১১০ উইকেট পেয়েছেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে ত্রিনিদাদের সদস্যরূপে ব্রিটিশ গায়ানার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৭/৭৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।
১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোর সবকয়টিই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ৪৭.২৫ গড়ে আট উইকেট লাভ করেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রেডি ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। মারভিন গ্রেল ও নেলসন বেটানকোর্টের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৬৪ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, উভয় ইনিংসে বিল ভোসের বলে শূন্য রানের বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ১৬৭ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৩৩ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে মনোনীত হন। তবে, তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সীমিত পর্যায়ের সফলতা পেয়েছিলেন। ঐ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলোয় অংশ নিয়ে ৭১ উইকেট দখল করেন। সাধারণতঃ অর্থোডক্স ধীরগতিসম্পন্ন বামহাতি বোলার ছিলেন। ম্যানচেস্টারে রিস্ট স্পিনারের ভঙ্গীমায় ওয়াল্টার রবিন্সকে স্ট্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে বিদেয় করেন। রিচি বেনো চায়নাম্যান পরিভাষার উৎপত্তি সম্বন্ধে জানান যে, ওয়াল্টার রবিন্স প্যাভিলিয়নে ফেরার পথে আম্পায়ার জো হার্ডস্টাফ সিনিয়রকে বলেছিলেন বাঁধার প্রাচীর চায়নাম্যান ডিঙ্গিয়েছেন।
ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে অফের দিক থেকে বেঁকে পিচে বল পড়ে। এ ধরনের ডেলিভারির কারণে ইংল্যান্ডে চায়নাম্যান শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে নিজ দেশে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/২৭ ও ১/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ২১৭ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় ফেরে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৩৫ সালের পর থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে অংশ নেন। রোচডেলের পক্ষে খেলেছেন। লীগে ১৭ বছর খেলে সহস্রাধিক উইকেট পেয়েছিলেন। এরপর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ফিরে ত্রিনিদাদে বসবাস করতে থাকেন।
ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায় পারদর্শী ছিলেন। স্থানীয় লীগে ম্যাপল দলে লেফট-উইঙ্গার অবস্থানে খেলতেন। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে পোর্ট অব স্পেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার একটি টেস্টে আম্পায়ার হিসেবে খেলা পরিচালনা করেন। জীবনের শেষদিকে ত্রিনিদাদ ও টোবোগোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ক্রীড়া কোচের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ক্রিকেটে দলের কোচ ও দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
৩০ আগস্ট, ১৯৮৬ তারিখে ত্রিনিদাদের সেন্ট অগাস্টিন এলাকায় ৮২ বছর ১৯৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
