| |

প্রসপার উতসেয়া

২৬ মার্চ, ১৯৮৫ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

অফ-স্পিন বোলিং করতেন। সর্বদাই মিতব্যয়ী ধারালোমানের বোলিং সহযোগে অগ্রসর হতেন। হারারের শহরতলী এলাকা হাইফিল্ডের চিপেম্বেরে প্রাইমারি স্কুলে অধ্যয়নকালীন প্রথমবারের মতো ক্রিকেট খেলার সাথে জড়িত হন। জেডসিইউ বৃত্তি নিয়ে চার্চিল হাই স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ পান। বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান।

২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ইস্টার্নস, ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’, ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস ও মাউন্টেনিয়ার্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৫ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’ দলের সদস্যরূপে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন।

২০০৪ থেকে ২০১৫ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট, ১৬৪টি ওডিআই ও ৩৫টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৪ সালে ১৯ বছর বয়সে অপ্রত্যাশিতভাবে জিম্বাবুয়ে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। বিদ্রোহী খেলোয়াড়দের দল থেকে বাদ দেয়ার ফলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান। ২০ এপ্রিল, ২০০৪ তারিখে বুলাওয়েতে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

এরপর, একই সফরের ৬ মে, ২০০৪ তারিখে হারারেতে সিরিজের প্রথম টেস্টে অ্যালিস্টার মারেগেদে, ব্রেন্ডন টেলর, এল্টন চিগুম্বুরা ও তিনাশি প্যানিয়াঙ্গারা’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ইনিংস ও ২৪০ রানের ব্যবধানে শ্রীলঙ্কা দল জয়লাভ করে। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। ৪৫ ও ২৪ রান সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করলেও ৫৫ রান খরচায় কোন উইকেটের সন্ধান পাননি।

দূর্বল হয়ে পড়া জাতীয় দলে নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে স্থান করে নেন। অনেকটা বিস্ময়করভাবে ২০০৬ সালে টেরি ডাফিনের পরিবর্তে দলের অধিনায়কের স্থান দখল করেন।

সময়ের সাথে সাথে বল হাতে নেন। কিন্তু, মে, ২০০৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অভিজ্ঞতার অভাবে শূন্যে ভাসানো স্পিন বলগুলোর কার্যকারিতা প্রকাশ পায়নি। পরের বছরগুলোয়ও জিম্বাবুয়ের সদস্যরূপে তেমন কোন সুখকর মুহূর্তের সাথে নিজেকে যুক্ত করতে পারেননি। মে, ২০১০ সালে বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় দলের ব্যর্থতার পর ভবিষ্যতের উন্নয়নের কথা ভেবে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে নিজের উন্নয়নের দিকে অধিক মনোনিবেশ ঘটানোর সুযোগ পান। রে প্রাইসের সাথে কার্যকর স্পিন বোলিং জুটি গড়েন। এ জুটি পরিবেশের সাথে মানানসই অবস্থায় বেশ কার্যকর ছিল; এমনকি বোলিং উদ্বোধনেও তাঁরা একত্রে নামতেন।

২০১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দলের মুখোমুখি হন। ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। স্বাগতিক দল বিস্ময়করভাবে ২৪ রানে জয় পায়। সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। ২২ ও ৫ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪১ ও ২/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

মূলতঃ সীমিত-ওভারের উপযোগী করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। কৃপণতাপূর্ণ বোলিংয়ের সাথে বিস্ময়কর ফিল্ডিং এবং ব্যাটিংয়ে পারদর্শীতার কারণে জিম্বাবুয়ের ওডিআই দলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থান পেতেন। এক পর্যায়ে দলের জ্যেষ্ঠ সদস্যের মর্যাদা পান। দ্বিতীয় জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটার হিসেবে ওডিআইয়ে হ্যাট্রিক লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। আগস্ট, ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঐ খেলায় ৫/৩৬ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। একই সিরিজে জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটকে কল্পলোকে পৌঁছে দেন। মিচেল স্টার্কের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ৩১ বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওডিআইয়ে দলের বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন।

এর পরপরই খেলোয়াড়ী জীবনে হুমকি নেমে আসে। বোলিং ভঙ্গীমায় সন্দেহের সৃষ্টি হয় ও অফ-স্পিন বোলিং করা থেকে বিরত থাকলে জিম্বাবুয়ের সর্বাপেক্ষা বিশ্বস্ত ওডিআই বোলার হিসেবে প্রতিবন্ধকতার কবলে পড়েন। বোলিং ভঙ্গীমায় পরিবর্তন আনেন। বাঁকানো হাড়ের কারণে নিজেকে স্লো-মিডিয়াম কাটার বোলাররূপে নিজেকে পুণরায় হাজির করেন।

Similar Posts

  • |

    চাদ ল্যাংটন

    ২ মার্চ, ১৯১২ তারিখে নাটালের পিটারমারিৎজবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে চমৎকার মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিখুঁত…

  • |

    ন্যাট থমসন

    ২৯ মে, ১৮৩৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সারে হিলস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৮৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষাবলম্বন করেছেন। ১১…

  • | |

    দিনেশ চণ্ডীমল

    ১৮ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে বালাপিটিয়ায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হবার পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ তিনি। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়াও, শ্রীলঙ্কা দলের নেতৃত্বে ছিলেন। আম্বালাঙ্গোদাভিত্তিক ধর্মসকা কলেজে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেট খেলা শিখতে শুরু করেন। বিদ্যালয় জীবনে ধারাবাহিকভাবে রান সংগ্রহে তৎপরতা দেখান।…

  • |

    ইয়ান চ্যাটফিল্ড

    ৩ জুলাই, ১৯৫০ তারিখে মানাওয়াতোর ডানভির্কে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সজীব বোলিং করতেন। তবে, তাঁকে সর্বদাই স্যার রিচার্ড হ্যাডলি’র সাফল্যে ম্লান হয়ে থাকতে হতো। তাসত্ত্বেও, উভয়ে নিউজিল্যান্ডের উত্তরণে বিরাট ভূমিকা রাখতেন। নিখুঁতমানের বোলিং করে ১৯৮০-এর দশকে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী…

  • |

    রবার্ট ভ্যান্স

    ৩১ মার্চ, ১৯৫৫ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৯০-৯১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ওয়েলিংটন দলে এক দশকের অধিক সময় তারকা…

  • | |

    তৌসিফ আহমেদ

    ১০ মে, ১৯৫৮ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। দলীয় সঙ্গী আব্দুল কাদির ও ইকবাল কাশিমের সাফল্যে প্রায়শঃই তাঁর সফলতা ম্লান হয়ে পড়তো। তবে, তিনি দক্ষতা ও বিপক্ষণতা সহকারে অফ-স্পিন…