৩ জুন, ১৯৪০ তারিখে বার্বাডোসের গার্ডেন গ্যাপ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।
১৯৬৮ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২৮ বছর বয়সে চার্লি ডেভিস ও রয় ফ্রেডরিক্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ওয়েস হল ও চার্লি গ্রিফিথের ছত্রচ্ছায়ায় খেললেও ছন্দহীনতার কবলে পড়েন। অস্ট্রেলীয় উইকেটে হিমশিম খান। খেলায় তিনি ৯* ও ২১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ৩০ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনতে সমর্থ হয়। দুই টেস্ট থেকে ২৭৪ রান খরচায় মাত্র তিন উইকেট দখল করেছিলেন। দূর্বলমানের ফিল্ডিংও এতে বিরূপ প্রভাব ফেলে।
একই মৌসুমে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। অবশ্য, নিউজিল্যান্ড সফরে বেশ ভালো খেলেন। প্রথম টেস্টে ১২৯ রান খরচায় ৬ উইকেট পান। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে বিআর টেলরকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/১৩৯। খেলায় তিনি ৩/৫৮ ও ৩/৭১ লাভ করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
দ্বিতীয় টেস্টে ১২৬ রান খরচায় ৭ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে ৫/৮৪ লাভ করেছিলেন।
একই সফরের ১৩ মার্চ, ১৯৬৯ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৩০ ও ০/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ব্রায়ান ইলের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে ১-১ ব্যবধানে সিরিজের সমাপ্তি ঘটে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুণর্গঠনে অগ্রসর হলেও পরবর্তীতে ছিটকে পড়েন। তবে, বার্বাডোসের ক্রিকেটে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। সব মিলিয়ে টেস্টগুলো থেকে ১৫ উইকেটের সন্ধান পান। এছাড়াও, ৩৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ৩৬.২৯ গড়ে ৭৮ উইকেট দখল করেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর বার্বাডোসভিত্তিক কেনসিংটন ওভালের মাঠ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, বিশ্লেষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ওয়ান্ডারার্সের ডেরেলস রোডের নর্থ এন্ডের নাম পরিবর্তন করে স্টিফেন ফারমার এন্ড এবং সাউথ এন্ডের নাম রিচার্ড প্রফ এডওয়ার্ডস এন্ড রাখা হয়। চার দশের অধিক সময় ওয়ান্ডারার্সের পক্ষে ছয়বার শিরোপা বিজয়ের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন।
