৩০ জুন, ১৯৪১ তারিখে নাটালের পিটারমারিৎজবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৬০-এর দশকে শক্তিধর দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অন্যতম প্রতিভাবান খেলোয়াড় ছিলেন। বাড়ীর পিছনের মাঠে স্বীয় ভ্রাতার সাথে খেলতেন। ‘পুচ’ ডাকনামে ভূষিত পিটার পোলক ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। গ্রে হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৭১-৭২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৬১ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ২৮ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ২৪.১৮ গড়ে ১১৬ উইকেট দখল করেছিলেন।
১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিজ দেশে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২০ বছর বয়সে ৮ ডিসেম্বর, ১৯৬১ তারিখে ডারবানে সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। এডি বার্লো, গুফি লরেন্স, হ্যারি ব্রোমফিল্ড, কেনেথ ওয়াল্টার, কলিন ব্ল্যান্ড ও কিম এলজি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অসাধারণ খেলেন ও ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৩/৬১ লাভ করেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৭ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ধাবিত সফরকারী দলের বিপক্ষে রুখে দাঁড়ান। ব্যক্তিগত সেরা ৬/৩৮ নিয়ে প্রতিপক্ষকে ১৬৬ রানে গুটিয়ে ফেলতে যথোচিত ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সেরা বোলিং বিশ্লেষণে পরিণত হয়। ৯৯ রান খরচায় ৯ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকানদের মধ্যে অভিষেকে সেরা বোলিং গড়েন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১৫ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারী দল ৩০ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৬১ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন ১৫ রান অতিক্রম করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৭ ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৪৯ ও ২/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ৬ উইকেট লাভের পাশাপাশি ব্যাট হাতে নিয়েও যথেষ্ট সফল হন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৪ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ধাবিত দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সংগ্রহ ১৯৩/৭ থাকাকালে মাঠে নামেন। ১০ বাউন্ডারি সহযোগে ৫৪ রান তুললেও স্বাগতিক দল ৪০ রানে পরাজয়ের কবলে পড়ে। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৭ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৫৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/৬৩ ও ৩/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলা শেষ হবার মাত্র ২১ মিনিট পূর্বে সফরকারীরা জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৬/৯৫ ও ০/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে জেটি স্পার্লিংয়ের দ্বিতীয় উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৬/৪৭ ও ২/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তন্মধ্যে, শেষ চার উইকেট ১৮ বলের ব্যবধানে ১০ রান খরচ করে পেয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকান যে-কোন বোলারের সেরা সাফল্য ছিল। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬৫ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর পিটার ফন ডার মারউই’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুলাই, ১৯৬৫ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৪ ও ১৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯১ ও ২/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রেখে দলের সিরিজ বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন।
১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে নিজ দেশে ববি সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪১ ও ৭৫* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর ব্যক্তিগত সেরা ইনিংসে পরিণত হয়। এছাড়াও, ২/৮৪ ও ১/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখে জোহানেসবার্গের নিউ ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/২১ ও ১/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে আইআর রেডপাথের প্রথম উইকেট লাভ করে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২/৫৭ ও ২/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ রান সংগ্রহ করেন। ৭ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে।
১৯৬৯-৭০ মৌসুমে নিজ দেশে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৫ মার্চ, ১৯৭০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ৩/৪৬ ও ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪* ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩২৩ রানে জয় পেলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ব্যাট হাতে নিয়ে ২১.৬৭ গড়ে ৬০৭ রান তুলেন। ১৯৭২ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকা দল সাজাতে দল নির্বাচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তাঁর সন্তান এসএম পোলক দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছে।
