পিটার মুর

২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯১ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড – উভয় দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

হারারের ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারের সন্তান। কাকা, পিতা ও ভ্রাতা – প্রত্যেকেই ক্রিকেটের সাথে জড়িত ছিলেন। পিতা ও দুই ভ্রাতা প্রাদেশিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে কাকা জিম্বাবুয়ে কাউন্টি ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষাবলম্বন করেছেন।

যদি ক্রিকেটার না হতেন তাহলে কোচ কিংবা সাংবাদিকতা পেশার দিকে ঝুঁকে পড়তেন। স্টিভ ওয়াহকে পছন্দের খেলোয়াড়দের তালিকায় সর্বাগ্রে ঠাঁই দিয়েছেন। তবে, বীরেন্দ্র শেহবাগের সাথে তাঁকে তুলনা করে থাকেন।

পাঁচ বছর বয়স থেকে ক্রিকেটের সাথে নিজেকেও জড়িত রেখেছেন। মর্যাদাসম্পন্ন সেন্ট জোন্স কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়টির পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ২১৪ রান সংগ্রহ করে রেকর্ড ধারন করে আছেন। তরুণ অবস্থাতেই উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। বয়সভিত্তিক খেলায় অংশ নেন। ১৬ বছর বয়সে জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ২০০৮ সালে মালয়েশিয়া ও ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

২০১০-১১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস, মিড ওয়েস্ট রাইনোস ও নর্দার্নস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব, মানস্টার রেডস ও মাজভেজে টাইগার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১০ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত মাউন্টেনিয়ার্স বনাম ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০১২-১৩ মৌসুমে ঘরোয়া বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্রিকেটে নিয়মিত ও পেশাদার খেলোয়াড় অংশ নিতে বেশ বেগ পেতে হয়। অতঃপর, ২০১৩-১৪ মৌসুমে গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারের পরামর্শে ও প্রশিক্ষণে খেলায় ছন্দ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, টাটেন্ডা তাইবু ও ব্রেন্ডন টেলরের পর জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের শূন্যতা পূরণে পিটার মুর এগিয়ে আসেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মিডল্যান্ডস রাইনোসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখায় জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

২০১৪ সাল থেকে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। শুরুতে জিম্বাবুয়ের পক্ষে খেলেন। নভেম্বর, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ গমন করেন। ২৬ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেন। আগ্রাসী ভূমিকায় স্ট্রোক খেলার কারণে দীর্ঘ সংস্করণে খেলায় সফলতা পাননি। দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে দুই বছর দলের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। সকল বাঁধা কাটিয়ে ২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। টেস্ট দলে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও আরও অনেক অবস্থানে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ওডিআই দলে নিয়মিত খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান।

টেস্ট দলে ফিরে এসে ২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড দলের মুখোমুখি হন। ৬ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ৭১ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস উপহার দেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ২৫৪ রানে পরাজয়বরণ করে। জুলাই, ২০১৭ সালে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন।

তরুণ অবস্থাতেই ইংরেজ ও আইরিশ ক্লাব ক্রিকেটের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। তবে, নিজ দেশের পক্ষে খেলার জন্যে সর্বদাই উন্মুখ হয়ে থাকতেন। ফলে, বিদেশের মাটিতে কখনো আঁকড়ে থাকতে চাননি। কয়েক বছর যুক্তরাজ্যে ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ওয়েব্রিজ সিসি’র পক্ষে ১৩ খেলায় অংশ নিয়ে ৩৯.১১ গড়ে ৩৫২ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও, আয়ারল্যান্ডে ওয়াইএমসিএ এন্ড সিআইওয়াইএমএসের পক্ষে তরুণ অবস্থায় খেলেছিলেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে ধারাবাহিক ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। এছাড়াও, জাতীয় দলের সম্ভাব্য নেতৃত্বের দাবীদার ছিলেন। ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সালে জিম্বাবুয়ের সহঃঅধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

২০১৮ সাল পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের পক্ষে আট টেস্ট খেলেন। এক পর্যায়ে আয়ারল্যান্ডে অভিবাসিত হন। ২০২২-২৩ মৌসুমে অ্যান্ডি বালবির্নি’র অধিনায়কত্বে সিরিজের একমাত্র টেস্ট খেলতে দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ৪ এপ্রিল, ২০২৩ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে বেন হোয়াইট, কার্টিস ক্যাম্ফার, গ্রাহাম হিউম, হ্যারি টেক্টর, লরকান টাকার ও মারে কামিন্সের সাথে আয়ারল্যান্ডের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ১৬ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করেছিল।

২০২৩-২৪ মৌসুমে অ্যান্ডি বালবির্নি’র নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ১২ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মার্ক অ্যাডেইরের দূর্দান্ত বোলিংয়ের কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ৬ উইকেটে জয় পায়। ২০২৪-২৫ মৌসুমে অ্যান্ডি বালবির্নি’র নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৩০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়ানৈপুণ্যে সফরকারীরা ৬৩ রানে বিজয়ী হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *