১১ জুলাই, ১৮৬৯ তারিখে ভিক্টোরিয়ার উইলিয়ামসটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯০০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। ইস্ট মেলবোর্ন ও হথর্নে পক্ষে ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ১৯১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শেফিল্ড শীল্ডে ৩২ গড়ে ২৩৯৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ২২৪ রান তুলেন।
১৯০৪ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সব মিলিয়ে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯০৩-০৪ মৌসুমের শেষদিকে নিজ দেশে পেলহাম ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। টিবি কটারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ১ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৫৭ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯০৯ সালে মন্টি নোবেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১২৬ রানে জয়লাভ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অংশগ্রহণকৃত টেস্ট থেকে তেমন কিছুই সাড়া জাগাতে পারেননি। ক্লাব ক্রিকেটে অসাধারণ খেলতেন ও ৫২ বছর বয়স অবধি খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। ক্রিকেটের উন্নয়নে অসম্ভব ভূমিকা রাখেন।
কিছু সময় অস্ট্রেলিয়ান কন্ট্রোল বোর্ডের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। ১৯০৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেছিলেন। এ সফরে নিজেকে দলের সহঃঅধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করেন। দলে তেমন জনপ্রিয় ছিলেন না ও বিতর্কের সৃষ্টি করেন। ক্লেম হিলসহ দলের অনেকের সাথেই মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েন। কার্যতঃ বোর্ডের পক্ষ থেকে তাঁকে গোয়েন্দাগিরি করার জন্যেই যে দলে রাখা হয়েছিল তাতে খেলোয়াড়দের মনে বিস্ময় সৃষ্টি করেনি। ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ তারিখে চতুর্থ টেস্ট শেষে অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক ও কিংবদন্তীতুল্য ব্যাটসম্যান ক্লেম হিলের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন।
২৯ বছর রাজ্য দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এছাড়াও, ২৮ বছর ভিসিএ’র নির্বাহী সদস্য ছিলেন। ১০ মে, ১৯৩৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার রিচমন্ড এলাকায় ৬৮ বছর ৩০৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
