|

পিটার হেইন

২৮ জুন, ১৯২৮ তারিখে নাটালের উইন্টারটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতা ও শক্ত-মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নর্থ ইস্টার্ন ট্রান্সভাল, অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৩ সময়কালে নর্থ ইস্ট ট্রান্সভালের পক্ষে খেলেন। ১৯৫৪ সালে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের পক্ষে খেলে প্রথমবারের মতো সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন। সফররত নিউজিল্যান্ডীয় একাদশের বিপক্ষে ৭/২৯ পান। তবে তাঁকে টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়নি। এর পরিবর্তে, পরের বছর ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নিচেরসারির মারকুটে ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে হিউ টেফিল্ডের বল থেকে একবার ১৮০ গজ দূরে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন।

১৯৫৫ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৫ সালে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৩ জুন, ১৯৫৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম দিনে টম গ্রেভনি, পিটার মে, ডেনিস কম্পটন, কেন ব্যারিংটনগডফ্রে ইভান্সকে বিদেয় করে ৫/৬০ লাভ করেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের নতুন অধিনায়ক পিটার মে’কে দ্বিতীয় ইনিংসে শতক হাঁকানোর পর বিদেয় করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল দ্বিতীয় পরাজয়ের কবলে পড়ে। ৭১ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্ট ভিন্ন গল্পে পরিণত হয়। আরও একবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। নীল অ্যাডকককে সাথে নিয়ে ১৪ উইকেট কব্জা করলে ১৯০২ সালের পর ইংল্যান্ড দল নিজ মাঠে প্রথমবারের মতো পরাজিত হয়। এরপর, লিডসে ৪/৭০ নিয়ে দলের আরও একটি জয়ে অংশ নেন। তবে, ওভালে বেশ ম্রিয়মান ছিলেন। সারের স্পিনারদ্বয় – জিম লেকার ও টনি লক নিজেদের মধ্যে ১৫ উইকেট ভাগাভাগি করে নেন। ঐ সিরিজে নিজের প্রথম চার টেস্ট থেকে ২৩.৫২ গড়ে ২১ উইকেট দখল করেছিলেন। নীল অ্যাডকক থেমে গেলে বোলিংয়ের অতিরিক্ত দায়ভার তাঁর কাঁধে চলে আসে। ২০ গড়ে ৭৪ উইকেটের সন্ধান পান। নিজেকে বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে অন্যতম বড় ধরনের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি ঘটান।

১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৬ তারিখে ওয়ান্ডারার্সে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩* ও ১৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৮৯ ও ৩/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৩১ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে নিজ দেশে ইয়ান ক্রেগের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে খেলেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে আই মেকিফকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৬০। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৬/৫৮ ও ০/১৭ লাভ করেন। এছাড়াও, ৭ ও ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। ১৯ গড়ে ১৭ উইকেট পান। টেস্ট অভিষেকের তিন বছর শেষ হবার পূর্বেই হঠাৎ আলোর ঝলকানীর ন্যায় মিইয়ে যান। চার বছর পর আবারও দলে ফিরে আসেন। একটি টেস্ট খেলার পর দল থেকে বাদ পড়েন।

১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিজ দেশে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০/৪৫ ও ২/৭৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ৫১ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

তবে, ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে এমসিসি দল খেলতে আসলে ট্রান্সভালের পক্ষে খেলেন। প্রায় তিন বছর পর এটিই তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম খেলায় অংশগ্রহণ ছিল। তিনি ৫/১১০ লাভ করেছিলেন।

নীল অ্যাডককের সাথে স্মরণীয় বোলিং জুটি গড়েন। দূরন্ত গতিপণায় বোলিং আক্রমণ কার্য পরিচালনা করেছেন। পিটার মে ও কলিন কাউড্রে তাঁদের জুটিকে রে লিন্ডওয়ালকিথ মিলারের চেয়ে এগিয়ে রেখেছেন। অপরদিকে, টম গ্রেভনি তাঁদেরকে বিপজ্জ্বনকরূপে আখ্যায়িত করেছেন। ১৯৬৫ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ পর্যায়ে ২১.৩৮ গড়ে ২৭৭ উইকেট পেয়েছিলেন।

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ তারিখে জোহানেসবার্গে ৭৬ বছর ২২১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | |

    গ্যারি ব্যালেন্স

    ২২ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হন। পাশাপাশি, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ইংল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে – উভয় দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘গাজ্জা’ ডাকনামে পরিচিত গ্যারি ব্যালেন্স জিম্বাবুয়ের ম্যারোন্ডেরাভিত্তিক পিটারহাউজে অধ্যয়নের পর হ্যারো স্কুলে পড়াশুনো করেন। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট…

  • | |

    কেন মিউলম্যান

    ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯২৩ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ইনিংস উদ্বোধনের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ১৯৪০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব…

  • | |

    হনুমন্ত সিং

    ২৯ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজস্থানের বাঁসারা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতের আরও একজন রাজপুত্র হিসেবে ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দিলীপ সিংয়ের ভ্রাতুষ্পুত্র ও ইন্দ্রজিৎসিংজী’র কাকাতো ভাই ছিলেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম…

  • |

    আজম খান

    ১ মার্চ, ১৯৬৯ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান কাস্টমস, পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশন ও পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৬…

  • | | |

    কিথ অ্যান্ড্রু

    ১৫ ডিসেম্বর, ১৯২৯ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ওল্ডহামের গ্রীনাক্রেস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়েও দক্ষ ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরব্যাপী প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের…

  • |

    সিলভেস্টার ক্লার্ক

    ১১ ডিসেম্বর, ১৯৫৪ তারিখে বার্বাডোসের লিড ভেল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘সিলভার্স’ ডাকনামে ভূষিত সিলভেস্টার ক্লার্ক ৬ ফুট ২ ইঞ্চি দীর্ঘ উচ্চতাসহ শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। সেন্ট বাথোলমিউজ বয়েজ স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন।…