|

পিটার জর্জ

১৬ অক্টোবর, ১৯৮৬ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার উডভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশ ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ২০১০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

২.০৩ মিটার উচ্চতার অধিকারী তিনি। বেশ লম্বাটে, লিকলিকে ও নিখুঁত মানসম্পন্ন বোলারের পরিচিতি পেয়েছেন। উচ্চতার দিক দিয়ে দর্শকদের অনেকের কাছেই তিনি বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় তারকা ক্রিকেটার গ্লেন ম্যাকগ্রা’র সাথে তুলনীয় হয়েছেন। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ড ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

৩ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে হোবার্টে সাউথ অস্ট্রেলিয়া বনাম তাসমানিয়ার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। অভিষেক খেলায় সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৪/৫৬ পান। এক পর্যায়ে তিন ওভারের মধ্যে টিম পেইন, লুক বাটারওয়ার্থ ও ব্রেট গিভসের উইকেট পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও এর পুণরাবৃত্তি ঘটান। উভয় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে বিদেয় করেন।

২০০৯-১০ মৌসুমে বেশ সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। এ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় সফররত অনেকগুলো দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন। রেডব্যাকসের (সাউথ অস্ট্রেলিয়া) পক্ষে শেফিল্ড শীল্ডে ৩০ গড়ে ৩৬ উইকেট দখল করেছিলেন। ঐ মৌসুমে টাইগার্সের (তাসমানিয়া) ত্রাসে পরিণত হন। ৮/৮৪ নিয়ে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং করেন। দূর্দান্ত খেলে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ভারত গমনার্থে দলে জায়গা করে নেন। অভিজ্ঞতা লাভ মূলতঃ দ্বিতীয়সারির ছিল। তবে, ব্যাগি গ্রীন ক্যাপ লাভের জন্যে তাঁকে খুব বেশী অপেক্ষা করতে হয়নি।

২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তানে বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে টেস্ট দলে যুক্ত করা হয়। রায়ান হারিসের হাঁটুর আঘাতের কারণেই মূলতঃ এ সুযোগ পান। তবে, দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের কোনটিতেই তাঁকে খেলানো হয়নি।

২০১০-১১ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ভারতের বিপক্ষে সিরিজটি বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। ৯ অক্টোবর, ২০১০ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খুব দ্রুত উপলদ্ধি করেন যে, বেলেরিভের চারদিনের খেলার ন্যায় টেস্ট ক্রিকেট ততোটা সহজ নয়। শচীন তেন্ডুলকরের আগ্রাসী ব্যাটিং লক্ষ্য করতে থাকেন। তাঁকে বোল্ড করলেও ততোক্ষণে তিনি ৩৬৩ বল মোকাবেলায় ২১৪ রানের ইনিংস খেলে ফেলেছেন। এরপর, জহির খানকে বিদেয় করেন। ২১ ওভারে ২/৪৮ লাভ করলেও সফরকারীরা ৪৯৫ রান সংগ্রহ করে। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, খেলায় তিনি ২ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। শচীন তেন্ডুলকরের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

দূর্ভাগ্যবশতঃ জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি লাভে প্রাপ্য অর্জনের পুণরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি। আঘাত তাঁর উত্তরণে বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

Similar Posts

  • | |

    সায়মন ডৌল

    ৬ আগস্ট, ১৯৬৯ তারিখে অকল্যান্ডের পুককো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ডানহাতে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রেখে পেস বোলিং কর্মে অগ্রসর হয়েছিলেন। এছাড়াও, সোজাসাপ্টা ভঙ্গীমায় উভয় দিক দিয়েই কার্যকর সুইং আনতে…

  • | |

    চামিণ্ডা ভাস

    ২৭ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে মাত্তুমাগালা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের স্বর্ণযুগে অন্যতম সেরা ক্রিকেট তারকা ছিলেন। সন্দেহাতীতভাবে নতুন বল নিয়ে বিশ্বসেরা বোলারদের অন্যতম ছিলেন। খুব সহজেই শ্রীলঙ্কার নতুন…

  • |

    তাফাদজা কামুঙ্গোজি

    ৮ জুন, ১৯৮৭ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে সবিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। হারারের প্রতিশ্রুতিশীল লেগ-স্পিনার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। হাইফিল্ডের শহরতলী চেঙ্গু প্রাইমারি স্কুলে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। শুরুতে সিম বোলার হিসেবে খেলতেন। তবে, হাইফিল্ড হাই…

  • |

    মার্ক ভার্মুলেন

    ২ মার্চ, ১৯৭৯ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। হারারেভিত্তিক প্রিন্স এডওয়ার্ড হাইয়ে অধ্যয়ন করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। কিন্তু, ২০ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ভিবি সিরিজে ভারতীয় বোলার ইরফান পাঠানের বল মাথায় আঘাত…

  • |

    জন ম্যাকলারিন

    ২২ ডিসেম্বর, ১৮৮৬ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের টুয়ুং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯০৬-০৭ মৌসুম থেকে ১৯১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র…

  • |

    সেলিম ইউসুফ

    ৭ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে অ্যালাইড ব্যাংক, পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, পাকিস্তান কাস্টমস ও সিন্ধুর…