|

পার্সি ফেন্ডার

২২ আগস্ট, ১৮৯২ তারিখে লন্ডনের বলহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘মসি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। অন্যতম সেরা অধিনায়কের মর্যাদা পেলেও কখনো ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাননি। সেন্ট পলস স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। মারকুটে ভঙ্গীমায় ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সারে ও সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১০ থেকে ১৯৩৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

বেশ কয়েকটি স্মরণীয় অর্জনের সাথে নিজের নামকে জড়িয়ে রেখেছেন। তন্মধ্যে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দ্রুততম শতক হাঁকানোর ন্যায় বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী তিনি। ১৯২০ সালে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে ৩৫ মিনিটে তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেছিলেন। ঐ ইনিংসে ১১৩ রান তুলে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন। ১৬টি চার ও ৫টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে অ্যালান পিচের সাথে ৪২ মিনিটে ১৭১ রানের নিরবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন।

ব্যাটিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। দলের চতুর্থ কিংবা পঞ্চম বোলার হিসেবে ব্যবহৃত হতেন। ১৯২০-এর দশকে সারের দূর্বল বোলিং আক্রমণে অংশ নিয়ে বেশ দীর্ঘ সময় ধরে অংশ নিতেন। ১৯২৭ সালে মিডলসেক্সের বিপক্ষে এক পর্যায়ে স্মরণীয় বোলিং করেন। ১.৫-০-১-৬। ঐ ইনিংসে তিনি ৭/১০ লাভ করেন। উইকেটগুলোর মধ্যে প্যাটসি হেনড্রেন ও ফ্রাঙ্ক মানের উইকেট ছিল। এছাড়াও, দুইটি হ্যাট্রিকের সাথে নিজেকে জড়ান। ওভালে ১৯১৪ সালে সমারসেট ও ১৯২৪ সালে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে এ সফলতা পান। ১৫৮৬ উইকেট নিয়ে টম রিচার্ডসন (১৭১৫) ও টনি লকের (১৭১৩) পর অবস্থান করেন। এছাড়াও, সাসেক্স দলে খেলেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে তিনি তাঁর স্বর্ণালী সময় ফেলে আসেন। ২৬.৬৫ গড়ে ১৯০৩৪ রান ও ২৫.০৫ গড়ে ১৮৯৪ উইকেট দখল করেন।

১৯২১ থেকে ১৯২৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২০-২১ মৌসুমে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এ সফরেই সফরকারী ইংরেজ দল তাদের ইতিহাসের প্রথম ৫-০ ব্যবধানের ন্যায় ধবল ধোলাইয়ের শিকারে পরিণত হয়। ১৪ জানুয়ারি, ১৯২১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৫২ ও ১/১০৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ ও ৪২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১১৯ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/১২২ ও ০/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩ ও ৫৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় স্বাগতিক দল ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের নোঙ্গরে পৌঁছে ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯২২-২৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ফ্রাঙ্ক মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯২২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৯ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৭ ও ০/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১৬৮ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯২৯ সালে নিজ দেশে নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৫ জুন, ১৯২৯ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৪ ও ১/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টে তিনি সাধারণমানের খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। টেস্টগুলোয় অংশ নিয়ে দুইটি অর্ধ-শতক সহযোগে ৩৮০ রান ও দুইবার পাঁচ-উইকেট লাভসহ ৪০.৮৬ গড়ে ২৯ উইকেট দখল করেছিলেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। গোলরক্ষক হিসেবে অংশ নিতেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৯২৩ সালে মন্টে কার্লোয় ম্যানচেস্টারের স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কন্যা রুদ ক্ল্যাপহামের সাথে পরিচিত হন। সেপ্টেম্বর, ১৯২৪ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির দুই সন্তান ছিল। ১৯২৭ সালে রুদ ক্ল্যাপহামের মৃত্যু হলে ১৯৬২ সালে সুজান গর্ডনের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ১৯৬৭ সালে সুজানের মৃত্যু হয়।

১৯১৫ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৭৭ সালে এমসিজিতে শতবার্ষিকী টেস্টে সাবেক টেস্ট ক্রিকেটারদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন। শেষের দিনগুলোয় অন্ধত্বের কবলে পড়েন। ১৪ জুলাই, ১৯৮৩ তারিখে জ্যাক ম্যাকব্রায়ানের দেহাবসান হলে বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ১৫ জুন, ১৯৮৫ তারিখে ডেভনের এক্সটার এলাকায় ৯২ বছর ২৯৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যু সংবাদে উইজডেনে উল্লেখ করা হয় যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে নিয়মিত কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী সর্বশেষ জীবিত ক্রিকেটার ছিলেন।

Similar Posts

  • | |

    ডগ রাইট

    ২১ আগস্ট, ১৯১৪ তারিখে কেন্টের সিডকাপ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩১ সাল থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত মাইনর কাউন্টিজ চ্যাম্পিয়নশীপে কেন্ট দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন।…

  • |

    জিমি ব্লাঙ্কেনবার্গ

    ৩১ ডিসেম্বর, ১৮৯৩ তারিখে কেপ প্রভিন্সের ক্লেয়ারমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন খেলা উপহারের দিকে সবিশেষ নজর রাখতেন। অবিরাম বোলিং করতে পারতেন। ম্যাটিং উইকেটে বেশ কার্যকর বোলিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ…

  • | |

    লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইন

    ২১ সেপ্টেম্বর, ১৯০১ তারিখে ত্রিনিদাদের পেটিট ভ্যালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট কিংবা ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশীবহুল কিন্তু নমনীয়, গুটানো কিন্তু লম্বাটে বাহু নিয়ে পর্যাপ্ত পেস সহযোগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। তাঁর ব্যাটিং অনেকাংশেই চোখের উপর নির্ভরশীল ছিল।…

  • |

    ফারভিজ মাহারুফ

    ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদেহী, লিকলিকে ও উন্মুক্ত বক্ষের অধিকারী ডানহাতি ফাস্ট বোলার। অফ-স্ট্যাম্প বরাবর বল ফেলাসহ বলকে বাঁক খাওয়ানোর কারণে নিজেকে বিপজ্জ্বনক বোলারে পরিণত করেছিলেন। ছন্দোবদ্ধ দৌঁড়ে বোলিং…

  • | |

    গ্রায়েম হিক

    ২৩ মে, ১৯৬৬ তারিখে রোডেশিয়ার সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রিকেটের অন্যতম অবমূল্যায়িত খেলোয়াড়ের পরিচিতি পান। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে রানের ফুলঝুড়ি ছোটান ও দৃশ্যতঃ ইংরেজদের আশার আলো দেখিয়েছিলেন। ঘরোয়া পর্যায়ের কাউন্টি ক্রিকেটে…

  • | |

    ডেনিস লিলি

    ১৮ জুলাই, ১৯৪৯ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সুবিয়াকো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার। টেস্ট ক্রিকেটের কিংবদন্তী তারকা। বিশাল ব্যক্তিত্ব এবং শুধুমাত্র অস্ট্রলীয়দের মধ্যেই নয়, বৈশ্বিকভাবে বীর হিসেবে বিবেচিত হয়ে…