২৩ জুলাই, ১৯৫২ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ব্রান্সউইক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘ড্যাশার’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। বামহাতে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং করতেন। কার্লটনের পক্ষে দশ মৌসুম খেলেন। এরপর, অধিনায়ক-কোচ হিসেবে এসেনডন ক্লাবে আরও দশ মৌসুম খেলেছেন। ৩৬ গড়ে ১২ শতক সহযোগে ৬৬৯৭ রান তুলেছেন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার পক্ষে এক দশককাল প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে মেলবোর্নে সফররত ভারতীয় একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় বেশ রক্ষণাত্মক ভঙ্গীমায় দূর্দান্ত শতরানের ইনিংস খেলেন। ফলশ্রুতিতে, তাঁকে জাতীয় দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ঐ খেলায় অ্যালান হিলের পর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে কোনরূপ বাউন্ডারি ছাড়াই তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেছিলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে এমসিজিতে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৬৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
১৯৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে নিজ দেশে বিষেন বেদী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডেভিড অগিলভি, টনি মান, পিটার টুহি, স্টিভ রিক্সন ও ওয়েন ক্লার্কের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ৭৭ বল মোকাবেলান্তে ১৩ রান তুলেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে ১২ বল থেকে ২ রান তুলতে সক্ষম হন। এ প্রসঙ্গে ভিক্টোরিয়ার অধিনায়ক রে ব্রাইট মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘গাব্বার পিচ থেকে তিনি সুবিধে আদায় করতে পারেননি। যদি অ্যাডিলেড টেস্ট হতো, তাহলে যে কি হতো তা কে জানে?’ এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ১৬ রানের ব্যবধানে নাটকীয় জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। এরপর আর তাঁকে অস্ট্রেলিয়া দলে খেলতে দেখা যায়নি। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সব মিলিয়ে ৩৮.৬২ গড়ে নয় শতক সহযোগে ৪৭৯০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১৫ উইকেট দখল করেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ড্যানিয়েল নামীয় সন্তানের জনক। জুয়ায় আসক্তি, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতায় কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। এছাড়াও, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তাঁর মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয়। মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২৭ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার এসেনডন এলাকায় ৫৬ বছর ১২৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। নিজ গৃহের দর্শনার্থীদের কক্ষে তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এসেনডনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
