|

পল অ্যাডামস

২০ জানুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

প্লামস্টিড হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৪ সালে কিশোর দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে কেপ কোবরাজ ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

‘গগা’ বা শুধুই ‘গগস’ ডাকনামে বন্ধুদের কাছে পরিচিত ছিলেন। অপরিসীম উজ্জীবনী শক্তির অধিকারী ছিলেন। ১৮ বছর বয়সে ‘ব্লেন্ডারের মধ্যে থাকা ঘূর্ণায়মান ব্যাঙের ন্যায়’ বোলিং কর্মে অগ্রসর হন। কমপক্ষে এক বছর এ ধরনের বোলিং ভঙ্গীমায় ব্যাটসম্যানদেরকে বিপর্যস্ত রাখেন। তবে, খুব শীঘ্রই এ বিস্ময়ের ঘোর ভেঙে পড়ে। প্রায়শঃই বলে বৈচিত্র্য আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর খেসরাতস্বরূপ দক্ষিণ আফ্রিকা দলের পক্ষে খেলায় অংশগ্রহণ স্তিমিত হয়ে পড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটার এডি বার্লো’র প্রথম নজরে পড়েন। ঐ সময়ে গুগলি ও চায়নাম্যান সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

শুধুই ইন-স্পিনার্স ও আউট-স্পিনার্স হিসেবে বোলিংগুলো চিত্রিত হতো। বল ছোঁড়াকালীন মুখ আকাশপানে থাকতো। তাসত্ত্বেও যদি ব্যাটসম্যান তার পায়ের দিকে নজর রাখতো তাহলে তিনি বোলিংশৈলী পরিবর্তন করতে সক্ষম হতেন। তবে, স্থিরচিত্র পর্যবেক্ষণে এর ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। পল অ্যাডামস বলেছেন যে, ব্যাটসম্যান সম্পর্কে অবগত হবার পর তিনি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করেন।

১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ৪৫ টেস্ট ও ২৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রতিপক্ষের কাছে সমীহের পাত্রে পরিণত হন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৭৫ ও ১/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের চতুর্থ দিন মাত্র তিন বল মোকাবেলা করার পরপরই ইনিংস ঘোষণা করা হয়। গ্যারি কার্স্টেনের ব্যাটিং বদান্যতায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। একই সফরের ৯ জানুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে কেপটাউনে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৯ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের দ্বিতীয় দিন শন পোলকের সাথে ১২ রানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯ম উইকেটে নতুন রেকর্ড গড়েন। খেলায় তিনি ২ ও ৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে মুত্তিয়া মুরালিধরনের শিকারে পরিণত হন। শন পোলকের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭০ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৭ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের প্রথম দিন মাখায়া এনটিনি দলের ষাটতম ওভারের প্রথমটি নো-বল করার পর বোলিং করতে অক্ষমতা ব্যক্ত করেন। এরফলে, ঐ ওভারের বাদ-বাকী ছয়টি বল তাঁকে শেষ করতে হয়। খেলায় তিনি ০/৭৭ ও ১/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অ্যালান ডোনাল্ডের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০০০-০১ মৌসুমে শন পোলকের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ১৯ এপ্রিল, ২০০১ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের দ্বিতীয় দিন ৩৭তম ওভারে আম্পায়ার স্টিভ বাকনর ৭-বলে তাঁর ওভার শেষ করেন। খেলায় তিনি ০/৪৩ ও ২/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৩ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। উভয় ইনিংসেই মারভিন ডিলনের শিকারে পরিণত হন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪১ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দলীয় সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়ে। রিডলি জ্যাকবসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩০ রানে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ২৪ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫/৩৭ ও ৫/৬৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অভিষেকধারী জ্যাক রুডল্ফের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৬০ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৩-০৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১০ মার্চ, ২০০৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রান সংগ্রহসহ ২/১১৮ ও ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন। জ্যাক ক্যালিসের অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আঘাতের কবলে পড়লে খেলোয়াড়ী জীবনে ব্যাঘাত ঘটে। এক নম্বর ধীরগতিসম্পন্ন বোলারের মর্যাদা নষ্ট হয় ও নিকি বোয়ে’র কাছে স্থানচ্যূত হন। তবে, দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে তাঁর তুলনায় অধিক টেস্ট উইকেট লাভকারী বামহাতি স্পিনারের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি অক্টোবর, ২০০৮ সালে অবসর গ্রহণের ঘোষণার পূর্বেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন।

Similar Posts

  • | |

    মহিন্দার অমরনাথ

    ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৫০ তারিখে পাঞ্জাবের পাতিয়ালায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। খেলায় অল-রাউন্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রায়শঃই সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত হতেন; আবার খুব সহজেই সবচেয়ে বাজে ব্যাটসম্যানেরও তকমা পেয়েছেন। দলের সঙ্কটকালে ব্যাট হাতে প্রতিরক্ষা ব্যূহ গড়ে তুলতেন। পাশাপাশি…

  • |

    উদারা জয়সুন্দারা

    ৩ জানুয়ারি, ১৯৯১ তারিখে মিনুওয়াঙ্গোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ২০১০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বয়সভিত্তিক খেলার আওতায় চিহ্নিত হন। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ক্রমাগত রান সংগ্রহ করে সকলের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। ঐ প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক রান…

  • |

    চার্লি ফ্রাঙ্ক

    ২৭ জানুয়ারি, ১৮৯১ তারিখে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের জাগার্সফন্তেইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসমান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১৯-২০ মৌসুম থেকে ১৯২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯২১ সালে দক্ষিণ…

  • | |

    নীল ব্র্যান্ড

    ১২ এপ্রিল, ১৯৯৬ তারিখে গটেংয়ের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্টে অংশ নিচ্ছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। টানটনভিত্তিক কিংস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে টাইটান্সের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    ফ্রেড বেকওয়েল

    ২ নভেম্বর, ১৯০৮ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের ওয়ালসল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে নিয়োজিত থাকতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৮ থেকে ১৯৩৬ সময়কাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অব্যাহত রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নিজের সেরা দিনগুলোয় অন্যতম দৃষ্টিনন্দন…

  • | | | |

    নজর মোহাম্মদ

    ৫ মার্চ, ১৯২১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ, আম্পায়ার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে…