| |

পরস হাম্ব্রে

২০ জুন, ১৯৭২ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে কুলকার্নি ও বাহুতুলেকে সাথে নিয়ে বোম্বের বোলিং আক্রমণ কার্য্যে প্রধান চালিকাশক্তিতে নিজেকে পরিণত করেছিলেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো খেলে ৩০ উইকেট পান। পরের মৌসুমে ২৩.৪০ গড়ে ৫৪ উইকেট দখল করেন। এরপর আরও ভালো করেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে ১৭.২০ গড়ে আবারও ৫৪ উইকেট পান। এ সকল সাফল্যের পাশাপাশি জাতীয় দলে অংশ নেয়ার সুযোগ পান।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে উত্তরপ্রদেশের বিপক্ষে রঞ্জী ট্রফিতে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, খেলাটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়। ঐ খেলায় তিনি মাত্র তিন ওভার বোলিং করতে পেরেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, পরের মৌসুমের জন্যে তাঁকে অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। সুযোগ পেয়েই তিনি পর্যাপ্ত সফলতা পান। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে তিনি স্বরূপ ধারণ করেন। আট খেলায় অংশ নিয়ে ২৩.৭৩ গড়ে ৩০ উইকেট পান। ঐ মৌসুমে মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে সেরা খেলা উপহার দেন। ৫/৩৫ নিয়ে প্রতিপক্ষকে মাত্র ৭৫ রানে আটকিয়ে ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বোম্বে দলের শিরোপা লাভে অংশ নেন। এ পর্যায়ে রঞ্জী ট্রফিতে দলে অংশ নিয়ে পাঁচ শিরোপা লাভের প্রথমটি ছিল।

পরের মৌসুমে তিনি আরও সেরাটা খেলেন। ৫৪ উইকেট পান ও ১৯৯৫ সালে ভারত এ দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ঐ মৌসুমে ইরানী ট্রফিতেও দূর্দান্ত খেলেন। ওয়াংখেড়েতে অনুষ্ঠিত খেলায় বাদ-বাকী ভারতের বিপক্ষে ৫/২০ লাভ করেন। ভারত ‘এ’ দলের সদস্যরূপেও আশানুরূপ খেলেন। পাঁচজন ফাস্ট বোলারের অন্যতম হিসেবে ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পূর্বে প্রস্তুতিমূলক শিবিরে তাঁকে রাখা হয়। তবে, দলের অন্য চার পেসার – বেঙ্কটেশ প্রসাদ, জবাগল শ্রীনাথ, মনোজ প্রভাকরসলিল আঙ্কোলাকে রাখা হলেও তাঁকে বাদ পড়তে হয়।

নতুন সহস্রাব্দে এসেও মুম্বই দলের বোলিং কর্মে নিয়োজিত ছিলেন। এমনকি, ২০০১-০২ মৌসুমে ১৬.৮০ গড়ে ২০ উইকেট ও ২০০২-০৩ মৌসুমে ২৩.৬০ গড়ে ২৫ উইকেট দখল করলেও এরপর থেকে ঘরোয়া আসর ত্যাগ করেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৪.৩৬ গড়ে ২৮৪ উইকেট দখল করেছিলেন। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়েও বেশ সরব ছিলেন। ১৬৬৫ রান তুলেছিলেন। মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলতে নেমে মুম্বইয়ের সংগ্রহ এক পর্যায়ে ১৩৯/৭ হলে বিনোদনধর্মী খেলা উপহার দেন। ১১৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে ৩০১ রান তুলতে সহায়তা করেন। এরফলে তাঁর দল ইনিংস পরাজয় থেকে রক্ষা পায়।

১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সময়কালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও তিনটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২৫ মে, ১৯৯৮ তারিখে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একই বছরে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৬ জুন, ১৯৯৬ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। বেঙ্কটেশ প্রসাদ, সুনীল জোশী ও বিক্রম রাঠোরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২৮ ও ১৫ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলায় স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২০ জুন, ১৯৯৬ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০/৫৮ ও ১/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তবে, জ্যাক রাসেলের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ন্যায় বড় ধরনের ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হলেও ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে যথেষ্ট সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর বেঙ্গালুরুভিত্তিক ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমি থেকে তৃতীয় স্তরের কোচিং ডিপ্লোমাধারী হন। দুই বছর মহারাষ্ট্রের কোচের দায়িত্ব পালনের পর বাংলা দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এ পর্যায়ে রঞ্জী ট্রফিতে ১৬ বছর পর উপর্যুপরী দুইবার দলটি চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেয়।

সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সালে নিজ দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলার উদ্দেশ্যে তাঁকে ভারত ‘এ’ দলের কোচ হিসেবে মনোনীত করা হয়। পরবর্তীতে বরোদা ও বিদর্ভ দলেরও কোচের দায়িত্বে ছিলেন। চার বছর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কোচিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। রাহুল দ্রাবিড়্রের সুপারিশক্রমে জুলাই, ২০১৫ সালে ভারত ‘এ’ দলের বোলিং কোচ হিসেবে মনোনয়ন পান।

Similar Posts

  • | | | |

    ইয়ান বোথাম

    ২৪ নভেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে চেশায়ারের ওল্ডফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ইয়ান বোথাম ‘বিফি’, ‘বোথ’ কিংবা ‘গাই’…

  • | |

    হার্বার্ট সাটক্লিফ

    ২৪ নভেম্বর, ১৮৯৪ তারিখে ইয়র্কশায়ারের সামারব্রিজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অন্যতম সেরা ও কিংবদন্তীতুল্য ব্যাটসম্যান ছিলেন। সিবি ফ্রাই তাঁকে ‘দ্য হ্যাচেট ম্যান’ ডাকনামে আখ্যায়িত করতেন। ওয়ালি হ্যামন্ড কিংবা জ্যাক হবসের সমতুল্য…

  • |

    হার্দিক পাণ্ড্য

    ১১ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে গুজরাতের চৌরিয়াশি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে সবিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ১ ইঞ্চি (১.৮৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। হিমাংশু পাণ্ড্য ও মালিনী পাণ্ড্য দম্পতির সন্তান। জন্মের পর থেকেই দারিদ্র্যতার…

  • | |

    পলি উমরিগড়

    ২৮ মার্চ, ১৯২৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের শোলাপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেন। ১৯৪৪-৪৫ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে…

  • | |

    ডেনিস লিলি

    ১৮ জুলাই, ১৯৪৯ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সুবিয়াকো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার। টেস্ট ক্রিকেটের কিংবদন্তী তারকা। বিশাল ব্যক্তিত্ব এবং শুধুমাত্র অস্ট্রলীয়দের মধ্যেই নয়, বৈশ্বিকভাবে বীর হিসেবে বিবেচিত হয়ে…

  • | | |

    মুফাসির-উল-হক

    ১৬ আগস্ট, ১৯৪৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কার্নল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী…