২২ জুলাই, ১৯৮২ তারিখে নিত্যমবুয়ার ন্যায় ছোট্ট শহরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারির কার্যকর ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আই – সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
কৃশকায় গড়নের অধিকারী। ক্রিকেটে মনোনিবেশ ঘটানোর পূর্বে সফটবলের সাথে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে, নুগেগোদা ক্রিকেট ক্লাব ও গল ক্রিকেট ক্লাবের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা নর্থ, কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব ও কম্বাইন্ড প্রভিন্সেস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস ও কন্দুরাতা ম্যারুন্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০০২-০৩ মৌসুমের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় সেরা বোলারের পুরস্কার লাভ করেন।
২০০৩ থেকে ২০১৭ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট, ১৮৪টি ওডিআই ও ৫৮টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২১ বছর বয়সে ১৮ নভেম্বর, ২০০৩ তারিখে রঙ্গিরি ডাম্বুলা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। শুরুতেই তাৎক্ষণিক প্রভাব বিস্তার করেন ও বুক বাড়িয়ে প্রাণবন্তঃ পেস, সিম ও রিভার্স সুইং প্রয়োগ করে ২/১৯ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। সবচেয়ে বড় কথা হলো, নিখুঁত নিশানা বরাবর বলগুলো ফেলেছিলেন। খেলায় তাঁর অংশগ্রহণ ক্রিকেট বিশ্লেষকদের কাছে বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়ালেও অপূর্ব ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে নিজের অন্তর্ভুক্তির যথার্থতা প্রমাণ করেছেন।
টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের জন্যে কিছুকাল অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। ২০০৪-০৫ মৌসুমে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৪ এপ্রিল, ২০০৫ তারিখে নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১/৭০ ও ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, জেমস ফ্রাঙ্কলিনের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, লাসিথ মালিঙ্গা’র অসাধারণ বোলিং স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০০৬ সালে লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম অর্ধ-শতক হাঁকান। এ ইনিংস খেলাকালীন নিচেরসারিতে সহজাত ব্যাটিং পারদর্শীতা প্রদর্শন করেন। দশ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৪ রান তুলে দলকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখেন। ঐ সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র করান। তবে, ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারায় দীর্ঘ দূরত্ব নিয়ে প্রাণবন্তঃ সিম বোলিং করলেও ২০০৬ সালে আট মাসের জন্যে শ্রীলঙ্কা দলের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন।
কিন্তু, প্রচণ্ড পরিশ্রম করে বোলিং ভঙ্গীমায় আরও অতিরিক্ত পেস আনয়ণে সক্ষম হন ও ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কা দলে অন্তর্ভুক্ত হন। চামিণ্ডা ভাসের অবসর গ্রহণ ও লাসিথ মালিঙ্গা’র ছন্দ হারানোর পর থেকেই ওডিআই দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা লাভ করেন এবং দলের প্রধান বোলারে পরিণত হন। এপ্রিল, ২০০৮ সাল থেকে পরবর্তী ১১ মাসে ৪৭ উইকেট দখল করেছিলেন। এরফলে, মার্চ, ২০০৯ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে আইসিসি র্যাঙ্কিং প্রথায় বিশ্বের এক নম্বর ওডিআই বোলারের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। সুইংয়ের উপর প্রভূত্ব অর্জন ও বোলিংয়ে নিখুঁততার কারণে ২০০৯ সালের আইসিসি বর্ষসেরা ওডিআই দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। লাসিথ মালিঙ্গা’র ইয়র্কার প্রতিপক্ষের শেষদিকের ওভারে কার্যকারিতা প্রকাশ করলেও শুরুতেই তাঁর বোলিংয়ে সফলতা আনয়ণ অন্যতম ভূমিকা রাখে।
২০০৯ সালে নিজ দেশে ইউনুস খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ১২ জুলাই, ২০০৯ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ৪/২১ ও ৪/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর দূর্দান্ত বোলিংয়ে স্বাগতিক দল ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ফাহাদ আলমের সাথে যৌথভাবে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।
এরপর, একই সফরের ২০ জুলাই, ২০০৯ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৩/৪৭ ও ২/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কুমার সাঙ্গাকারা’র অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। এ সিরিজে ৭৫ রান সংগ্রহসহ ১৭ উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তাঁর বোলিং বেশ সফলতা বয়ে এনেছিল। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে থিসারা পেরেরাকে পাশ কাটিয়ে উপরেরসারিতে ব্যাটিং নামেন। ষষ্ঠ উইকেটে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র সাথে ৬৬ রান যুক্ত করে চূড়ান্ত খেলায় ভারতের বিপক্ষে ২৭৪ রান তুলেন। ২০০৭ ও ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার রানার্স-আপ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা শ্রীলঙ্কা দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ২০১১ সালে ইন্ডিয়ান টি২০ লীগে চেন্নাইয়ের পক্ষে $১০০,০০০ মার্কিন ডলারে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাট হাতে নিয়ে ব্যক্তিগত সেরা ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন।
২০১৩ সালের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৫/২২ দাঁড় করান। ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় মারকূটে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কুমার সাঙ্গাকারা’র ১৩৪ রানের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৮ বলে ৫৮ রান তুলেন। দলের বেশ কয়েকজন ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার টি২০ ক্রিকেট নিয়ে খেলতে ব্যস্ত থাকলেও তিনি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ২০১৪ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অন্যতম সেরা মিতব্যয়ী বোলিং বিশ্লেষণ ২-২-০-১ দাঁড় করান।
২০১৪ সালে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১২ জুন, ২০১৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ১/৮৩ ও ১/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৯ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জো রুটের ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
বয়সের সাথে সাথে পেস হারাতে থাকেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পর কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। গাড়ী দূর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। বোলিংয়ে বিরূপ প্রভাব পড়লে প্রথম একাদশে ঠাঁই পাওয়া বেশ দুষ্কর হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে, টেস্ট থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
১০ জুলাই, ২০১৭ তারিখে হাম্বানতোতার মহিন্দ রাজাপক্ষ ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন। ২৪ জুলাই, ২০১৯ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ পর্যায়ে তিনি শ্রীলঙ্কান সিমারদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন।
