৬ আগস্ট, ১৯১১ তারিখে ট্রান্সভালের বোক্সবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘মবিল’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ইহুদী বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম। বেশ সুদর্শন চেহারার অধিকারী হিসেবে মহিলাদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় ছিলেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম থেকে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৩-৩৪ মৌসুমে ট্রান্সভালের পক্ষে প্রথম খেলেন। ম্যাটিং উইকেট থেকে টার্ফ উইকেটে পরিবর্তনের ফলে কিছু সময় নিজেকে প্রস্তুত করতে সময় নেন।
১৯৩৮ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। তবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে।
১৯৩৯ সালের পরিচিতি পাওয়া ডারবান টেস্টে সর্বশেষ খেলেন। দশ দিন খেলার পর দেশে ফেরার তাগাদা থাকায় জাহাজ ধরতে ব্যস্ত ইংরেজ দল প্রত্যাবর্তন করলে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। ঐ ইনিংসে তিনি পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন।
১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বিলি ওয়েড, অ্যালান মেলভিল, জেরাল্ড বন্ড ও পিটার ফন ডার বিলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাটিংয়ে প্রাধান্য সিরিজে ক্রমাগত বোলিং করে গেছেন। প্রথম টেস্টে ১৬২ রান খরচায় ৭ উইকেট পান। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। ৫/১০৩ লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ২/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ঐ খেলায় টম গডার্ডের বলে লেস অ্যামিসের স্ট্যাম্পিংয়ে গোল্ডেন ডাক লাভ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
কেপটাউনে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের একমাত্র ইনিংসে ৫/১৫৭ পান। আরেকটি ড্রয়ে পরিণত হওয়া ঐ খেলায় পুণরায় টম গডার্ডের বলে লেস অ্যামিসের স্ট্যাম্পিংয়ে শূন্য রানে বিদেয় নেন।
একই সফরের ৩ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০* ও ৭* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮২ ও ১/১৭৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
যুদ্ধের পর থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত ট্রান্সভালের পক্ষে খেলেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ২২.৯৪ গড়ে ১২৬ উইকেট দখল করেছিলেন।
অবসর গ্রহণের পর গল্ফের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ৯৬ বছর বয়সে এসেও তিনি গল্ফ খেলেন। ৯৪ বছর বয়স পর্যন্ত খণ্ডকালীন হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। তবে, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেলে তিনি তা থেকে দূরে চলে আসেন। ৯৯ বছর বয়সে থাকাকালীন তারকা ক্রিকেটার ব্রায়ান লারা তাঁকে দেখতে আসেন। ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তারিখে জোহানেসবার্গের হিলব্রো এলাকায় ১০৩ বছর ২৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন তিনি বিশ্বের জ্যেষ্ঠতম টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মাননার অধিকারী ছিলেন। তাঁর ১০০তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে নরম্যান গর্ডন ট্রফির প্রবর্তন করা হয়। ১৯৩৯ সালের সর্বশেষ অসীম সময়ের টেস্টের সর্বশেষ জীবিত ক্রিকেটার ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ফলে ৯৫ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার লিন্ডসে টাকেট এ মর্যাদার অধিকারী হন।
