|

নবি ক্লার্ক

৯ আগস্ট, ১৯০২ তারিখে হান্টিংডনশায়ারের এলটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

তারকা বোলারের যাবতীয় গুণাবলী থাকলেও ফুরফুরে মেজাজের অধিকারী ছিলেন না। বামহাতে আলতো বোলিং করতেন। ব্যাটসমস্যান বরাবর ডান কাঁধ সোজা রেখে ধ্রুপদী ভঙ্গীমায় বল ফেলতেন। নিজের স্বর্ণালী সময়ে প্রকৃত মানসম্পন্ন দ্রুতগতিতে বোলিং করতেন। বিল ভসের ন্যায় তিনিও লেগ-সাইডে ফিল্ডিং সাজানোয় দক্ষ ছিলেন। সম্ভবতঃ বলে ইন-সুইং আনয়ণে রাউন্ড দি উইকেটে সর্বাপেক্ষা কার্যকরী ছিলেন ও স্লিপ অঞ্চলে ক্যাচের পরিবেশ সৃষ্টি করতেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বোলিংয়ের মাঝেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। ব্যাটিং কিংবা ফিল্ডিংয়ে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি।

পিটার্সবোরার কাছাকাছি এলাকায় জন্মগ্রহণ করলেও ইয়র্কশায়ারের লীগ ক্রিকেটে সফলতা পেয়েছিলেন। এ সময়ে তিনি প্রকৌশলে অধ্যয়ন করছিলেন। নর্দাম্পটনশায়ার কর্তৃপক্ষের সুনজরে পড়েন। ১৯২২ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২২ সাল থেকে উদীয়মান খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান। ১৭.১০ গড়ে বিশ উইকেট নিয়ে গড়ে শীর্ষে অবস্থান করেন। পরবর্তী দুই কিংবা তিন মৌসুম তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ১৯২৫ সালে পুণরায় ছন্দ ফিরে পান। ১৭.৭৯ গড়ে ৮৪ উইকেট দখল করেন। এরফলে, টেস্ট খেলার সম্ভাবনা জেগে উঠে।

১৯২৭ সালে টেস্টের যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নেন। ১৯২৮ সালে আঘাতের কবলে পড়েন ও দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। দূর্ভাগ্যজনকভাবে সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে চ্যাম্পিয়নশীপের দূর্বলতম দল নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে নিজের সেরা বোলিং করে গেছেন। এসেক্সের বাকেনহামের ন্যায় তিনিও অগণিত ড্রপ ক্যাচের কারণে উইকেট লাভ করা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন।

১৯২৯ থেকে ১৯৩৪ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৯ সালে নিজ দেশে নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৭ আগস্ট, ১৯২৯ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। লেস অ্যামিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। ঐ টেস্টে অতিরিক্ত লেগ-থিওরি প্রদর্শনের কারণে ব্যাপক সমালোচিত হন।

নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে ১৯৩০ সালে অস্ট্রেলীয়দের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান। তবে, ১৯৩২ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে ফিরে যেতে হয়। ১৯৩৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওভাল ও ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে অংশ নেন। বোলিংয়ে ভালো করলেও উল্লেখ করার মতো সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি।

১৯৩৪ সালে নিজ দেশে বিল উডফুলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৮ আগস্ট, ১৯৩৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১১০ ও ৫/৯৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে ২ রান করে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেছিলেন। সফরকারীরা ৫৬২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২৮ এপ্রিল, ১৯৮২ তারিখে নরফোকের ওয়েস্ট উইঞ্চ এলাকায় ৭৯ বছর ২৬২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    রোল্যান্ড বিউমন্ট

    ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৪ তারিখে নাটালের নিউক্যাসল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সহজাত প্রকৃতির স্ট্রোকপ্লে মারার অধিকারী ছিলেন। তবে, বড় আসরের ক্রিকেটে নিজেকে সঠিকভাবে মেলে ধরতে পারেননি। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান…

  • | | | | | |

    ক্লাইভ লয়েড

    ৩১ আগস্ট, ১৯৪৪ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার কুইন্সটাউনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, রেফারি, কোচ, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি (১.৯৩ মিটার) গড়ন নিয়ে দীর্ঘকায় শারীরিক গঠনের অধিকারী, আনত কাঁধ, বৃহৎ গোঁফ ও…

  • |

    প্রবীর সেন

    ৩১ মে, ১৯২৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী পঙ্কজ রায়ের জন্মের ঠিক দুই বছর পূর্বে তাঁর জন্ম। প্রথম উইকেট-রক্ষক হিসেবে ভারতের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ভারতের প্রথম সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পান।…

  • | | | |

    জিওফ মার্শ

    ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার নর্দাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রিকেট খেলতে তাঁকে অনেক কাঠখড় পুড়তে হয়েছে। উইকেটের মূল্য সম্পর্কে যথেষ্ট সজাগ ছিলেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    হনুমা বিহারী

    ১৩ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা কাকিন্দায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ধ্রুপদীশৈলীর সঠিকমানসম্পন্ন মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান তিনি। পূব বাতাসের ন্যায় স্থিরচিত্তে খেলে থাকেন। অত্যন্ত স্থির প্রকৃতির ভিভিএস লক্ষ্মণের ন্যায় তাঁর উত্থানপর্বও বেশ ধীরলয়ে ঘটে। তবে, উত্তরণের বিষয়ে অগোচরে ছিল না। ২০১০ সাল…

  • |

    মোহাম্মদ রফিক

    ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭০ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে অপূর্ব দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নিখুঁতভাব বজায় রেখে ছন্দোবদ্ধ ধীরগতিসম্পন্ন বামহাতি বোলার ছিলেন। ‘মো’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০০৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…