|

নিখিল চোপড়া

২৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ তারিখে উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দিলীপ ট্রফিতে সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে পাঁচ ছক্কা সহযোগে ১৩২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৫ গড়ে উইকেট পেয়েছেন। তাসত্ত্বেও, হরিয়াণার বিপক্ষে ৭/৬৬ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করিয়েছিলেন।

১৯৯৮ থেকে ২০০০ সময়কালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও ৩৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২৮ মে, ১৯৯৮ তারিখে গোয়ালিয়রে অনুষ্ঠিত সফররত কেনিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ভারত দলের সদস্যরূপে খেলেন।

ইনিংসের শেষদিকে কিংবা দ্রুতলয়ে রান সংগ্রহে তাঁকে মাঠে নামতে হতো। ওডিআইয়ে ২৬ ইনিংস থেকে ১৫.৫০ গড়ে ৩১০ রান সংগ্রহ করতে পেরেছেন। তন্মধ্যে, ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেছেন ৬১ রান। সিঙ্গাপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ছক্কা সহযোগে ৬০ বল মোকাবেলান্তে এ সংগ্রহ দাঁড় করান।

সব মিলিয়ে ওডিআই থেকে ৪৬ উইকেট পেয়েছেন। ১৯৯৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। টরন্টোয় অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ওডিআইয়ে ৫/২১ পান ও প্রতিপক্ষকে ১৩৭ রানে গুটিয়ে ফেলতে দারুণ ভূমিকা রাখেন। ঐ খেলায় তাঁর দল জয়লাভ করেছিল।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২ মার্চ, ২০০০ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। মোহাম্মদ কাইফের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২৪ ওভারে ৭৮ রান খরচ করলেও উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতে হয় ও প্রতিপক্ষ ৪৭৯ রান তুলে। এছাড়াও, ৪ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। নিকি বোয়ে’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৭১ রানে পরাজয়বরণ করে। পাশাপাশি ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

তাসত্ত্বেও, প্রায়শঃই তিনি বিকল্প অফ-স্পিনার হিসেবে ভারত দলে খেলতে থাকেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে ছন্দপতন লক্ষ্য করা যায়। ঐ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত কার্লটন এন্ড ইউনাইটেড সিরিজে কোন খেলায় তাঁকে খেলানো হয়নি। শেষ নয়টি ওডিআই থেকে মাত্র ১০ উইকেট দখল করেছিলেন। এরফলে, দল নির্বাচকমণ্ডলীর কাছ থেকে নজরের বাইরে চলে যেতে থাকেন। ২০০০ সালের এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার কাছে ভারতের পরাজয়ের পর জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন।

কার্যকরী বোলার হিসেবে নিখুঁত নিশানায় সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় বল ফেলতেন। বলে বৈচিত্র্যতা আনলেও দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ব্যাট হাতে ভূমিকা রাখতেন। মূলতঃ একদিনের খেলার উপযোগী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে শীর্ষ স্পিনারদের অন্যতম ছিলেন। বোলিংয়ে সাফল্য পেলে তাঁকে দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়।

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ওডিআই থেকে ২৫ উইকেট লাভকারী ভারতীয় বোলারদের মধ্যে ২৭.৯৫ গড় নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। মিতব্যয়ীতা, কার্যকরী মনোভাব ও বুদ্ধিমত্তা সহযোগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। দলে স্থানলাভের প্রশ্নে হরভজন সিং ও শরণদীপ সিংয়ের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হতে হয়। ফলশ্রুতিতে, নিজেকে কখনো ভারতের টেস্ট দলের উপযোগী অফ-স্পিনার হিসেবে পরিচিতি ঘটাতে পারেননি। দুই বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে ওডিআইয়েই অংশ নিতে পেরেছেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর টেলিভিশনে ক্রিকেট বিশ্লেষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

Similar Posts

  • |

    রয় গিলক্রিস্ট

    ২৮ জুন, ১৯৩৪ তারিখে জ্যামাইকার সীফোর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘জিলি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্যতম দ্রুত গতিসম্পন্ন বোলারের মর্যাদা পেয়েছেন। বল…

  • |

    জন ইভান্স

    ১ মে, ১৮৮৯ তারিখে হ্যাম্পশায়ারের নিউটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। উইনচেস্টারে অধ্যয়নের পর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি গল্ফ ও র‍্যাকেট খেলায় সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। ১৯০৮ থেকে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | | |

    ইমরান খান

    ৫ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক, তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। মূখ্যতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্ণাঢ্যময় চরিত্রের অধিকারী। পাকিস্তানী ক্রিকেটে প্রধান পটপরিবর্তনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটকে আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হৃদপিণ্ডতুল্য ভূমিকা…

  • | |

    আকরাম রাজা

    ২২ নভেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ফয়সালাবাদ, হাবিব ব্যাংক…

  • | |

    বলবিন্দর সাঁধু

    ৩ আগস্ট, ১৯৫৬ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সুপরিচিত কবি হরনাম সিং নাজের সন্তান ছিলেন। কপিল দেবকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে…

  • |

    লাহিরু কুমারা

    ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে ক্যান্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শক্তসমর্থ ও মজবুত গড়নের অধিকারী। ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরেই নিজেকে সকলের সমক্ষে পরিচিতি…