১৩ জুন, ১৮৮৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের সিমলায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে স্লো বোলিং করতে পারতেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
কার্লটন ও লরা টাফনেল দম্পতির চার পুত্র ও এক কন্যার মধ্যে তিনি দ্বিতীয় পুত্র সন্তান ছিলেন। পরবর্তীতে, ভ্রাতাদের সাথে তিনিও এটনে পড়াশুনো করেছেন। ১৯০৪ সালে এটন পাবলিক স্কুল ক্রিকেট দলের সদস্য ছিলেন। শুরু থেকেই ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও উইকেট-রক্ষক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। ১৯০৪ থেকে ১৯০৬ সময়কালে এটনের সদস্যরূপে সাতটি আন্তঃবিদ্যালয়ের খেলায় অংশ নেন। পাশাপাশি, ১৯০৫ ও ১৯০৬ সালে পাবলিক স্কুলসের সদস্যরূপে এমসিসি’র বিপক্ষে খেলেছেন।
ডিসেম্বর, ১৯০৬ সালে টেডি ওয়েনইয়ার্ডের নেতৃত্বে এক দল শৌখিন ক্রিকেটার নিউজিল্যান্ড সফরে যায়। ১৫-সদস্যের দলে নিউজিল্যান্ডীয় বংশোদ্ভূত রোল্যান্ড ফক্সসহ তিনি উইকেট-রক্ষক হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন। ১১টি প্রথম-শ্রেণীর খেলার সাতটিতে অংশ নিয়েছিলেন। অকল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। জোড়া শূন্য রানের সন্ধান পান ও খেলায় কোন ডিসমিসালের সাথে নিজেকে জড়াতে পারেননি। এ সফরে ২৫.৩৭ গড়ে ২০৩ রান তুলেছিলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৮৫ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, ৫টি ক্যাচ নিয়েছিলেন। তুলনামূলকভাবে এ সফরটি ভালো খেলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করতেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯০৭ থেকে ১৯২৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।
১৯১০ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম পরিবর্তিত উইকেট-রক্ষক হিসেবে প্রতিপক্ষীয় ব্যাটসম্যানকে স্ট্যাম্পিং করার গৌরবের অধিকারী হন। ১৯০৯-১০ মৌসুমে শ্রিম্প লেভসন-গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১১ মার্চ, ১৯১০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ১৪ রান তুলে দলের সংগ্রহকে ৪১৭ রানে নিয়ে যান। দ্বিতীয় ইনিংসে জিমি সিনক্লেয়ারকে ৩৭ রানে কলিন ব্লাইদের বলে স্ট্যাম্পিং করেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৯ উইকেট জয় পেলেও ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
ডারবানে দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ৯৫ রানে জয়লাভ করে। তবে, তিনি প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পাননি। স্টাডউইকেটের মুখে বল লাগলে পুরো খেলায় তিনি খেলতে পারেননি। ফলে, স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থানের জন্যে তাঁকে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে খেলানো হয়। স্নুককে ৫৩ রানে থাকা অবস্থায় স্ট্যাম্পিং করেন। এরফলে, প্রথম অতিরিক্ত উইকেট-রক্ষক হিসেবে স্ট্যাম্পিং করে রেকর্ড গড়েন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ৮ এপ্রিল, ১৯১৩ তারিখে সিবিল কার্লোস ক্লার্ক নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। নবদম্পতি বার্কশায়ারের ফেয়ারফিল্ড এলাকায় বসবাস করতেন। এ দম্পতির দুই পুত্র সন্তান ছিল। ৩ আগস্ট, ১৯৫১ তারিখে লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকায় ৬৪ বছর ৫১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
