|

নাথান অ্যাসলে

১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, ডারহাম, ল্যাঙ্কাশায়ার ও নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মুম্বই চ্যাম্পসের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুমে ক্যান্টারবারির পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর অভিষেক ঘটে তাঁর।

৪ জুন, ১৯৯৭ তারিখের পূর্ব-পর্যন্ত নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে চ্যাম্পিয়নশীপের কোন খেলায় অংশ নিতে পারেননি। মূলতঃ পাকিস্তানী ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ জাহিদের সাথে নটিংহ্যামশায়ার কর্তৃপক্ষ বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু, ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রাখার পরপরই স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হলে ঐ গ্রীষ্মে বোলিং করার সুযোগ পাননি। ফলশ্রুতিতে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে তাঁকে দলে আনা হয়। কার্যকর অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে স্বার্থক ভূমিকা রাখেন। বোলিং গড়ে তিনি শীর্ষস্থানে অধিষ্ঠিত হন ও পল জনসনের পর ব্যাটিং গড়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করেন।

১৯৯৫ থেকে ২০০৭ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৮১ টেস্ট, ২২৩টি ওডিআই ও চারটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২২ জানুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেন।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জিওফ অ্যালট, গ্রেগ লাভারিজ ও রবার্ট কেনেডি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৮ ও ৩২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, ক্রিস কেয়ার্নসের অসাধারণ বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে লি জার্মনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৭ এপ্রিল, ১৯৯৬ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ১০৩ রান সংগ্রহ করেন। এরফলে, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ২৫ বছরের মধ্যে কেবলমাত্র তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে উপর্যুপরী শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। খেলায় তিনি ১০৩ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০ ও ১০২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে ডিকে মরিসনের সাথে দশম উইকেটে ১০৬ রানের নিরবচ্ছিন্ন জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ডের মধ্যকার নতুন রেকর্ড গড়েন। এরফলে, ১৯৪৯ সালে লিডসে এফএলএইচ মুনি ও জে কাউয়ি’র মধ্যকার ৫৭ রানের পূর্বেকার রেকর্ড ম্লান হয়ে যায়। এছাড়াও, টেস্টের ইতিহাসে ত্রয়োদশ ঘটনা হিসেবে শেষ উইকেটে শতরানের জুটি হিসেবে চিত্রিত হয়। সর্বশেষ, ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে সিএল হুপারসিএ ওয়ালশ অ্যান্টিগুয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে শতরানের জুটি গড়েছিলেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তানের মধ্যকার খেলায় বিএফ হ্যাস্টিংস ও আরও কলিঞ্জ দশম উইকেটে সর্বোচ্চ ১৫১ রানের জুটি গড়েছিলেন। সর্বোপরি, তাঁদের শতরানের জুটিটি নিউজিল্যান্ডের পক্ষে তৃতীয় ঘটনা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। পাশাপাশি, ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। স্যার আরজে হ্যাডলি বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ থেকে অ্যালেক স্টুয়ার্টের সাথে তাঁকে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার দেন।

একই সফরের ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৩৬ ও ৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। গ্রাহাম থর্পের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৬৮ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে অকল্যান্ডে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমজে হর্নের সাথে চতুর্থ উইকেটে ২৪৩ রানের জুটি গড়েন। এ সংগ্রহটি নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ সেরার মর্যাদা পায়।

একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৭ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১২ ও ১৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/২০ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক মার্ক টেলরের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ১৮৬ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত ১ ও দলীয় ৫০/২ থাকাকালে আঘাতের কারণে মাঠের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হন। খেলায় তিনি ৫৬ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫ ও ১/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, সায়মন ডৌলের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৭৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। চতুর্থ উইকেটে এমএস সিনক্লেয়ারের সাথে ২৪৬ মিনিটে ১৮৯ রান তুলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৯৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১২ ও ১/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ম্যাথু সিনক্লেয়ারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১০৫ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০০১-০২ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩০ নভেম্বর, ২০০১ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৪১ রান অতিক্রম করেন। ওয়াকায় অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ১৫৬* ও ৪০ রান তুলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৪ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ফলাফলবিহীন অবস্থায় সিরিজের সমাপ্তি ঘটে।

একই মৌসুমে নিজ দেশে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৩ মার্চ, ২০০২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চের জেড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৫৬ রান অতিক্রম করেন। মারমুখী ব্যাটিংয়ে ২২২ রান তুলে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। ৫৫০ রানের জয়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রার এক পর্যায়ে ব্ল্যাক ক্যাপসের সংগ্রহ ১১৯/৩ থাকাকালে তিনি মাঠে নামেন। দলের সংগ্রহ ২৫২/৬ হবার পর নিজের স্বরূপধারন করেন। ইংরেজ বোলারদের তুনোধুনো করেন ও সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ের অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ২৮ চার ও ১১ ছক্কায় এ রান তুলেন। ১৫৩ বল মোকাবেলায় দ্বি-শতকের কোটা স্পর্শ করেন। বল সংখ্যার দিক দিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। এ বীরোচিত ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ড দল সম্মানজনক ৭৮ রানের পরাজয়ের মুখোমুখি হয়। শেষ খেলোয়াড় হিসেবে বিদেয় নেন। এটিই তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিল। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ২/৩২ ও ১/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। গ্রাহাম থর্পের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৯৮ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০০৪-০৫ মৌসুমে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। এ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ১৯ অক্টোবর, ২০০৪ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অসাধারণ ব্যাটিংনৈপুণ্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯৯ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, একই মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ মার্চ, ২০০৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২০ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৪০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ৭৪ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। তবে, অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১১ এপ্রিল, ২০০৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে থিলান সামারাবীরাকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা সাফল্য ছিল ২/২২। এরপর, আবারও দ্বিতীয় ইনিংসে পূর্বেকার বোলিং সাফল্যকে ছাঁপিয়ে যান। খেলায় তিনি ৩/৩৫ ও ৩/২৭ লাভ করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে চামিণ্ডা ভাসের বলে শূন্য রানে বিদেয় হন। তবে, ল্যু ভিনসেন্টের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৮ রানে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০০৬-০৭ মৌসুমে নিজ দেশে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৫ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৭ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, চামারা সিলভা’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২১৭ রানে পরাজিত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

Similar Posts

  • | | |

    গুলাম আহমেদ

    ২৮ জুলাই, ১৯২২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের প্রথম সেরা অফ-স্পিনার হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটিয়েছেন। বেশ দেরীতে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাথে সংযুক্তি ঘটে। ১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে…

  • | |

    তামিম ইকবাল

    ২০ মার্চ, ১৯৮৯ তারিখে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নেমে থাকেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে চট্টগ্রাম বিভাগ ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি,…

  • | |

    রশীদ খান

    ২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে নানাগড়হর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আফগানিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কনিষ্ঠ অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। স্বল্প কয়েকজন বোলারের অন্যতম হিসেবে পরপর চার বল থেকে চার…

  • |

    ডেনিস ডায়ার

    ২ মে, ১৯১৪ তারিখে নাটালের বেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৪০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘাকায় গড়ন ও সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। অসম্ভব ধৈর্য্যশক্তির অধিকারী হিসেবে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। তবে, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পাল্টা…

  • | |

    গারেথ ব্রিস

    ৯ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে জ্যামাইকার মন্টেগো বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ২০০০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘ব্রিগি’ ডাকনামে ভূষিত গারেথ ব্রিস ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। কিংস্টনভিত্তিক উলমার্স বয়েজ স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমের রেড…

  • | |

    ওয়ালি হ্যামন্ড

    ১৯ জুন, ১৯০৩ তারিখে কেন্টের বাকল্যান্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং কর্মে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সিরেনচেস্টার গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। প্রায় যে-কোন বয়সী প্রজন্মের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করবেন। কেন্টে জন্মগ্রহণ করলেও ঘরোয়া…