১৪ মে, ১৯৪১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বোলার হিসেবে খেলতেন। তবে, কখনো নিজেকে তিনি তাঁর শুরুরদিকে প্রতিশ্রুতিশীলতা ধরে রাখতে পারেননি। কিছুটা নিজের দোষে ও কিছুটা দল নির্বাচকমণ্ডলীর খেয়ালখুশীর পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বামহাতি স্পিনার ও অল-রাউন্ডার ছিলেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ঢাকা, পূর্ব পাকিস্তান, করাচী, পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক ও পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মাইনর কাউন্টিজ, পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয় দল ও স্টাফোর্ডশায়ারের পক্ষে খেলেছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শুরুর পর্বটি অত্যন্ত চমকপ্রদ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা ক্রমশঃ নিচেরদিকে চলে যেতে থাকে। মূলতঃ বামহাতি স্পিনার ছিলেন। এছাড়াও, মিডিয়াম-পেস বোলিং করতে পারতেন। বলকে শূন্যে ভাসিয়েই অধিক সফলতা পেয়েছেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পাকিস্তানের ব্যাটিং উদ্বোধনসহ ১১ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন। ব্যাটিংয়ে সক্ষমতার কারণে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে অংশ নিতেন।
১৯৫৮ থেকে ১৯৭৩ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ২৯ টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৭ জানুয়ারি, ১৯৫৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। হাসিব আহসান ও সাঈদ আহমেদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেককালীন সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঐ টেস্টে অংশগ্রহণকালীন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। ০/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ১১ ও ০* রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে, হানিফ মোহাম্মদের ত্রি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬২ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। লর্ডস টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মনোমুগ্ধকর শতক হাঁকান। এরফলে, প্রথম পাকিস্তানী ব্যাটসম্যান হিসেবে এ কৃতিত্বের অধিকারী হন। ১০১ রানের ইনিংস খেলার সুবাদে লর্ডস অনার্স বোর্ডে স্বীয় নামকে অন্তর্ভুক্ত করেন।
১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২২ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৬ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৭২-৭৩ মৌসুমে ইন্তিখাব আলমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৬ জানুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৬৪ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৫২ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর, ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র ওডিআই খেলেন। লোয়ারহাউজ ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে ১৯৭৯ সময়কালে খেলেছিলেন।
১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে পাকিস্তান দলের সহকারী ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে জাতীয় দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালনসহ দক্ষিণ এশিয়ায় আইসিসি উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ম্যাচ রেফারি ছিলেন। দুইটি টেস্ট ও সাতটি ওডিআই পরিচালনা করেছেন। ২০০০ সালে পিসিবি এডভাইসরি কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।
