২৩ মে, ১৯২৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কেরালার কালিকূটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
মাদ্রাজ থেকে বিএ ইন্টারমিডিয়েট লেভেলে কৃতকার্য হন। ১৯৪৪ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। ক্রিকেট খেলার প্রতি তাঁর সবিশেষ আগ্রহ ছিল। ১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সার্ভিসেস ক্রিকেট দলের একনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কাটারের উপর ব্যাপকমাত্রায় নির্ভর করে উইকেট লাভে সফল হয়েছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে রঞ্জী ট্রফিতে সার্ভিসেস দলের উত্থানে বিরাট ভূমিকা রাখেন।
১৯৫১-৫২ মৌসুমে রাজস্থানের বিপক্ষে রঞ্জী ট্রফির খেলায় তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৫/৩৩ নিয়ে প্রতিপক্ষকে মাত্র ৮৩ রানে গুটিয়ে ফেলতে বিরাট ভূমিকা রাখেন। পরের খেলায় কোটলায় সাউদার্ন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৫/৫০ পান। এছাড়াও, হোলকারের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে অংশ নিয়েছিলেন। ২/২৭ ও ৩/৮৩ লাভ করলেও ঐ প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে তাঁর দল।
লেফট্যানেন্ট কর্নেল হিমু অধিকারী’র স্বর্ণালী দিনগুলোর সাথে স্বল্পসংখ্যক ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে সার্ভিসেস দলে খেলেছেন। দুর্দান্ত গতিসম্পন্ন ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার ছিলেন। ইস্টার্ন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৫৩ রান ও ৬/২৯ লাভের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেকটা আকস্মিকভাবেই জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। তন্মধ্যে, ৫৩ রানই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর একমাত্র অর্ধ-শতরানের ইনিংস ছিল।
১৯৫৫ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারি কেভের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। হায়দ্রাবাদে সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলেছিলেন। ১৯ নভেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে শুরু হওয়া ঐ টেস্টটি ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার উদ্বোধনী টেস্ট ছিল। এরফলে, কেরালায় জন্মগ্রহণকারী প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ভারতের পক্ষে টেস্ট খেলার গৌরব অর্জন করেন। এজি কৃপাল সিংয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। পলি উমরিগড়ের তৎকালীন ভারতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট রান ২২৩ ও অভিষেকে কৃপাল সিংয়ের শতকের কল্যাণে অধিনায়ক গুলাম আহমেদ ৪৯৮/৪ তুলে ইনিংস ঘোষণা করলে দাত্তু ফাড়করের সাথে বোলিং উদ্বোধনে নামেন। ৮ ওভারে ১৫ রান খরচ করলেও তিনি কোন উইকেট পাননি।
ফলো-অনের কবলে পড়ে নিউজিল্যান্ড দল ২১২/২ তুলে। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। এ পর্যায়ে তিনি ১০ ওভারে ৩০ রান খরচ করে উইকেটের সন্ধান পেতে ব্যর্থ হন। তবে, যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ ছাড়াই দল থেকে বাদ পড়েন। ঐ টেস্টের পর মাঝে-মধ্যে ক্রিকেট খেলতেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান দলের বিপক্ষে শেষ হাসি হাসেন। উত্তরাঞ্চলের সদস্যরূপে তিনি ও দাত্তু ফাড়কর উভয় পাঁচ উইকেট করে পেলে সফরকারীদেরকে ৭৬ রানে গুটিয়ে দেন।
সার্ভিসেস দলে যোগদানের পর রঞ্জী ট্রফিতে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে হিমু অধিকারী ভারতের পক্ষে টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তবে, সার্ভিসেস দলে বড় ধরনের দায়িত্ব পালনে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার পর তাঁর ছত্রচ্ছায়ায় থেকে চন্দ্রশেখর গড়কড়ি, রমন সুরেন্দ্রনাথ, অপূর্ব সেনগুপ্তা, ভেনাতাপ্পা মুদ্দিয়া’র সাথে নারায়ণ স্বামী টেস্ট ক্রিকেটার হবার সুযোগ পান।
সামরিক দায়িত্ব পালনের কারণে মাত্র ১৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ করতে পেয়েছিলেন। তাসত্ত্বেও ২২.১৬ গড়ে ৬৮টি উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, চারবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪.৩৫ গড়ে ২০১ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সফলতার সাথে সেবা দিয়ে গেছেন ও মেজর পদবী নিয়ে অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে, নাসিক রোড ক্যাম্পে আর্টিলারি রেজিমেন্টের কর্মকর্তা ছিলেন। ১ মে, ১৯৮৩ তারিখে উত্তরপ্রদেশের দেরাদুনে ৫৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
