৩১ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে গাইবান্ধায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে উত্তরাঞ্চল, রাজশাহী বিভাগ ও রংপুর বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চিটাগং কিংসের পক্ষে খেলেছেন। ১২ মার্চ, ২০০৪ তারিখে ফতুল্লায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ বনাম জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০০৪-০৫ মৌসুমে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে প্রথম খেলেন।
২০০৩-০৪ মৌসুমের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার প্লেট চ্যাম্পিয়নশীপে বাংলাদেশের শিরোপা বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। পূর্বতন চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্লেটের চূড়ান্ত খেলায় সর্বোচ্চ রান তুলে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। চূড়ান্ত খেলায় আফতাব আহমেদ ও শাহাদত হোসেনসহ আটজন দলীয় সঙ্গী পরবর্তীতে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান। অক্টোবর, ২০০৮ সালে আফতাব আহমেদ, শাহরিয়ার নাফিস ও অলোক কাপালী অনুমোদনবিহীন আইসিএলে যোগদান করলে বাংলাদেশের ওডিআই দলে খেলার সুযোগ পান। বাংলাদেশের যুব দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পান ও ২০০৭ সাল পর্যন্ত খেলতে থাকেন।
বাংলাদেশ একাডেমি দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করে বেশ ভালোমানের খেলা উপহার দেন। দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ছয় খেলায় অংশ নিয়ে ৪৩.৪২ গড়ে ৩০৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২০১৪ সালের এশিয়া কাপে অংশ নেন।
৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব বনাম শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমের বিপিএল আসরে রংপুর রাইডার্সের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, $৯০,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে সিলেট রয়্যালসে চলে আসেন।
২০০৮ থেকে ২০১৪ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্ট, ৫৯টি ওডিআই ও ১০টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। প্রধান দল নির্বাচক রফিকুল আলমের দৃষ্টিকোণে ‘তরুণ ও উদীয়মান ব্যাটসম্যান’ হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। ৯ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে ঢাকায় প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। তিন-খেলা নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটি খেলায় অংশ নেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে প্রথম খেলায় কোন বল মোকাবেলা না করেই তাঁকে শূন্য রানে রান-আউটের মাধ্যমে বিদেয় নিতে হয়েছিল। তৃতীয় ও চূড়ান্ত খেলায় ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন।
একই দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে টেস্ট দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ১৭ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৪ ও ৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১১ লাভ করেন ও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কারণে স্বাগতিক দল ৩ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
৫ নভেম্বর, ২০০৯ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত ওডিআইয়ে নিজস্ব প্রথম অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন ও তাঁর দল ১ উইকেটের নাটকীয় জয়ে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে।
সীমিত-ওভারের ক্রিকেটেও ব্যাট ও বলে সমান দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। এরফলে, ওডিআই দলে নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পান। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।
২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। নভেম্বর, ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতক হাঁকান।
২১ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে খুলনায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৬ ও ২ রান তুলতে সক্ষম হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৩ ও ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ টেস্টে মারলন স্যামুয়েলসের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিক দল ১০ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
তবে, ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁকে টেস্ট খেলানো হয়নি। তাসত্ত্বেও, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে অংশ নেন। ঐ সিরিজে বাংলাদেশের সর্বাধিক রান সংগ্রাহকের মর্যাদা পান। কিন্তু, ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুইটি ওডিআইয়ে খেলার জন্যে বিবেচিত হননি। তবে, এশিয়া কাপে অংশ নেন ও তেমন সুবিধে করতে পারেননি। এরপর, দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে টি২০ বিশ্বকাপে দলে রাখেনি।
