২৫ জুলাই, ১৯৩০ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ইনিংস উদ্বোধনে নামলেও পরবর্তীতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হয়েছিলেন। সিম বোলার থেকে পরবর্তীকালে লেফট-আর্ম অর্থোডক্স স্পিন বোলারে রূপান্তরিত হন। মানবিক মূল্যবোধ ও তুখোড় ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে তাঁর জীবন গড়ে উঠেছিল। ১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৭১-৭২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি ও সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঊনিশ বছর বয়সে ক্যান্টারবারি দলে খেলার সুযোগ পান। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে দারুণ খেলে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে ক্রাইস্টচার্চে ক্যান্টারবারির সদস্যরূপে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে আগ্রাসী ব্যাটিং করে ১৬৫ রান আদায় করে নেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
১৯৫৩ থেকে ১৯৬৬ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ১৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ১১টিতেই দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং দুইবার ঐ দেশ ভ্রমণ করেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকান দলের মুখোমুখি হন। ১৩ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ম্যাট পুর ও এরিক ডেম্পস্টারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২২ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে জিওফ রাবোনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। দুই দলের মধ্যকার প্রথম টেস্ট সিরিজে অংশ নেন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২২ রানের সমকক্ষ হন। খেলায় তিনি ৮ ও ২২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ১৩২ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৭৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৬১-৬২ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্বিতীয়বারের মতো সফরে যান। এ পর্যায়ে অধিনায়ক জন রিডের সহকারী ছিলেন। এছাড়াও, ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জয়ী দলের সদস্যরূপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছিলেন।
১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১৫ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণ ছিল।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ধাবিত হন। দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ও ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। এরপর, ১৯৭১-৭২ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনার্থে নিউজিল্যান্ড দলের ব্যবস্থাপক ছিলেন। সেখানে ব্ল্যাক ক্যাপসের একটি খেলায় খেলোয়াড় সঙ্কট সৃষ্টি হলে তিনি দলে অন্তর্ভুক্ত হন। তবে, খেলাটি বৃষ্টির কবলে পড়ায় তাঁকে ব্যাট, বল কিংবা ফিল্ডিং করতে হয়নি। এছাড়াও, ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে ভারত ও পাকিস্তান সফরে ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
৩১ জুলাই, ১৯৮৫ তারিখে ৫৫ বছর ৬ দিন বয়সে ওয়াইকাতোর হ্যামিল্টনে তাঁর দেহাবসান ঘটে। এ সময়ে ১৯৮৬ সালের ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে ব্যবস্থাপক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল।
