|

মুনাফ প্যাটেল

১২ জুলাই, ১৯৮৩ তারিখে গুজরাতের ইখারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল সংস্করণে অংশ নিয়েছেন।

১.৯১ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বরোদা, মহারাষ্ট্র, মুম্বই ও গুজরাতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, এশীয় একাদশ, গুজরাত লায়ন্স, ক্যান্ডি তুস্কার্স, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও রাজস্থান রয়্যালসের পক্ষে খেলেছেন।

২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ডেনিস লিলি ও সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ’র দৃষ্টিগোচরীভূত হন। কোনরূপ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ ব্যতিরেকেই শচীন তেন্ডুলকরের সহায়তায় মুম্বই দলের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। সুনিয়ন্ত্রিত পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি ঘণ্টাপ্রতি ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতিবেগে বোলিংয়ের সুবাদে ভারতের পরবর্তী বোলিং প্রতিভারূপে বিবেচিত হন।

আঘাতের সাথে ক্রমাগত সংগ্রাম করে গেছেন। এ থেকে উত্তরণে তাঁকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। এক পর্যায়ে তাঁকে দক্ষতা বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টে প্রেরণ করা হয়েছিল। এরপর, ২০০৬ সালে সফলতার সাথে ভারত দলে যুক্ত হন।

২০০৬ থেকে ২০১১ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্ট, ৭০টি ওডিআই ও তিনটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের নেতৃত্বধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৯ মার্চ, ২০০৬ তারিখে মোহালিতে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। পিযুষ চাওলা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে বিরাটভাবে সফল হন। খেলায় ৯৭ রান খরচায় ৭ উইকেট দখল করেছিলেন তিনি। ৩/৭২ ও ৪/২৫ পান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে, অনিল কুম্বলে দূর্দান্ত বোলিংনৈপুণ্যে স্বাগতিক দল ৯ উইকেটে জয় পায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। একই সফরের ৩ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে মারগাঁওয়ে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো খেলেন।

২০০৩ সালের পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ভারতের প্রথম জয়ে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখেন। এরফলে তাঁর দল ১ রানের নাটকীয় ব্যবধানে জয়লাভে সক্ষম হয়। ওয়েন পারনেলকে বিদেয় করে এ সাফল্য নিয়ে আসেন।

ডিএলএফ কাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো খেলায় দলকে জয়লাভে ভূমিকা রাখেন। ফিল জ্যাকুয়েস, মাইকেল ক্লার্ক ও স্টুয়ার্ট ক্লার্ককে বিদেয় করেছিলেন তিনি। ২০০৬ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি উইকেট পান। ১৮ রান খরচায় ঐ উইকেটগুলো লাভের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মতো ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৮-০৯ মৌসুমে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৮ মার্চ, ২০০৯ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/৬০ ও ২/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, শচীন তেন্ডুলকরের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০০৭ ও ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ভারত দলের সদস্য ছিলেন। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ঐ প্রতিযোগিতায় গ্রুপ পর্ব থেকে তাঁর দল বিদেয় নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে আঘাতের কারণে মাঠের বাইরে অবস্থান করলে লক্ষ্মীপতি বালাজিকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। ভারতের ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার হলেও আঘাতের কারণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দারুণ খেলেন। জাতীয় দলের পক্ষে এটিই তাঁর সর্বশেষ দারুণ ক্রীড়া নৈপুণ্য ছিল। ৯ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অভিষেক হয়।

একই বছর এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৬ জুলাই, ২০১১ তারিখে রোজিওতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১/৪৮ ও ০/৭১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

নিজ রাজ্য দলের পরিবর্তে অন্য দলের সদস্যরূপে ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা করেন। ২০০৩ সালে মুম্বই ক্রিকেট দলের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিতে আবদ্ধ হন। এখানে থাকাকালেই তাঁর পেস বোলিংয়ে বিচ্ছুরণ ঘটতে শুরু করে। ২০০৮ সালে রাজস্থান রয়্যালসের সাথে খেলেন। তিন মৌসুম সেখানে খেলার পর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে চলে যান। তিন মৌসুম খেলেন ও আইপিএলের ষষ্ঠ আসরের পর কোন দলে খেলার সুযোগ পাননি। ২০১৭ সালের আইপিএল নিলামে গুজরাত লায়ন্সের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে, প্রথম একাদশে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পাননি।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তসলিমা প্যাটেল নাম্নী এক রমণীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

Similar Posts

  • |

    হার্দিক পাণ্ড্য

    ১১ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে গুজরাতের চৌরিয়াশি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে সবিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ১ ইঞ্চি (১.৮৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। হিমাংশু পাণ্ড্য ও মালিনী পাণ্ড্য দম্পতির সন্তান। জন্মের পর থেকেই দারিদ্র্যতার…

  • | |

    বিজয় হাজারে

    ১১ মার্চ, ১৯১৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের সাংলী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের অন্যতম কিংবদন্তীতূল্য ব্যাটসম্যান। চীরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও দলীয় সঙ্গী বিজয় মার্চেন্টকে সাথে নিয়ে বোম্বে স্কুলের অগ্রযাত্রায় অংশ নেন। ভারতীয় ক্রিকেটের শুরুর বছরগুলোয়…

  • | |

    সিদাথ ওয়েতিমুনি

    ১২ আগস্ট, ১৯৫৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৭ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ২৩ টেস্ট…

  • |

    কুশল মেন্ডিস

    ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে মোরাতুয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। উইকেট-রক্ষক ও ব্যাটসম্যানের যৌথ গুণাবলী থাকলেও শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলে শুধুই ব্যাটসম্যান হিসেবে অংশ নিয়েছেন। অপূর্ব কৌশল অবলম্বনে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন। বয়সভিত্তিক খেলায় দ্রুত নিজের উত্থান ঘটান।…

  • |

    পথুম নিসাঙ্কা

    ১৮ মে, ১৯৯৮ তারিখে গলেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কলম্বোভিত্তিক ইসিপাথানা কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ইনিংস উদ্বোধনে মাঠে নামেন। ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাদুরেলিয়া স্পোর্টস ক্লাব ও নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও,…

  • | | | |

    গ্রাহাম গুচ

    ২৩ জুলাই, ১৯৫৩ তারিখে এসেক্সের হুইপস ক্রস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত পেশাদার ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি, স্লিপ অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘জ্যাপ’ কিংবা ‘গুচি’ ডাকনামে ভূষিত গ্রাহাম গুচ ৬ ফুট…