| |

মরিস বার্ড

২৫ মার্চ, ১৮৮৮ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের সেন্ট মাইকেল্স হ্যামলেট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯০৭ থেকে ১৯২১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কোচবিহারের মহারাজা একাদশ ও এসি বার্ড একাদশের পক্ষে খেলেছেন। ১৯০৪ থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত হ্যারো একাদশের সদস্য ছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯০৭ সালে এটন বনাম হ্যারোর মধ্যকার খেলায় দুইটি পৃথক শতরানের ইনিংস খেলে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। হ্যারো দলের সদস্যরূপে চারবার এটনের বিপক্ষে খেলেন। পাশাপাশি সারে দলের ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়ান। এছাড়াও, এমসিসি’র পক্ষে দারুণ খেলেন।

বিদ্যালয় জীবনেই অধিনায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। দীর্ঘ ও সুঠাম দেহের অধিকারী হিসেবে খ্যাতি ও দক্ষতায় অনেকের চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখেন। হ্যারোর পক্ষে প্রথম ইনিংসে পৌনে দুই ঘণ্টায় ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও মারমুখী হন। সোয়া দুই ঘণ্টায় ১৩১ রান তুলতে সমর্থ হন। চমৎকার ব্যাটিং ও সময় উপযোগী ইনিংস ঘোষণার কারণে সাতটা বাজার বিশ মিনিট পূর্বে হ্যারো দল ৭৯ রানে জয় তুলে নেয়।

১৯০৭ সালে নিজ কাউন্টি ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশ নেন। দুই বছর পর সারে দলে যোগ দেন। এর পূর্বে কাউন্টি ক্রিকেটে তেমন উল্লেখযোগ্য কোন সফলতা পাননি। ১৯১১ সালে এইচ. ডি. জি. লেভসন-গাওয়ারের পরিবর্তে সারে দলকে পরবর্তী দুই বছর নেতৃত্ব দেন। ১৯১০, ১৯১১ ও ১৯১৩ সালে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তন্মধ্যে, ১৯১১ সালে নিজস্ব স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করেন। ৩০ গড়ে ১৪০৪ রান তুলেন।

অত্যন্ত চমৎকার মারকুটে ব্যাটসম্যানের খ্যাতি পান। বিশেষতঃ অফ-সাইডে খেলতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ড্রাইভ ও কাটে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশে এগিয়ে আসতেন। মিডিয়াম পেস বোলিং করে এটেনের পক্ষে পাঁচ উইকেট নিয়ে খ্যাতির শিখরে পৌঁছেন। ১৯১১ সালে ২০-এর অল্প বেশী গড়ে ৪৭ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, মাঠে প্রভূত্ব দেখিয়েছেন।

১৯১০ থেকে ১৯১৪ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০৯-১০ মৌসুমের শীতকালে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে হেনরি লেভসন-গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। ১ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হেনরি লেভসন-গাওয়ার, ক্লড বাকেনহাম, বার্ট স্ট্রাডউইকজিএইচটি সিম্পসন-হেওয়ার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয়ক্ষেত্রেই অব্রে ফকনারের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, ০/০ ও ৩/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১৯ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২০ ও ৪৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকে।

১৯১২ সালে ওভালে দুই খেলায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭৬, ৬৮ ও ১১২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

১৯১৩-১৪ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫৭ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৬১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৫৭ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্বে ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৪ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন। সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নিয়ে একবার ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি ৪ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

বিশ্বযুদ্ধের পর হ্যারোতে এম. সি. কেম্পের পরিবর্তে দুই মৌসুম কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর, ওভালেও একই দায়িত্ব ছিলেন। কয়েক বছর অসুস্থ থাকার পর ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে ডরসেটের ব্রডস্টোন এলাকায় মাত্র ৪৫ বছর ২৫৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    মহিদুল ইসলাম অঙ্কন

    ৪ মে, ১৯৯৯ তারিখে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। ‘অঙ্কন’ ডাকনামেই অধিক পরিচিতি লাভ করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেট খেলছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, ঢাকা মেট্রো অনূর্ধ্ব-১৮, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯, খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি, শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব,…

  • |

    জিম কেলি

    ১০ মে, ১৮৬৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার পোর্ট মেলবোর্ন এলাকার কাছাকাছি স্যান্ডব্রিজে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দারুণ উইকেট-রক্ষক হিসেবে প্রায় এক দশক অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বর্ণাঢ্যময় খেলা উপহার দিয়েছেন। স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে বল গ্লাভসবন্দীসহ ব্যাট হাতে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বাক্ষর…

  • |

    মুস্তাফিজুর রহমান

    ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। খুব ছোট বয়স থেকেই ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। বামহাতে পেস বোলিং করেন। ২০১২ সালে ঢাকায় ফাস্ট বোলিং প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেন। ঢাকা থেকে ৩০০ কিলোমিটার…

  • |

    কিম এলজি

    ৬ মার্চ, ১৯৩৩ তারিখে নাটালের বেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।…

  • | |

    ফ্রাঙ্ক পেন

    ৭ মার্চ, ১৮৫১ তারিখে লন্ডনের দ্য সিডার্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নিজের সময়কালে কেন্টের অন্যতম খ্যাতনামা ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছেন। দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।…

  • |

    মাইকেল প্যাপস

    ২ জুলাই, ১৯৭৯ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন। ২০০০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সাথে জুটি গড়ার জন্যে তাঁকে নিউজিল্যান্ড দলে রাখা হয়েছিল। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে…