|

এমজে গোপালন

৬ জুন, ১৯০৯ তারিখে মোরাপ্পাকামে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

মাদ্রাজ ক্রিকেটের হর্তাকর্তা সিপি জনস্টোন সর্বপ্রথম তাঁর ক্রিকেট প্রতিভা সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন। বার্মা শেলে তাঁকে চাকুরী প্রদানে সহায়তা করেন তিনি। এরফলে, নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পান। নিয়োগপ্রাপ্তির পর ত্রিপলিকেন ক্রিকেট ক্লাবে চলে যান। ১৯২৬-২৭ মৌসুম থেকে ১৯৫১-৫২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হিন্দু ও মাদ্রাজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুমে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। মাদ্রাজে জনস্টোনের নেতৃত্বাধীন ইউরোপিয়ান্সের বিপক্ষে ইন্ডিয়ান্সের সদস্যরূপে খেলেন। উভয় ইনিংসের প্রথম ওভারেই সিকে নায়ড়ু’র উইকেট পান। ঐ খেলায় ৫/১০৪ ও ৫/৪৯ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। এরপর থেকে আর তাঁকে পিছনে তাকাতে হয়নি।

১৯৩০-৩১ মৌসুমে ভিজ্জি একাদশের বিপক্ষে প্রথম দুই খেলায় অংশ নিয়ে প্রথমবারের মতো পাদপ্রদীপে চলে আসেন। মাদ্রাজের পক্ষে প্রথম খেলায় ২/২৪ ও ২/৭২ পান। এ পর্যায়ে উভয় ইনিংসেই জ্যাক হবসকে বিদেয় করেছিলেন। দ্বিতীয় খেলায় সম্ভবতঃ তিনি তাঁর সেরা উইকেট লাভে কৃতকার্য হন। লেগ-কাটার পিচে পড়ে লেগ-স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলে ও হবসের ব্যাট পরাস্ত হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে হবস ব্যাটিং না করায় তিন ইনিংসে তিনবার তাঁর উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখান।

১৯৩৪ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে নিজ দেশে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৫ জানুয়ারি, ১৯৩৪ তারিখে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সি.এস. নায়ড়ু, দিলাবর হোসেন ও মুশতাক আলী’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি এক উইকেট ও ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৩৬ সালে ভিজ্জি’র অধিনায়কত্বে ভারত দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। বিনম্র ও মিশুক চিত্তের অধিকারী ছিলেন। সিকে নায়ড়ু মন্তব্য করেছেন যে, ‘তাঁর এ বিনম্র স্বভাবের বিষয়টি হয়তোবা ক্রীড়া জগতে তেমন সাড়া জাগাবে না; তবে, তামার সাথে খাঁটি সোনার তুলনা করলে কম আওয়াজ আসবেই। তিনি সর্বদাই সেরা খেলা উপহার দিতে সচেষ্ট ছিলেন।’

২৬ বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে সব মিলিয়ে ৭৮টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে এক শতক সহযোগে ২৪.৯২ গড়ে ২৯১৬ রান পেয়েছেন। এছাড়াও, ২৪.২০ গড়ে ১৯৪ উইকেট দখল করেছেন। তন্মধ্যে, নয়বার ৫-উইকেট ও তিনবার দশ-উইকেট পান। পাশাপাশি, ৪৯ ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। এক কথায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই মাদ্রাজ ক্রিকেটে প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছিলেন নিজেকে।

প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে অল-রাউন্ডার হিসেবে ক্রিকেট ও সেন্টার ব্যাক অবস্থানে থেকে হকিতে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৩৬ সালে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের অকাল সমাপ্তি ঘটে। মাদ্রাজের ক্রিকেটে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় অবস্থান করেন। শুধুমাত্র ক্রীড়াব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন না, প্রতীক হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটিয়েছিলেন।

ব্যক্তিত্ব, প্রতিভা, ভাবগাম্ভীর্য্যতা ও নিষ্ঠা সহকারে দলীয় সঙ্গীদের কাছ থেকে নিজেকে এগিয়ে রেখেছেন। অভিজাতদের খেলা হিসেবে পরিচিতি ক্রিকেটে স্বীয় গুণে অগ্রসর হয়েছেন ও উভয় ক্রীড়াতেই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। লম্বাটে গড়নের ও চওড়া বক্ষের অধিকারী থেকে সামনের পায়ে ভর রেখে ড্রাইভ মারতেন। চটপটে পেস বোলিং ও পিচে উভয় দিক দিয়েই বোলিং করতেন ছন্দোবদ্ধ দৌঁড়ের সাহায্যে। হকির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মাঠে বেশ দৌঁড়ুতে পারতেন ও বাদ-বাকীদের চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখতেন।

২১ ডিসেম্বর, ২০০৩ তারিখে ৯৪ বছর ১৯৮ দিন বয়সে তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ফলে নিউজিল্যান্ডের ডন ক্লিভার্লি এ সম্মাননার অধিকারী হন।

Similar Posts

  • | |

    ক্রিস ওল্ড

    ২২ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে ইয়র্কশায়ারের মিডলসবোরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। দ্রুত গতিসম্পন্ন ও নিখুঁতমানের সিমার ছিলেন। কিছুটা দেরীতে আউট-সুইঙ্গারে পারদর্শী ছিলেন। বব উইলিস ও ইয়ান বোথামের পর ইংল্যান্ডের তৃতীয় পেসার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের…

  • |

    কিম এলজি

    ৬ মার্চ, ১৯৩৩ তারিখে নাটালের বেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।…

  • |

    ভিনসেন্ট ট্যানক্রেড

    ৭ জুলাই, ১৮৭৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ১৮৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে লর্ড…

  • | |

    নেলসন বেটানকোর্ট

    ৪ জুন, ১৮৮৭ তারিখে ত্রিনিদাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে যুক্ত ছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯০৫-০৬ মৌসুম থেকে ১৯২৯-৩০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    বিজয় ভরদ্বাজ

    ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ তারিখে কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘আর বিজয়’ নামে পরিচিত বিজয় ভরদ্বাজ পরিচ্ছন্ন মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ও অফ-স্পিনার ছিলেন। চশমা পরিধান করে খেলায় নামতেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধারা…

  • | | |

    মার্ক টেলর

    ২৭ অক্টোবর, ১৯৬৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের লিটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেট অধিনায়ক হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ও কার্যকরী অধিনায়কের গুণাবলীর কারণে খেলোয়াড়ী জীবনে ‘টাবি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ…