১ নভেম্বর, ১৮৬৫ তারিখে সারের স্টকওয়েল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
চটপটেসুলভ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মারকুটে ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডালউইচ কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন। ১৮৮৩ সাল থেকে ১৮৮৯-৯০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে ও দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৮ সালে নিজের স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করেন। ২৩ গড়ে ৫১৪ রান তুলেন। সাসেক্সের বিপক্ষে ১৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, ঐ মৌসুমে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে দ্বিতীয়-শ্রেণীর খেলায় ২৪০ মিনিটে ২৮৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
১৮৮৯ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে দুই টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। পাশাপাশি, ২৩ বছর ১৪৪ দিন বয়সে ইংল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়কের স্বীকৃতি লাভের অধিকারী হন। সি. অব্রে-স্মিথের পরিবর্তে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে এ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মেজর হোয়ার্টনের ব্যবস্থাপনায় ১৮৮৮-৮৯ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় এমসিসি দলের প্রথম সফরে যান। জনি ব্রিগস অসম খেলাগুলোয় একাধিপত্য গড়েছিলেন। কেবলমাত্র দুইটি একাদশের খেলা পরবর্তীতে টেস্টের মর্যাদা পায়।
১২ মার্চ, ১৮৮৯ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফ্রাঙ্ক হার্ন, ব্যাসিল গ্রিভ, চার্লস কভেন্ট্রি, আর্নল্ড ফদারগিল ও অব্রে স্মিথের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে রান-আউটের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ৮ উইকেটে জয়লাভ করলে তাঁর দল দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরে ২৫ মার্চ, ১৮৮৯ তারিখে কেপটাউনে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন। নিয়মিত অধিনায়ক সি. অব্রে-স্মিথ টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হলে তিনি অধিনায়কের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১৬ বল খেলে ২৫ রান তুলেছিলেন। ইনিংস ও ২০২ রানে জয়লাভ করে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
স্বল্প কয়েকজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে তিনি কখনো জানতেই পারেননি যে, তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঐ সময়ের খেলাগুলোর গুরুত্বতা খুবই কম ছিল। এমনকি, উইজডেনের তাঁর শোকসংবাদে অধিনায়কত্ব লাভের বিষয়টিও বিবেচনায় আনা হয়নি। একচেটিয়া সিরিজে স্বাগতিক দল পরাজিত হয়। চার ইনিংস থেকে সর্বসাকুল্যের ৩০৩ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিল। সর্বমোট ৮৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২০ গড়ে ২৩১৬ রান এবং ৮৭টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছেন।
এসএস গার্থ ক্যাসেলে দলীয় সঙ্গীরা দেশের পথে রওয়ানা হলেও স্মিথের সাথে তিনি জোহানেসবার্গভিত্তিক স্টকব্রোকার ফার্মে যুক্ত হন। একটিমাত্র খেলা নিয়ে কারি কাপের উদ্বোধনী প্রতিযোগিতার সূত্রপাত হয়। তিনি উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ৬৩ ও ১২৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, গ্লাভস রেখে বোলিং করে ২ উইকেট লাভ করেন। তবে, স্মিথ তাঁর মাঝে অবিশ্বাসযোগ্যতা খুঁজে পান। আমেরিকার পথে রওয়ানা দেন ও চিত্রতারকায় পরিণত হন। বাউডেন খুব শীঘ্রই দেউলিয়া হন ও সেসিল রোডস সেনাবাহিনীর সাথে স্বর্ণের সন্ধানে উত্তরদিকে গমন করেন। সৈনিকদের উচ্চাভিলাসী জীবনযাপনের পর ফেরার পথে হোটেল কর্তৃপক্ষকে অর্থের পরিবর্তে তিনি কারি কাপ প্রদান করেন।
জ্বরে আক্রান্ত হন। সামরিক জীবনে তাঁর মাঝে বিষণ্নতা এনে দেয়। ২৪ অক্টোবর, ১৮৯০ তারিখে তাঁকে মৃত হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু, এ সংবাদটি সত্য ছিল না। তিনি কখনও ভাগ্যের সহায়তা পাননি। মনিকাল্যান্ডে বসবাস করতে থাকেন। জীবিকার সন্ধানে এমপান্ডাস থেকে আমটালি পর্যন্ত মালামাল পরিবহণে নিজেকে জড়ান। প্রচণ্ড গরম, সিংহ, কুমিরের উপযোগী ৩০০ কিলোমিটারের বিপজ্জ্বনক পরিবেশে চলাফেরা করতেন।
মোজাম্বিকের কাছাকাছি এলাকায় আবারও জ্বরের কবলে পড়েন। সুস্থ হবার পর মনিকাল্যান্ডে একটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। আমটালির ম্যাটবিহীন খেলায় চারজন ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করেন। পরদিন জ্বর নিয়ে খেলতে যান। শরীরের তাপমাত্রা ১০৭°ফ হলে আমটালি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯২ তারিখে রোডেশিয়ার আমটালি এলাকায় মাত্র ২৬ বছর ১১০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। সমাহিত করার পূর্বে সিংহের কবল থেকে রক্ষাকল্পে হুইস্কির বাক্স দিয়ে তৈরী কফিনে তাঁর দেহ রাখা হয়।
