১০ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪৭ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্রুক হাউজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইংরেজ ক্রিকেটের ভিত্তি আনয়ণে অনন্য সাধারণ ভূমিকা রাখেন। ‘দ্য বস’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। সর্বদাই সামনের পায়ে ভর রেখে ড্রাইভ মারতেন কিংবা অফ-সাইডে বল ফেলতেন। এছাড়াও, চমৎকার ফিল্ডার হিসেব দলে ভূমিকা রাখতেন।
১৮৬৭ থেকে ১৯০৬ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সব মিলিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে ৩৩ মৌসুম খেলেন। তন্মধ্যে, ১৮৮০ থেকে ১৮৯৩ ও ১৮৯৭ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত মোট ১৭ মৌসুম দলটির অধিনায়কত্ব করেন। দল শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখার ন্যায় আধুনিক ধারনার উৎপত্তি ঘটান ও অস্ট্রেলীয় ধাঁচে ফিল্ডিং সাজাতেন। কভার পয়েন্ট অঞ্চলে অবস্থান করে ৩১৩টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। তাঁর কঠোর তত্ত্বাবধানে দলটি ১৮৮১, ১৮৮২ (যৌথভাবে), ১৮৮৯ ও ১৮৯৭ সালে চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করে। ডিক বার্লোকে নিয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। যেখানে ডিক বার্লো প্রবালপ্রাচীর গড়ে তুলতেন, সেখানে তিনি আক্রমণাত্মক ধাঁচ অবলম্বনে মনোনিবেশ ঘটাতেন।
১৮৭৯ থেকে ১৮৮৪ সময়কালে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৭৮-৭৯ মৌসুমে লর্ড হ্যারিসের নেতৃত্বাধীন শৌখিন দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। ২ জানুয়ারি, ১৮৭৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। আলেকজান্ডার ওয়েব, বানি লুকাস, চার্লি অ্যাবসলম, ফান্সিস ম্যাককিনন, লেল্যান্ড হোন, লর্ড হ্যারিস, স্যান্ডফোর্ড শ্যুলজ ও দ্য রেভারেন্ড ভার্নন রয়্যালের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ফ্রাঙ্ক স্পফোর্থের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করেছিল।
সিডনিতে উত্তেজিত দর্শকেরা তাঁকে ঘেরাও করে ফেলে। ১৮৮২ সালে অবিস্মরণীয় টেস্টে ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিয়ে অ্যাশেজের উৎপত্তিতে অংশ নেন।
১৮৮৪ সালে নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ জুলাই, ১৮৮৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ০ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি রাগবি খেলায় দক্ষ ছিলেন। ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের পক্ষে ফুটবল খেলেছেন। নয়বার ইংল্যান্ড রাগবি ইউনিয়নের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নেন। এছাড়াও, শিকারী ছিলেন। ১৮৯৪ থেকে ১৯১৬ সময়কালে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করতেন। একচ্ছত্র প্রভাব ফেলে সর্বাপেক্ষা ক্ষমতাবান ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান আলবার্ট হর্নবি ল্যাঙ্কাশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিছুকাল অসুস্থ থাকার পর ১৭ ডিসেম্বর, ১৯২৫ তারিখে চেশায়ারের ন্যান্টউইচ এলাকায় ৭৮ বছর ৩১০ দিন বয়সে নিজ গৃহে তাঁর দেহাবসান ঘটে। অতঃপর, কাছাকাছি অ্যাক্টন সমাধিক্ষেত্রে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুকালীন £৬,৪২০ পাউন্ড ১৬ সেন্ট ৫ পেনি মূল্যমানের সম্পদ রেখে যান।
