২৫ জুলাই, ১৯৮২ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিং উইলিয়ামস টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন পেস বোলার হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। ইস্টার্ন কেপের ডেল কলেজে অধ্যয়ন করেন। শুরুতে লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। পরবর্তীতে বহু প্রতিভাবানের সাথে দূরে থাকতে বোলিংয়ের ধরন পরিবর্তন করে ফেলেন। অ্যালান ডোনাল্ডের পরিবর্তে এমফুনেকো এনগামকে স্থলাভিষিক্ত করা হলেও এনগাম আঘাতের কবলে পড়লে তাঁকে এ স্থানে রাখা হয়। দৃশ্যতঃ অ্যালান ডোনাল্ডের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে বিবেচিত হতেন। তবে, ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বর্ডার, কেপ কোবরাস ও ওয়ারিয়র্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আফ্রিকা একাদশের পক্ষে খেলেছেন।
২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট, ১৩টি ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে নিজ দেশে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হন। ৬ ডিসেম্বর, ২০০২ তারিখে ব্লোমফন্তেইনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তীক্ষ্ণ পেস বোলিং করে মারভান আতাপাত্তুকে বিদেয় করে একটি উইকেট পান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বল থেকে এ উইকেট লাভ করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন।
এরপর, ইংল্যান্ড সফরে যান। বোলিংয়ে শুরুরদিকে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখলেও ব্যাট হাতে সুবিধে করতে পারেননি। তবে, ধারাবাহিকতার অভাবসহ আঘাতের বিষয়টিও তাঁকে সমস্যায় ফেলে দেয়।
২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অ্যালান ডোনাল্ডকে পাশ কাটিয়ে তাঁকে দলে রাখা হয়। তবে, বল হাতে সাফল্য পেতে তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। একই বছর গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ আগস্ট, ২০০৩ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাট হাতে বেশ সাফল্য পান। দলের সংগ্রহ ১৪২/৭ থাকাকালে গ্যারি কার্স্টেনের সাথে অষ্টম উইকেটে ১৫০ রানের জুটি দাঁড় করান। সফরকারীরা খেলায় ফিরে আসে ও জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ৫৯ ও ৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। গ্যারি কার্স্টেনের অনবদ্য ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১৯১ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কিন্তু আঘাতের কারণে তাঁকে দলের বাইরে থাকতে হয়।
২০০৮ সালে ভারত সফরে শার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টের অস্বীকৃতিতে তিনি খেলার সুযোগ পান। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় চলে আসেন। এর কারণ ছিল ২০০৭-০৮ মৌসুমে ২০-এর কম গড়ে সর্বাধিক উইকেট সংগ্রহ করেছিলেন।
২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। সেখানে ২৬ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে সাকিব আল হাসানের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, বল হাতে নিয়ে ১/৩২ ও ২/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ৪৮ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ১৯ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। ক্রমাগত পিঠের আঘাতের কবলে পড়লে ২০ মে, ২০১৩ তারিখে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ২৬ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে সিএসএ’র নিয়ন্ত্রণাধীন দল নির্বাচকমণ্ডলীর আহ্বায়ক পদে নিয়োগের লক্ষ্যে স্বাক্ষাৎকারে অংশ নেন।
