১ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে নারায়ণগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করেন। ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বাংলাদেশের স্বল্প কয়েকজন মিডিয়াম-পেসারের অন্যতম। ঘরোয়া ক্রিকেটে দ্রুত উত্থানের স্বীকৃতিস্বরূপ কয়েক বছরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার জন্যে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হন। দীর্ঘ দূরত্ব নিয়ে ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার গতিবেগে হাত পিছনে বাঁকিয়ে জোড়ালো ভঙ্গীমায় বোলিং কর্মে অগ্রসর হয়ে থাকেন। সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় ও ডানহাতি ব্যাটসম্যানদেরকে লক্ষ্য করে বলকে ঘুরাতে পারেন।
শীতলক্ষ্যা নদীর ওপারে নারায়ণগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। কৈশোর অবস্থাতেই ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। এরপর, ঢাকার লীগে যুক্ত থেকে বলিষ্ঠ মানসম্পন্ন পেস বোলিং করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে বেশ ভালোমানের ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রেখে সকলের মন জয় করেন। ২০১১-১২ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে ঢাকা মেট্রোপলিস ও ঢাকা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স ও ঢাকা ডায়নামাইটসের পক্ষে খেলেছেন। ১৭ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগ বনাম রংপুর বিভাগের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এ পর্যায়ে পাঁচ খেলায় অংশ নিয়ে ২৬.০৬ গড়ে ১৫ উইকেট দখল করেছিলেন।
পরের মৌসুমে তেমন ভালো খেলা উপহার দিতে পারেননি। সমসংখ্যক খেলায় অংশ নিয়ে পাঁচ উইকেট পান। তবে, ২০১৩-১৪ ও ১০১৪-১৫ মৌসুমে আরও ভালোমানের ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে তৎপর হন। উভয় মৌসুমেই ১৮ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় মৌসুমটিতে ডিপিএলে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের পক্ষে লিস্ট-এ ক্রিকেটে ২১ উইকেট পেয়েছিলেন।
২০১৫ থেকে ২০১৬ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশের টেস্ট দলে তাঁকে যুক্ত করা হয়। ২০১৫ সালে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নেন। ২৮ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে খুলনায় অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। সৌম্য সরকারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে ১/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, তামিম ইকবালের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে প্রথম তিন টেস্ট থেকে পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন ও বেশ রান খরচ করে ফেলেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে বোলিং করতে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। তবে, অনেক সময়ই বলে পেস আনয়ণের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও, অধিকাংশ বাংলাদেশী পেস বোলারের ন্যায় পুরনো বলে তেমন দক্ষতার সাথে বোলিং করতে পারেননি।
২০১৫ সালে নিজ দেশে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৩০ জুলাই, ২০১৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্টের একমাত্র ইনিংসে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।
২০ জানুয়ারি, ২০১৬ তারিখে খুলনায় অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো খেলেন।
২০১৬ সালের বিপিএল আসরে ঢাকা ডায়নামাইটসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মিতব্যয়ী বোলিংয়ে দলকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখেন। শেষের ওভারগুলোয় দারুণ বোলিং করে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে দলকে ১৯ রানের জয় এনে দেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। ফারজানা নাম্নী এক রমণীকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির এক পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে।
