|

মোহাম্মদ সামি

২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

নতুন প্রজন্মের অন্যতম পাকিস্তানী ফাস্ট বোলার। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন ব্যতিরেকেই টেস্ট দলে ঠাঁই পান। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক ও পাকিস্তান কাস্টমস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আইসিএল পাকিস্তান একাদশ, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, জ্যামাইকা তল্লাজ, করাচী ব্লুজ, করাচী ডলফিন্স, করাচী জেব্রাস, লাহোর বাদশ, সেন্ট লুসিয়া স্টার্স, সিলেট থান্ডার ও টরন্টো ন্যাশনালসের পক্ষে খেলেছেন।

২০০১ থেকে ২০১৬ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে ৩৬ টেস্ট, ৮৭টি ওডিআই ও ১৩টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০০-০১ মৌসুমে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৮ মার্চ, ২০০১ তারিখে অকল্যান্ডে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফয়সাল ইকবাল, ইমরান ফারহাত ও মিসবাহ-উল-হকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। অভিষেক টেস্টে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করে তাৎক্ষণিক সফলতা পান। খেলায় তিনি ৩/৭০ ও ৫/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৯৯ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

এরপর, নিজস্ব তৃতীয় টেস্টে হ্যাট্রিক লাভের গৌরব অর্জন করেন। এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের চূড়ান্ত খেলায় শ্রীলঙ্কার শেষ তিন উইকেট নিয়ে এ সফলতা পান। শুরুরদিকে বছরগুলোয় এ ধরনের সফলতার প্রেক্ষিতে ওয়াসিম আকরামওয়াকার ইউনুসের অবসর গ্রহণের তাঁকে সম্ভাব্য উত্তরসূরী হিসেবে ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা চিত্রিত করে আসছিলেন। তবে, ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শেষে তাঁর কাহিনী থেমে যায় ও মুখ থুবড়ে পড়ে।

সিরিজের পর সিরিজে ব্যর্থ হতে থাকেন এবং উদীয়মান পেসার রানা নাভেদ-উল-হাসান, উমর গুল, মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমিরের উত্থান ঘটে। খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময়ই তিনি কার্যতঃ অকার্যকর ভূমিকা রেখেছেন ও অনেক রান খরচ করে ফেলেন।

২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৩ জানুয়ারি, ২০০৬ তারিখে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০০৬ সালের শুরুতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলার পর দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে শ্রীলঙ্কা গমনার্থে দল থেকে বাদ পড়েন। সৌভাগ্যবশতঃ ঐ বছরের গ্রীষ্মকালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে দলে রাখা হয়। এ পর্যায়ে অবশ্য পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় বোলারদের আঘাতপ্রাপ্তির কারণে এ সুযোগ পেয়েছিলেন।

নিশ্চিতভাবে কেউই তাঁর সমস্যা কোথায় লুকিয়ে আছে তা ধরতে পারেননি। বোলিং আক্রমণ পরিচালনায় তাঁকে নতুন বল দেয়া হয়, প্রথম পরিবর্তিত বোলার হিসেবেও তাঁকে খেলানো হয়। দলের অন্যতম শারীরিকভাবে সচেতন খেলোয়াড় ও দৌঁড়ুতে পটুতা দেখিয়েছেন। স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করে বেশ উঁচু ভঙ্গীমা প্রদর্শনে বলে বিস্ময়করভাবে বেশ ভালোমানের পেস আনয়ণে সক্ষমতা দেখান। ঘণ্টাপ্রতি আশি থেকে নব্বুই মাইল বেগে বোলিং করতেন। এছাড়াও, প্রচলিত আউট-সুইং ও রিভার্স-সুইংসহ ইয়র্কারেও দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন।

পাকিস্তান দলে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার শঙ্কা নিয়ে অনুমোদনবিহীন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। এক পর্যায়ে সম্পর্কচ্ছেদ করে পুণরায় ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে আসেন। ২০০৯ সালের শেষদিকে পাকিস্তানের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান।

২০১২ সালে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৮ জুলাই, ২০১২ তারিখে পল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৯ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৬৯ ও ০/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। তবে, আসাদ শফিকের ব্যাটিং দৃঢ়তায় টেস্টটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্ট পরিণত হয়েছিল।

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন।

Similar Posts

  • |

    স্টিভেন জ্যাক

    ৪ আগস্ট, ১৯৭০ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন ও আক্রমণাত্মক বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ…

  • |

    হেমাঙ্গ বাদানি

    ১৪ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। মাঝারীসারিতে পরিচ্ছন্ন ও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মাঠে সজীব ভূমিকায় অগ্রসর হতেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে বেশ কয়েকজন অল-রাউন্ডারের অন্যতম হিসেবে তাঁকে ভারত দলে…

  • |

    জোশ টাং

    ১৫ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আর.বি. টাং নামীয় ভ্রাতা রয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অভিষেক মৌসুমে অসাধারণ খেলা উপহার দিয়ে ইংরেজ ক্রিকেটে অসাধারণ ও সম্ভাবনাময় ফাস্ট বোলার হিসেবে…

  • |

    হিথ ডেভিস

    ৩০ নভেম্বর, ১৯৭১ তারিখে ওয়েলিংটনের লোয়ার হাটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মহৎ হৃদয়ের অধিকারী…

  • |

    মনোজ প্রভাকর

    ১৫ এপ্রিল, ১৯৬৩ তারিখে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৪ থেকে…

  • |

    ইমাম-উল-হক

    ২২ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। ২০১০-এর দশকের শেষদিক থেকে পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। চশমা পরিধান করেন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান না হলেও সচরাচর ড্রাইভের দিকেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রচণ্ড চাপ সামলে নেয়ার ক্ষমতা রাখেন। প্রধান দল নির্বাচক ইনজামামাম-উল-হকের ভ্রাতৃষ্পুত্র হলেও…