| |

মোহাম্মদ নাজির

৮ মার্চ, ১৯৪৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘নাজির জুনিয়র’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম থেকে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান রেলওয়ে ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৬৯ থেকে ১৯৮৪ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্ট ও চারটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৪ অক্টোবর, ১৯৬৯ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নিয়ে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবনের যাত্রা শুরু করেন। জহির আব্বাস, সাদিক মোহাম্মদইউনুস আহমেদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে ৭/৯৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। পরবর্তীতে এটিই তাঁর ব্যক্তিগত সেরা বোলিংয়ের মর্যাদা পায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ০/১৫ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৯* ও ১৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

তবে, ঐ সিরিজের পর পরবর্তীতে তিনি আর মাত্র তিন উইকেট লাভ করতে সক্ষম হন। ফলশ্রুতিতে, তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। ১৯৭১ ও ১৯৭৪ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। এছাড়াও, একই দলের বিপক্ষে ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে আরও একটি টেস্টে অংশ নেন। কিন্তু, উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলা প্রদর্শন করতে থাকেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে পুণরায় তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চার টেস্টে অংশ নিয়ে ১৬ উইকেট পান। তন্মধ্যে, ফয়সালাবাদ টেস্টে ১২০ রান খরচায় ৮ উইকেট পান। এরপর, তাঁকে আবারও দলের বাইরে রাখা হয়। ৩৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ নাজিরের আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন দৃশ্যতঃ শেষ পর্যায়ে অবস্থান নেয়।

১৯৮১-৮২ মৌসুমে ১৪.৬৭ গড়ে ৮৬ উইকেট ও পরের বছর ২০.৭২ গড়ে ৭০ উইকেট পান। এরফলে, তাঁকে ভারতের বিপক্ষে খেলার জন্যে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। প্রথম দুই টেস্টে কোন উইকেট লাভ করতে না পারলেও শেষ খেলায় ১২২ রান খরচায় ৭ উইকেট পেয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, অস্ট্রেলিয়া গমনার্থে তাঁকে দলে রাখা হয়। নিজস্ব শেষ তিন টেস্টে অংশ নিলেও সেখানে তাঁর বোলিংয়ের ধার ছিল না।

১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে জহির আব্বাসের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৯ ডিসেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় অংশ নেন। ০/৩৭ ও ০/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক কিম হিউজের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

বয়সের সাথে তুলনান্তে নিজেকে সজীব রেখেছিলেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে সেরা মৌসুম অতিবাহিত করেন। ১৪.৪২ গড়ে ৮৮ উইকেট পেয়েছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিত্বের দিকে ধাবিত হন। আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হিসেবে চারটি টেস্ট ও এগারোটি ওডিআই পরিচালনা করেছেন তিনি। ২১ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে লাহোরে ৭৮ বছর ২৫৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    সেনুরান মুতুস্বামী

    ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে মাঝারিসারির নিচেরদিকে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘সেন’ ডাকনামে পরিচিতি পেয়েছেন। ডারবানভিত্তিক ক্লিফটনে অধ্যয়ন করেছেন। প্রথম গ্রেড থেকেই উচ্চ সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ লাভ করতে থাকেন। প্রাদেশিক পর্যায়ের অনূর্ধ্ব-১১ থেকে…

  • | | |

    অ্যাশলে ডি সিলভা

    ৩ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও রেফারি। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ১৯৯০-এর দশকের সূচনালগ্ন পর্যন্ত কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলতেন। শ্রীলঙ্কা দলে মানসম্পন্ন…

  • | |

    ঋষিকেশ কানিতকর

    ১৪ নভেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে মহারাষ্ট্রের পুনেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হেমন্ত কানিতকর ভারত ও মহারাষ্ট্রের পক্ষে খেলেছেন। ভ্রাতা আদিত্য গল্ফ এবং বৌমা ও শ্যালিকা রাধিকা তুলপুলে টেনিস খেলোয়াড়…

  • |

    ক্লড ফ্লোকেট

    ৩ নভেম্বর, ১৮৮৪ তারিখে কেপ কলোনির আলীওয়াল নর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৪-০৫ মৌসুম থেকে ১৯১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…

  • | |

    অ্যান্ডি ওয়ালার

    ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘বান্ডু’ ডাকনামে পরিচিতি পান। দীর্ঘদেহী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ক্রমাগত আঘাত ও তামাক চাষে জড়িত থাকায় খেলোয়াড়ী জীবন উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জনপ্রিয় ছিলেন ও বিনোদনধর্মী…

  • |

    লাসিথ এম্বুলদেনিয়া

    ২৬ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে খেলছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কলম্বোভিত্তিক রয়্যাল কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। রঙ্গনা হেরাথকে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেছেন। রঙ্গনা হেরাথের ন্যায় তিনিও টেস্টভুক্ত সকল দেশের বিপক্ষে পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করার স্বপ্ন দেখেন। ধারাবাহিকতা…