| |

মোহাম্মদ কাঈফ

১ ডিসেম্বর, ১৯৮০ তারিখে উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও রাজনীতিবিদ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ব্যস্ত ও অস্থির ভঙ্গীমায় ক্রিজে অবস্থান করতেন। বিস্তৃত স্ট্রোকের পাশাপাশি উইকেটে প্রান্ত বদলে তৎপর ছিলেন। কভার ও কভার পয়েন্ট অঞ্চলেই বল পাঠাতেন বেশী। উইকেট-রক্ষক না হয়েও ২০০৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার এক খেলায় প্রথমবারের মতো ৪ ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে উত্তরপ্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার ও ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন। উত্তরপ্রদেশের প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন। ২০০৫-০৬ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে দলকে নেতৃত্ব দেন। ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ মৌসুমে দলকে চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। ২০১৫-১৬ মৌসুমে অন্ধ্রপ্রদেশের অধিনায়কের দায়িত্বে থাকেন। এ মৌসুম পর ছত্তিশগড়ের প্রথম অধিনায়ক হন।

জুন, ২০০০ সালে এসএস দাস ও শ্রীধরন শ্রীরামের সাথে বর্ডার-গাভাস্কার বৃত্তি লাভ করেন। ২০০০ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ভারত দলের নেতৃত্বে ছিলেন। দুই মাস পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

২০০০ থেকে ২০০৬ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্ট ও ১২৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২ মার্চ, ২০০০ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। নিখিল চোপড়া’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১২ ও ২৩ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। নিকি বোয়ে’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭১ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

তবে, একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার পর বাদ পড়েন। এক বছরের অধিক সময় তেমন মন্দ না খেললেও দলে তাঁকে ডাকা হয়নি। এরপর থেকে টেস্ট দলে আসা-যাবার পালায় থাকতেন। প্রকৃতপক্ষে দলে স্বীয় স্থান পাকাপোক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তাসত্ত্বেও, ২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬৪ ও ৫৫ রানের উপর্যুপরী ইনিংস উপহার দিতে সক্ষম হন।

২০০৫-০৬ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ রানকে স্ফীততর করে তুলেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা ক্রিজে থেকে ৯১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ পর্যায়ে সপ্তম উইকেট জুটিতে অনিল কুম্বলে’র সাথে ১২৮ রান যুক্ত করে দলকে বিপদ থেকে মুক্ত করেন। তিন মাস বাদে ২০০৬ সালে রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। গ্রোস আইলেটে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৪৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ঐ সিরিজে ৫৭ গড়ে রান পেলেও আর তাঁকে দলে রাখা হয়নি।

৩০ জুন, ২০০৬ তারিখে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৩ ও ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ৪৯ রানে জয়লাভ করে ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে জয় পায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টের ন্যায় ওডিআইয়েও তাঁর ব্যাটিং গড়ে ৩২-এর কোঠায় ছিল। ২৮ জানুয়ারি, ২০০২ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ২০০২ সালে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় নিজস্ব সেরা ইনিংস খেলেন। দলের সংগ্রহ ১৪৬/৫ থাকার পর শেষ ওভারে ৩২৬ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেন। ৭৫ বল মোকাবেলায় ৮৭ রান তুলে তিনি অপরাজিত ছিলেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পরের খেলায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অংশ নিয়ে ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। সাত নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর এ সংগ্রহটি ওডিআইয়ের ইতিহাসে তৎকালীন সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল।

২০০৮ সালে আইপিএলের শিরোপাধারী দল রাজস্থান রয়্যালসের সদস্য ছিলেন। এরপর তিনি কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের সহকারী কোচের দায়িত্বে রয়েছেন। রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের ফুলপুর নির্বাচনী এলাকা থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হন। তবে, নির্বাচনে সফলতা পাননি। শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন ও তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। তাঁর পিতা তারিফ ও সাঈফ নামীয় ভ্রাতা রঞ্জী ট্রফিতে অংশ নিয়েছেন।

Similar Posts

  • | |

    স্কচ টেলর

    ২৫ জুলাই, ১৯২৫ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, উইওয়াটারস্রান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে খনিবিষয়ক ডিগ্রীধারী হন। ইনিংস উদ্বোধনে নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিতেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম…

  • |

    নরম্যান মার্শাল

    ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৪ তারিখে বার্বাডোসের ওয়েলচম্যান হল প্ল্যান্টেশন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ফাউন্ডেশন স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৩৯ সালে ফাউন্ডেশন স্কুল ত্যাগ করে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে যোগ দেন। অফ-স্পিন বোলিংয়ে বেশ মিতব্যয়ীতার স্বাক্ষর রাখেন ও…

  • |

    মঈন আলী

    ১৮ জুন, ১৯৮৭ তারিখে বার্মিংহামে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলে থাকেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘মো’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী মঈন আলী মোজলে স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। কিশোর বয়সেই তাঁর মাঝে দ্রুত রান সংগ্রহের প্রবণতা লক্ষ্য…

  • | |

    বিজয় যাদব

    ১৪ মার্চ, ১৯৬৭ তারিখে উত্তরপ্রদেশের গণ্ডা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। উইকেট-রক্ষণে তাঁর সহজাত দক্ষতা ছিল। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হরিয়াণার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে রঞ্জী…

  • | |

    নবজ্যোৎ সিং সিঁধু

    ২০ অক্টোবর, ১৯৬৩ তারিখে পাঞ্জাবের পাতিয়ালায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শেন ওয়ার্ন ও মুত্তিয়া মুরালিধরনের বিপক্ষে সমানে লড়াইকারী হিসেবে এবং সুনীল গাভাস্কার ও বীরেন্দ্র শেহবাগের মাঝামাঝি সময়কালে ভারতের সেরা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভুত হয়েছিলেন। কেবলমাত্র…

  • |

    সোহাগ গাজী

    ৫ আগস্ট, ১৯৯১ তারিখে বরিশালে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রকৃত মানসম্পন্ন অফ-স্পিনার হিসেবে বরিশালের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা পটুয়াখালী থেকে এসে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে যুক্ত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের অন্যতম উদীয়মান ধীর গতিসম্পন্ন বোলাররূপে স্বীকৃতি…