১১ জুন, ১৯৫১ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ছোটখাটো গড়নের শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৮৩ সালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। সবগুলো আন্তর্জাতিকই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। জিম্বাবুয়ের মাটিতে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকে অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। তবে, বাদ-বাকী খেলাগুলোয় আর তেমন ভূমিকা রাখতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, নিউজিল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে দলের সদস্যরূপে রাখা হয়।
১৯৮২-৮৩ মৌসুমে সোমাচন্দ্র ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে নিউজিল্যান্ড সফর করেন। ২ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে ডুনেডিনে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ৪ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। সুশীল ফার্নান্দো, গাই ডি অলউইস, রুমেশ রত্নায়েকে, শ্রীধরন জগন্নাথন, বিনোদন জন ও যোহন গুণাসেকেরা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। স্বীয় ভ্রাতা সিদাথ ওয়েতিমুনি’র সাথে একত্রে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। এরফলে, ইএম গ্রেস ও ডব্লিউজি গ্রেস এবং হানিফ মোহাম্মদ ও সাদিক মোহাম্মদের পর তৃতীয় ভ্রাতৃদ্বয় হিসেবে একই টেস্টে ইনিংসের গোড়াপত্তনে নামার গৌরব অর্জন করেন। ১৭ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ওয়ারেন লিসের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৫ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এ সফরের চার ইনিংস মিলিয়ে সর্বমোট ২৮ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। একই সফরের ১১ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। এছাড়াও, এটি নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম ঘটনা হিসেবে উপর্যুপরী দুই-টেস্ট জয় ছিল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এগুলোই তাঁর সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা ছিল। খেলাগুলোর প্রথমটিতে ইনিংস উদ্বোধনে কনিষ্ঠ ভ্রাতা সিদাথ ওয়েতিমুনি’র সাথে জুটি গড়েছিলেন। এরফলে, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ভ্রাতাদের একত্রে ইনিংস উদ্বোধনের সাথে মাত্র তিনটি ঘটনার একটিতে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন।
খেলোয়াড়ী জীবন বেশ সংক্ষিপ্ত সময়ের ছিল। সব মিলিয়ে মাত্র নয়টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে দুইটি টেস্ট ছিল। কোন টেস্টই শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ পাননি। এ খেলাগুলো ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে চার মাসের অল্প বেশীদিন নিয়ে সম্পন্ন হয়।
২০ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে ৬৭ বছর ২২৩ দিন বয়সে কলম্বোয় তাঁর দেহাবসান ঘটে। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা সুনীল ওয়েতিমুনি শ্রীলঙ্কার টেস্ট মর্যাদাপ্রাপ্তির পূর্বে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
