| |

মাইক শ্রিম্পটন

২৩ জুন, ১৯৪০ তারিখে মানাওয়াতুর ফিল্ডিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দীর্ঘদিন হকস বে’র ক্রিকেটে তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। হক কাপে হকস বে’র পক্ষে ৪০ খেলায় অংশ নেন ও ডিস্ট্রিক্টস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বাধিক রান সংগ্রাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৬১-৬২ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে ১২২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ১৯৬৯-৭০, ১৯৭২-৭৩ এবং ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৯৬৩ থেকে ১৯৭৪ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে দশ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৬২-৬৩, ১৯৬৫-৬৬ ও ১৯৭০-৭১ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডে সফররত শক্তিধর এমসিসি দলের বিপক্ষে সাত টেস্ট খেলেন। এছাড়াও, ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নিজ দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি ও ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় দুই টেস্ট খেলেছিলেন।

১৯৬২-৬৩ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ মার্চ, ১৯৬৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্রুস মরিসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাট হাতে নিয়ে ২৮ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৪৭ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১৫ মার্চ, ১৯৬৩ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৮ রান অতিক্রম করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৩১ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেন। ৪ মার্চ, ১৯৬৬ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩১ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৩৮ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়।

১৯৭০-৭১ মৌসুমে নিজ দেশে রে ইলিংওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ককে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ০/১। বল হাতে নিয়ে ৩/৩৫ ও ০/২১ লাভ করেন। খেলায় তিনি ০ ও ৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ডেরেক আন্ডারউডের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৫ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৩৯ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বোচ্চ সংগ্রহে পরিণত হয়েছিল। এছাড়াও, ০/২৯ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে বেভান কংডনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ২/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়া, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৬ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দল ইনিংস ও ২৫ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, একই সফরের ৫ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। এ টেস্টে তিনি ০ ও ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। নিউজিল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯, নিউজিল্যান্ড ডেভেলপম্যান্ট, নিউজিল্যান্ড এমার্জিং প্লেয়ার্স ও নিউজিল্যান্ড একাডেমির কোচ ছিলেন। এছাড়াও, নিউজিল্যান্ড মহিলা ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পরিচালনায় হোয়াইট ফার্নস ২০০০ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার শিরোপা জয় করেছিল। প্রাপ্ত উপহার হিসেবে ব্যাটটি পরবর্তীতে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসে দান করেন ও ঐ অঞ্চলে মাইক শ্রিম্পটন ট্রফি নামে মহিলাদের দলের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

নিউজিল্যান্ডের দল নির্বাচক ছিলেন ও সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন। ২০০৬-০৭ মৌসুমে ক্রিকেটে অনবদ্য ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বার্ট সাটক্লিফ পদক লাভ করেন। ১৩ জুন, ২০১৫ তারিখে ৭৪ বছর ৩৫৫ দিন বয়সে হ্যাস্টিংসে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ২০ জুন, ২০১৫ তারিখে ন্যাপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কের চ্যাপম্যান প্যাভিলিয়নের পেটিগ্রিউ লাউঞ্জে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

Similar Posts

  • | | |

    হিমু অধিকারী

    ৩১ জুলাই, ১৯১৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী এবং অত্যন্ত সম্মানীয় ভারতীয় ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। এছাড়াও, সেনাবাহিনীতে যুক্ত ছিলেন তিনি। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যতিক্রমধর্মী ফিল্ডার হিসেবে তিনি ফিল্ডিংয়ের গুরুত্বতা সম্পর্কে সতীর্থদেরকে অবহিত করে গেছেন। সামরিক শৃঙ্খলাকে উপজীব্য করে ঐ সময়ের ভারতীয় ক্রিকেটে…

  • |

    ক্লড বাকেনহাম

    ১৬ জানুয়ারি, ১৮৭৬ তারিখে লন্ডনের হার্ন হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ডালউইচের অ্যালিয়েন স্কুলে অধ্যয়ন করেন। তবে, লেটনে এসে ক্রিকেটের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। গোঁফের কারণে বর্ণাঢ্যময়…

  • | | |

    গ্রায়েম পোলক

    ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৪ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটিয়েছেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    গ্রেগ ম্যাথুজ

    ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নিউক্যাসল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কিশোর বয়সে রাগবি খেলায় মনোনিবেশ ঘটালেও পরবর্তীতে ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকে পড়েন। শুরুতে অফ-স্পিনার ও অসাধারণ ফিল্ডার হিসেবে খেলায় প্রভাব ফেলতেন। তবে, উচ্চ…

  • | |

    ফিল এমরি

    ২৫ জুন, ১৯৬৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সেন্ট ইভস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯৯০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ফিল্থি’, ‘স্লিঙ্ক’ কিংবা ‘ফ্যাটি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে দূর্দান্ত খেলতেন। প্রায়শঃই দলের আপদকালীন নিচেরসারিতে নেমে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ…

  • |

    রে লিন্ডওয়াল

    ৩ অক্টোবর, ১৯২১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের মাস্কট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নান্দনিক নির্যাস ও বিশুদ্ধতাকে ক্রিকেটীয় সৌন্দর্য্যে উপস্থাপন করেছিলেন। দৌঁড়ে উইকেটে চলে যেতেন না। দৌঁড়ের শেষদিকে গতি বাড়িয়ে দিতেন ও বাহু মেলে…