১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ, প্রশাসক ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
আধুনিক ক্রিকেটে অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। খুব সম্ভবতঃ ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা সহজাত খেলোয়াড় ছিলেন। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে দক্ষিণ আফ্রিকার নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লে নিজের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাতে পারেননি। অসাধারণ ফাস্ট বোলার হিসেবে অধিকাংশ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
‘প্রোক’ কিংবা ‘প্রোকি’ ডাকনামে ভূষিত মাইক প্রোক্টর নাটালভিত্তিক হিল্টন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া, নাটাল, অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
অনেকটা নাটকীয়ভাবে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। নিকটতম বোলারের চেয়ে ২৭ উইকেট বেশী নিয়েছিলেন। দক্ষতার পরিপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ ও পেশাদারী মনোভাবের পরিচয় দেন। ঐ দশকে গ্লুচেস্টারশায়ারের সর্বাপেক্ষা সফলতম মৌসুম অতিবাহিত করে। কাউন্টির উত্থানে বিরাট ভূমিকা রাখেন। দুই মৌসুমে একদিক দিয়ে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬৮ সালে ‘ডাবল’ লাভের দিকে ধাবমান অবস্থায় হাঁটুতে চোট পান। এ বছর গ্লুচেস্টারশায়ারের ক্যাপ লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে ক্লাবের আর্থিক সুবিধে গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন ও ১৫,৫০০ পাউন্ড-স্টার্লিং পান। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত অধিনায়কত্ব করেন। শেষ বছর তাঁর ব্যাটিংয়ে অবনমন ঘটলেও দূর্দান্ত বোলিং করেছিলেন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই সিরিজে খেলেছেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২০ বছর বয়সে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখ ডারবানের ওল্ড কিংসমিডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। প্যাট ট্রিমবর্নের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শুরুরদিকে বোলিংয়ে নেমে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ককে বিদেয় করে প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ১৪ ওভার বোলিং করে ৩/২৭ পান ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৪/৭১ পেলে খেলায় ৯৮ রান খরচায় ৭ উইকেট দখল করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখে জোহানেসবার্গের নিউ ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তিনি ৪/৩২ ও ২/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৬৯-৭০ মৌসুমে নিজ দেশে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২২ জানুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৬ রান অতিক্রম করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে এ সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২২ ও ৪৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩০ ও ৪/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১৭০ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৫ মার্চ, ১৯৭০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে জিডি ম্যাকেঞ্জিকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৩২। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। বল হাতে নিয়ে ৩/৩০ ও ৬/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২৬ ও ২৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। সফরকারীদের বিপক্ষে স্বাগতিকরা ৩২৩ রানে জয় পেলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ১৭.৫৩ গড়ে ১৫ উইকেট নিয়ে বোলিং গড়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করেন।
টেস্টগুলো থেকে ১৬ গড়ে ৪১ উইকেট ও ব্যাট হাতে ৩৪.৮৩ গড়ে রান পেয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৪১৭ উইকেট ও ২১৯৩৬ রান সংগ্রহ করেছেন। ১৯৭০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। এরপূর্বে ১৯৬৭ সালে সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট অ্যানুয়েল বর্ষসেরা ক্রিকেটার, ১৯৭০ ও ১৯৭৭ সালে প্রফেসনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন বর্ষসেরা ক্রিকেটার, ১৯৭৮ সালে ইংরেজ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দ্য ক্রিকেট সোসাইটি উইদেরাল শীর্ষস্থানীয় অল-রাউন্ডার পুরস্কার ও ১৯৭৯ সালে ওয়াল্টার লরেন্স ট্রফি লাভ করেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ৪৭ টেস্ট, ১৬২টি ওডিআই ও ১৫টি টি২০আই পরিচালনা করেছেন।
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে ডারবানে ৭৭ বছর ১৫৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
