২১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৩ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট, অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৫-০৬ মৌসুম থেকে ১৯৩০-৩১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সচরাচর ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। অনেকগুলো বছর কেপটাউনের পক্ষে খেলেছেন। ১৯১২ সালের নিজের স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করেন। এ পর্যায়ে সহস্র রান সংগ্রহের মাইলফলক স্পর্শ করেন। বিশের বয়সের শুরুরদিকে থেকে ৪৭ বছর বয়সে এসে কারি কাপ প্রতিযোগিতায় ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে খেলেছেন। এরপর, অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটে যোগ দেন। দলটির সদস্যরূপে এস. কে. কোয়েনের (১৬৫) সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ৩০৫ রান তুলে নতুন রেকর্ড দাঁড় করান। তিনি ১৮৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পরবর্তীতে, গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের পক্ষে খেলেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯১০ থেকে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। নিজ দেশে ১৯০৯ সালে ও ১৯২৭ সালে যথাক্রমে পাঁচ ও দুই এবং ১৯২৪ সালে এইচ. ডব্লিউ. টেলরের নেতৃত্বাধীন দলের সহঃঅধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে ইংল্যান্ড সফরে পাঁচ টেস্ট খেলেন।

১৯০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে হেনরি লেভসন-গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বিলি জাল্ক, লুইস স্ট্রিকার ও টম ক্যাম্পবেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৮ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ১৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩০ রান অতিক্রম করেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত ১ ও দলীয় সংগ্রহ ৩১/১ থাকাকালে আঘাতের কবলে পড়েন। তবে, দলের সংগ্রহ ৫৭/২ থাকাকালে পুণরায় মাঠে ফিরে আসেন। খেলায় তিনি ৩৯ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এছাড়াও, ১৯১১ সালে পি. ডব্লিউ. শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেছিলেন। তবে, কোন টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি।

১৯২৪ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৪ জুন, ১৯২৪ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী অংশ নেন। এ. ই. আর. জিলিগান ও এম. ডব্লিউ. টেট অপরিবর্তিত থেকে বোলিং করলে সফরকারীরা প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩০ রানে গুটিয়ে যায়। খেলায় তিনি অপরাজিত ১ ও ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৮ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯২৭-২৮ মৌসুমে নিজ দেশে রনি স্ট্যানিফোর্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯২৭ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ৪৭ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ৮৭ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ১৬.৯০ গড়ে ৩৫৫ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। আউট-সাইড কিংবা ইনসাইড-রাইট অবস্থানে ফুটবল খেলতেন। সাউথ আফ্রিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ছিলেন ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এফ.এ’র প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন।

২৮ জুলাই, ১৯৫৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের সী পয়েন্ট এলাকায় ৭৩ বছর ১৫৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর সম্মানার্থে কেপটাউনভিত্তিক ক্লাব ক্রিকেটে সেরা ফিল্ডারকে মিক কোমেইল ট্রফি পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয়।

Similar Posts

  • |

    জহির খান

    ৮ অক্টোবর, ১৯৭৮ তারিখে মহারাষ্ট্রের শ্রীরামপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রকৃত মানসম্পন্ন ভারতীয় ফাস্ট বোলার ছিলেন। পুরনো বলকে ঘুরাতে পারতেন ও ইয়র্কারের সমন্বয়ে বোলিং আক্রমণ কার্য পরিচালনা করতেন। ক্রিকেটের জন্যে প্রকৌশলী হতে…

  • |

    মোহাম্মদ রমজান

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৯৭০ তারিখে পাঞ্জাবের লায়লপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ২০০৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ফয়সালাবাদ, খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, পাকিস্তান কাস্টমস, পাকিস্তান…

  • |

    মালিঙ্গা বান্দারা

    ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে নাগোদা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শৈশবকাল থেকেই লেগ-স্পিনার হিসেবে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। বিদ্যালয় জীবনে ক্রিকেট খেলতেন। খেলায় ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের উপর ভিত্তি করে ১৯৯৭ সালে ভারত গমনার্থে শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের…

  • |

    জর্জ গান

    ১৩ জুন, ১৮৭৯ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের হাকনল টর্কার্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খুব সম্ভবতঃ নটিংহ্যামশায়ারের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। দলটিতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।…

  • |

    রাজেশ চৌহান

    ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে বিহারের রাঁচিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মধ্যপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে মধ্যপ্রদেশ…

  • | |

    আজহার মাহমুদ

    ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫ তারিখে পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে এগিয়ে আসতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মানসিক দৃঢ়তায় উজ্জ্বীবিত অবস্থায় অল-রাউন্ডার ও যুদ্ধংদেহী মনোভাবের অধিকারী ব্যাটসম্যান ছিলেন। তিনটি শতকের সবকটিই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করার মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবন…