২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ওয়াগা ওয়াগায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ‘স্ল্যাটস’ ডাকনামে পরিচিত মাইকেল স্ল্যাটার আগ্রাসী ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে সম্যক পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
তাঁর পরিবার ক্রিকেটের সাথে জড়িত ছিল। ফলশ্রুতিতে, খুব ছোটবেলা থেকেই এ খেলায় হাতেখড়ি ঘটে তাঁর। বিদ্যালয় জীবনে অনূর্ধ্ব-১২, অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৭ রাজ্য হকি দলের পক্ষে খেলেছেন। ক্রিকেটের দিকেই অধিক ঝুঁকে পড়েন ও নিউ সাউথ ওয়েলস অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অধিনায়করূপে মনোনীত হন। আঘাতের ফলে এক পর্যায়ে ক্রিকেট খেলা থেকে নিজেকে সড়িয়ে রাখেন। পরবর্তীতে আবারও ক্রিকেট খেলায় অংশ নিতে থাকেন। জাতীয় প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব-১৯ রাজ্য দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনয়ন লাভ করেন।
১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯১ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলার পূর্বে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট একাডেমির সাথে যুক্ত ছিলেন।
১৯৯৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়কালে সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৭৪ টেস্ট ও ৪২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৩ সালে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৩ বছর বয়সে ৩ জুন, ১৯৯৩ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্রেন্ডন জুলিয়ানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক খেলায় অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। খেলায় তিনি ৫৮ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, শেন ওয়ার্নের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৭৯ রানে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
লর্ডস টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। পরবর্তী খেলাগুলোয়ও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে থাকেন। একই বছরের ৯ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম ওডিআইয়ে অংশ নেন। তবে, তেমন সুবিধে করতে পারেননি।
১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১২ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে পার্থে সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১০ ও ৯৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অ্যান্ড্রু জোন্সের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২৬ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে হোবার্টে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৫২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৬৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মার্ক ওয়াহ’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২২২ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে নিজ দেশে ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। এ সিরিজে ৬২৩ রান তুলে শীর্ষ রান সংগ্রহকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এছাড়াও, পরবর্তী মৌসুমে পার্থের ওয়াকায় সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম দ্বি-শতক হাঁকান। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৩ রান তুলে দলকে জয় এনে দেন। এ পর্যায়ে তিনি দলের মোট সংগ্রহের ৬৬.৮৪% রান সংগ্রহ করেছিলেন।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৩ এপ্রিল, ১৯৯৯ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৩ ও ৪৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জাস্টিন ল্যাঙ্গারের অসামান্য ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১৭৬ রানে জয় পেলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজটি ড্র করতে সমর্থ হয়।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৯৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
একই মৌসুমে নিজ দেশে ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৫ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ১৬৯ ও ৩২* রান সংগ্রহ করেন। তাঁর অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলায় পাকিস্তান দল ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করে ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৪ মার্চ, ২০০০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৬৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৪৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১৪২ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। প্রসঙ্গতঃ, এটিই উভয় দলের মধ্যকার উদ্বোধনী টেস্ট ছিল। ১৪ অক্টোবর, ১৯৯৯ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র-টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করে।
২০০১ সালে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৬ আগস্ট, ২০০১ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২১ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মার্ক বুচারের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্য কর্মের সাথে জড়ান।
