|

মাইকেল নেসার

২৯ মার্চ, ১৯৯০ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলিংয়ের দিকেই অধিক ঝুঁকে পড়েছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে নিচেরসারিতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

২০১০-১১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ড এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স, ব্রিসবেন হিট, গোল্ড কোস্ট ও কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবের পক্ষে খেলেছেন। বিবিএলের প্রথম আসরে ব্রিসবেন হিটের সদস্য ছিলেন। নয় বছর সফলতার সাথে খেলার পর অ্যাডিলেড স্টাইকার্সে চলে আসেন।

অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা বোলারের মর্যাদা পেয়েছেন। নতুন সহস্রাব্দে এসে ১০ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন। বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতাসমূহে বহুমূখী গুণাবলী লক্ষ্য করা যায়। এক পর্যায়ে ২০০৮-০৯ মৌসুমে কুইন্সল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। এর এক বছর পর ২০১০ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। খেলার ধারা চলমান রাখেন। ২০১০-১১ মৌসুমের শেফিল্ড শীল্ড মৌসুমে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ‘নেস’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ১০ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বনাম কুইন্সল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০১৬-১৭ মৌসুমে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। এরপর শেফিল্ড শীল্ডের পরবর্তী দুই মৌসুমে ৩৯ ও ৩৩ উইকেট নিয়ে নিজেকে মেলে ধরেন। ক্রমাগত দারুণ খেলার সুবাদে ওডিআই দলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিবিএলের সপ্তম আসরে ১০ উইকেট লাভ করে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের শিরোপা বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০১৮ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১৩ জুন, ২০১৮ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। খেলায় তিনি মাত্র ৬ রান সংগ্রহ করেন ও ৮ ওভারে ২/৪৬ লাভ করেন। ঐ খেলায় স্বাগতিক দল ৩ উইকেটে জয়লাভ করেছিল।

এরপর, ২০১৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে যুক্তরাজ্যে যান। ২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দিবা-রাত্রির দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২৫ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৩ ও ১/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মারনাস লাবুশেনের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৭৫ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৬০ ও ১/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ট্রাভিস হেডের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

দলীয় সঙ্গীদের অনেকের ন্যায় তিনিও ভ্রমণপ্রিয়। বিশেষতঃ সমুদ্র সৈকতে অবসর সময় কাটাতে পছন্দ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট