২৭ আগস্ট, ১৯৭৪ তারিখে ওয়াইরারাপার কার্টারটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরদিকে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
প্রচণ্ড পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে জাতীয় দলে খেলার উপযোগী করে তুলেন। প্রায়শঃই তাঁকে দীর্ঘ সময় জুড়ে বোলিং করতে দেখা যেতো। তবে, নিউজিল্যান্ডের পক্ষে মাঝে-মধ্যে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ক্রমাগত আঘাতের কবলে পড়তেন ও স্বাভাবিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতো। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। পুরো খেলোয়াড়ী জীবনে মনেপ্রাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
২০০৩ থেকে ২০১০ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ২৬টি ওডিআই ও তিনটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ২৯ নভেম্বর, ২০০৩ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে প্রবেশ করেন। কিউইদের ১৩৩তম খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ক্রাইস্টচার্চে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪/২৪ পান ও দলের বিজয়ে ভূমিকা রেখে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন।
২৬ মার্চ, ২০০৪ তারিখে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট খেলতে নিউজিল্যান্ড দলে যুক্ত হন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৬ মার্চ, ২০০৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি কোন উইকেট লাভে ব্যর্থ হন ও উভয় ইনিংস থেকে মাত্র তিন রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ০/৭৩ ও ০/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ব্যাট হাতে ৩ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ঐ খেলায় তাঁর দল ৬ উইকেটে পরাজিত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর একমাত্র টেস্টে পরিণত হয়।
২৬ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। একটি উইকেটের সন্ধান পান ও তিন ওভার থেকে ১৯ রান খরচ করেছিলেন। একসময় জন ব্রেসওয়েল তাঁকে দেশের সেরা নিখুঁতমানের বোলার হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন। ২০০৬-০৭ মৌসুমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কয়েকটি ওডিআইয়ে বেশ সাড়া জাগিয়ে নিজের দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন।
২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় নিউজিল্যান্ড দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। এসেক্সের বিপক্ষে তিন উইকেট লাভ করেন ও ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু এর পরপরই তাঁকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়। ২০১০ সালে আবারও তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হলেও কিছুকাল পরই আবারও তাঁকে দলের বাইরে চলে যেতে হয়। জাতীয় দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি ও প্রায়শঃই ঘরোয়া ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে খেলতেন। অতঃপর, ৩৭ বছর বয়সে ২০১২ সালে অকল্যান্ডের বিপক্ষে দলকে জয় এনে দেয়ার পর ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।
