| |

এমফুনেকো এনগাম

২৯ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে কেপ প্রভিন্সের মিডলড্রিফ্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘ব্ল্যাক থান্ডার’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। মাদারওয়েলের ডগলাস এমবোপায় অধ্যয়ন করেছেন। একদা দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট-বোলিং জগতে পূর্ণাঙ্গ আশার প্রদীপ জ্বেলে অগ্রসর হয়েছিলেন। তবে, উপযুক্ত পরিচর্যার অভাবে মিইয়ে যান। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বর্ডার, ডলফিন্স, ইস্টার্ন প্রভিন্স ও ওয়ারিয়র্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

২০০০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৮ ডিসেম্বর, ২০০০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলার একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। ড্যারিল কালিনান তাঁর প্রথম ওভারে দুইবার ক্যাচ হাতছাড়া করার পর ২/৩৪ লাভ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরের টেস্টে আরও তিন উইকেটের সন্ধান পান।

এরপর, একই মৌসুমে নিজ দেশে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে ডব্লিউপিইউজেসি ভাসকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৩৪। উরুতে আঘাত নিয়েও ৬২ রান খরচায় ৬ উইকেট দখল করেন। খেলায় তিনি ৩/২৬ ও ৩/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাটিং করতে হয়নি। শন পোলকের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২২৯ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ঐ মৌসুমে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় চলে আসেন। টেস্টগুলো থেকে ১৭.১৮ গড়ে ১১ উইকেট দখল করেছিলেন। পরবর্তী বছরে মাখায়া এনটিনি’র সাথে প্রথম দুই কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় হিসেবে বর্ষসেরা দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড গমনার্থে মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু, দুই দিন পূর্বে ইস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে খেলাকালীন পায়ে আঘাত পান। দূর্ভাগ্যবশতঃ তাঁর আর টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা হয়নি। পুরো টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন আঘাতের কারণে থমকে যায়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। সিএসএ হাই পারফরম্যান্স প্রোগ্রামসসহ এসএ রুরাল টিমে চার বছর প্রধান কোচ ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর থেকে সফলতার সাথে ফোর্ট হেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে দল পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন। মাদারওয়েল এলাকায় একাডেমি পরিচালনায় অগ্রসর হন। চতুর্থ স্তরের কোচিং প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন। এছাড়াও, বর্ডার ক্রিকেটের দল নির্বাচকমণ্ডলীর আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ৭ জুন, ২০১৮ তারিখে রিভাস গোবিন্দের অধীনে ওয়ারিয়র্সের সহকারী কোচ হিসেবে মনোনীত হন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে নেলসন ম্যান্ডেলা বে জায়ান্টসের বোলিং কোচ হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। আগস্ট, ২০১৯ সালে বর্ডারের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পোর্ট আলফ্রেডে বসবাস করছেন।

Similar Posts

  • |

    জেমস প্যাটিনসন

    ৩ মে, ১৯৯০ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘পাট্টো’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। ১.৮৬ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ইংরেজ পিতা-মাতার সন্তান। শতাব্দীর অধিক সময় পর প্রথম ভ্রাতৃদ্বয় হিসেবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের সদস্যরূপে খেলেছেন।…

  • | | |

    ইমরান খান

    ৫ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক, তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। মূখ্যতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্ণাঢ্যময় চরিত্রের অধিকারী। পাকিস্তানী ক্রিকেটে প্রধান পটপরিবর্তনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটকে আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হৃদপিণ্ডতুল্য ভূমিকা…

  • | | | |

    পিটার মে

    ৩১ ডিসেম্বর, ১৯২৯ তারিখে বার্কশায়ারের দ্য মাউন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদেহী ও সুদর্শন গড়নের অধিকারী ছিলেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে ইংরেজ ক্রিকেটে চাকচিক্য আনয়ণে স্বর্ণালী সময়ে নিয়ে আসতে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান। নিয়মিতভাবে প্রতিপক্ষীয় অস্ট্রেলীয় রিচি বেনো’র…

  • | |

    রাকেশ শুক্লা

    ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে চমৎকার লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুম থেকে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের…

  • | |

    মোহাম্মদ রিজওয়ান

    ১ জুন, ১৯৯২ তারিখে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। এছাড়াও, প্রতিভাধর উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে। উল্লেখযোগ্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন ও চমৎকারভাবে বলকে করায়ত্ত্ব করতে পারেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও টেস্টে দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | | |

    শোফিল্ড হেই

    ১৯ মার্চ, ১৮৭১ তারিখে ইয়র্কশায়ারের বেরি ব্রো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলীয় সঙ্গীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন ও ‘ইয়র্কশায়ার একাদশের…