৯ মে, ১৯৪৩ তারিখে জ্যামাইকার রিট্রিট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
উলমার বয়েজ স্কুলে পড়াশুনো করেছেন। এখানে অবস্থানকালে হকি, টেবিল টেনিস ও ফুটবলে ফরোয়ার্ড হিসেবে ম্যানিং কাপে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর, কিংস্টন কলেজে অধ্যয়ন করেন। উলমার্সে অধ্যয়নকালীন ১৯৬০-এর দশকের শুরুরদিকে জ্যামাইকা দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে, শুরুটা তেমন সুবিধের ছিল না। দারুণ ক্রিকেটার হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতাগুলোয় ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন। জ্যামাইকার তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। দুইবার দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এক পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
১৯৬৯ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৬৯ সালে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১২ জুন, ১৯৬৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। জন শেফার্ড ও ভ্যানবার্ন হোল্ডারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
পরবর্তী টেস্ট খেলার জন্যে আরও দুই বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। ১৯৭১ সালে সফরকারী ভারতের মুখোমুখি হন। তিক্ত-মধুর অভিজ্ঞতা লাভ করেন। পোর্ট অব স্পেনের পঞ্চম টেস্টে ৯৯ রান তুলে আবিদ আলী’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে এ সাফল্য পান।
দুই বছর পর স্বর্ণালী মুহূর্তের সাথে নিজেকে জড়ান। ১৯৭৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১২৫ রান তুলেন। রোহন কানহাইয়ের সাথে জুটি গড়েছিলেন। ১৯৭৪ সালে ভারত সফরের জন্যে মনোনীত হন। তবে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সফর থেকে স্বীয় নাম প্রত্যাহার করে নেন।
১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ এপ্রিল, ১৯৭৮ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৮ ও ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলোয় কেবলমাত্র দুইবার অর্ধ-শতরানের কোটা স্পর্শ করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তন্মধ্যে, নিজ শহর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯৯ রানের চমকপ্রদ ইনিংস খেলেছিলেন। তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সতেরোটি শতক হাঁকিয়েছিলেন ও ৪৫ গড়ে ছয় সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, অফ-স্পিন বোলিং করে ৩০ গড়ে ১৩২ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৭২ সালে ক্ষুদ্রতর দলের বিপক্ষে রোহন কানহাইয়ের সাথে ২১০ রানের জুটি গড়েছিলেন। নিজে করেছিলেন ১২৫ রান।
ক্রিকেটের বাইরে টেবিল টেনিসে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। জ্যামাইকার পক্ষে টেবিল টেনিস ও গল্ফে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। একবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। প্রথম পত্নী পরিবারকে অধিক সময় দেয়ার কথা তুলে ধরলে ১৯৭৪ সালে ভারত গমন করা থেকে বিরত থাকেন। তবে, তাঁদের এ বিয়েটি টেকেনি।
