| |

মরিস অলম

২৩ মার্চ, ১৯০৬ তারিখে মিডলসেক্সের নর্থউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘদেহী ও শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। ১৯২৬ থেকে ১৯৩৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারের শৌখিন খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৩০ থেকে ১৯৩১ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ১৮.৯৩ গড়ে ১৪ উইকেট দখল করেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১০ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ২৩ বছর বয়সে ক্রাইস্টচার্চে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, এটিই নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলা ছিল। হ্যারল্ড জিলিগান, মরিস টার্নবুল, স্ট্যান নিকোলস, স্ট্যান ওয়ার্থিংটন ও টিচ কর্নফোর্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার সাথে নিজেকে জড়ান।

ঐ টেস্টে অসামান্য গৌরবের অধিকারী হন। প্রথম বোলার হিসেবে টেস্ট অভিষেকে হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে টম লরি, কেন জেমস ও টেড ব্যাডকককে উপর্যুপরী বিদেয় করে হ্যাট্রিকের সন্ধান পান। পরবর্তীতে পিটার পেথেরিক ও ড্যামিয়েন ফ্লেমিং তাঁর এ কৃতিত্বের সাথে যুক্ত হন। এছাড়াও, পাঁচ বল থেকে চার উইকেট পেয়েছিলেন। স্টুই ডেম্পস্টার, টম লরি, কেন জেমস ও টেড ব্যাডকককে পাঁচ বলের ব্যবধানে বিদেয় করে চার উইকেট তুলে নেন। নিজস্ব অষ্টম ওভারে প্রথম বলে রজার ব্লান্ট অল্পের জন্যে এলবিডব্লিউ থেকে বেঁচে যান। পরের বলে স্টুই ডেম্পস্টার বোল্ড হন। তৃতীয় বলে কিউই অধিনায়ক টম লরি খেলেন। চতুর্থ বলে এলবিডব্লিউ হন। কেন জেমস উইকেট-রক্ষক টিচ কর্নফোর্ডের গ্লাভসবন্দী হন এবং ষষ্ঠ বলে টেড বেডকক বোল্ড হলে তিনি হ্যাট্রিক সম্পন্ন করেন ও পাঁচ বল থেকে চার উইকেট লাভ করেন। পরবর্তীতে, ক্রিস ওল্ডওয়াসিম আকরাম তাঁর এ সাফল্যের ভাগীদার হন। এ পর্যায়ে নিজের প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২১/৭ থেকে ১১২ হলেও মাত্র দুইদিনের কম সময়ে পরাজিত হয়। তিনি ৫/৩৮ ও ৩/১৭ পেয়েছিলেন। তাঁর হ্যাট্রিকটি টেস্টের ইতিহাসের দশম ঘটনা ছিল। তাঁর হ্যাট্রিকটি স্টেডিয়ামে উপস্থিত ঐ শতকের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুইবার হ্যাট্রিককারী হিউ ট্রাম্বল পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।

এরপর, আর মাত্র চার টেস্টের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখতে পেরেছিলেন। অপর তিনটি নিউজিল্যান্ডে ও এক বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলেছিলেন। ১৯৩০-৩১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৬ জানুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৪৪ ও ১/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, তাঁকে দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এক পর্যায়ে এমসিসির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান এটিসি অলম প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছে। ৮ এপ্রিল, ১৯৯৫ তারিখে কেন্টের টিনব্রিজের ডিন পার্ক এলাকায় ৮৯ বছর ১৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    উইলিয়াম সলোমন

    ২৩ এপ্রিল, ১৮৭২ তারিখে কেপ কলোনির ফোর্ট বিউফোর্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ১৯০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন…

  • |

    ব্লেসিং মুজারাবানি

    ২ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে হারারের হাইফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘ ৬ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। সহজাত পেস ও বাউন্স সহযোগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হন এবং মরনে মরকেলের চেয়েও নিজেকে এগিয়েছিলেন। ২০১০-এর…

  • |

    নিখিল চোপড়া

    ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ তারিখে উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দিলীপ ট্রফিতে সেন্ট্রাল জোনের…

  • |

    সায়মন হারমার

    ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে ট্রান্সভালের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়ারিয়র্স, বর্ডার ও ইস্টার্ন প্রভিন্স এবং…

  • |

    সাঈদ আজমল

    ১৪ অক্টোবর, ১৯৭৭ তারিখে পাঞ্জাবের ফয়সালাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নেমেও কার্যকর ভূমিকার স্বাক্ষর রাখতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।…

  • | |

    সিবি ফ্রাই

    ২৫ এপ্রিল, ১৮৭২ তারিখের সারের ওয়েস্ট ক্রয়ডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত শৌখিন ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। রেপটনে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, ওয়াডহাম কলেজ অক্সফোর্ডের বৃত্তিলাভ করেন। সেখান থেকে ক্লাসিক মডারেশন্সে প্রথম-শ্রেণীর স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি…