|

ম্যাথু পটস

২৯ অক্টোবর, ১৯৯৮ তারিখে কো ডারহামের সান্ডারল্যান্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সেন্ট রবার্ট অব নিউমিনস্টার ক্যাথলিক স্কুল এন্ড সিক্সথ ফর্ম কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ডারহাম একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ২০১৭ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লাহোর কালান্দার্স ও নর্দার্ন সুপারচার্জার্সের পক্ষে খেলেছেন। ৮ জুন, ২০১৭ তারিখে ক্যান্টারবারিতে অনুষ্ঠিত ডারহাম বনাম কেন্টের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০২০ সালে ২২ বছর বয়সী ম্যাথু পটসকে ডারহামের টি২০ ব্লাস্ট বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত করা হয়। এ প্রতিযোগিতায় ১০ খেলায় অংশ নিয়ে ১৮.০৭ গড়ে ১৩ উইকেট পেয়েছিলেন। পূর্বেকার মৌসুমে লিচেস্টারশায়ার, ইয়র্কশায়ার ও ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে উপর্যুপরী তিনটি ব্যক্তিগত সেরা সাফল্যের সাথে জড়ান। ল্যাঙ্কাশায়ার লাইটনিংয়ের বিপক্ষে নিজের দ্বিতীয় ওভারে শীর্ষসারিতে ফাটল ধরিয়ে খেলাটি ডারহামের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে দেন। দ্বিতীয় বলে স্টিভেন ক্রফ্টকে শূন্য রানে কট আউটে বিদেয় করার পর চতুর্থ বলে ডেন ভিলাসকে এলবিডব্লিউতে শূন্য রানে বিদেয় করেন। এরপর, রব জোন্সের অফ স্ট্যাম্প উপরে শূন্য রানে ফেরৎ পাঠান। তিন ওভারে ৩/৮ নিয়ে খেলায় নিজস্ব সেরা বোলিং করেন।

মে, ২০২২ সালে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ৭/৪০ নিয়ে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং করেন ও প্রতিপক্ষের পরাজয়কে ত্বরান্বিত করেন। ১৬ আগস্ট, ২০২২ তারিখে ডারহামের সাথে দুই বছর মেয়াদে চুক্তি নবায়ণ করেন। পুরো গ্রীষ্ম জুড়েই তিনি উল্লেখযোগ্য সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। মৌসুমের শুরুতে এলভি= ইন্স্যুরেন্স কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নেয়ার পর টেস্টে অংশ নেন। পূর্বেকার মৌসুমে ২০.৬৯ গড়ে ৩৬ উইকেট পেয়েছিলেন।

২০২২ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করছেন। ঐ বছর নিজ দেশে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২ জুন, ২০২২ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ম্যাট পার্কিনসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথমবারের মতো বেন স্টোকসের নেতৃত্বে থেকে ঐ টেস্টে তিনি সাত উইকেট পান। ৪/১৩ ও ৩/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ট্রেন্ট বোল্টের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, জো রুটের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয়ী হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

সিরিজ বিজয়ে শীর্ষ উইকেট শিকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। আগস্ট, ২০২২ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টকে ঘিরে তাঁকে ইংল্যান্ড দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০২৪-২৫ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৯০ ও ১/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মিচেল স্যান্টনারের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৪২৩ রানের বিরাট ব্যবধানে পরাজিত হলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

২০২৫-২৬ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১* ও ১৮* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণসহ সমসংখ্যক রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ট্রাভিস হেডের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৫ উইকেটে পরাভূত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

Similar Posts

  • | | |

    আলভিন কালীচরণ

    ২১ মার্চ, ১৯৪৯ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার পোর্ট মোর‍্যান্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইন্দো-গায়ানীয় বংশোদ্ভূত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যান। টেস্ট ক্রিকেটে যে ছোটখাটো গড়নের অধিকারীরাও সুন্দর খেলা উপহার দিতে পারেন তা ইতিবাচক প্রমাণ করে…

  • | | | |

    বিষেন সিং বেদী

    ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘স্পিনের সর্দার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দৃষ্টিনন্দন, শৈল্পিকসত্ত্বা নিয়ে বিশুদ্ধ ভঙ্গীমায় বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। বোলিং ভঙ্গীমার…

  • |

    নীলেশ কুলকার্নি

    ৩ এপ্রিল, ১৯৭৩ তারিখে মহারাষ্ট্রের দম্বিলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিদেশ সফরে কিংবা…

  • | |

    ফ্রাঙ্ক ওরেল

    ১ আগস্ট, ১৯২৪ তারিখে বার্বাডোসের ব্যাংক হল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও সাংবাদিক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম কিংবা বামহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঝারিসারিতে তিনজন অসাধারণ ব্যাটসম্যানের অন্যতম ছিলেন। যেখানে ক্লাইড ওয়ালকট ও এভারটন উইকস শক্তিপ্রয়োগে খেলতেন;…

  • | |

    কেনিয়া জয়ন্তীলাল

    ১৩ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে…

  • |

    কলিন ম্যাককুল

    ৯ ডিসেম্বর, ১৯১৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্যাডিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও লেখক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, স্লিপ অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে ১৯৬০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ…