১৮ জুন, ১৯৭৪ তারিখে ট্রান্সভালের ক্লার্কসডর্প এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারিতে মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘জার’ কিংবা ‘ভিজে’ ডাকনামে ভূষিত মার্টিন ফন জারসভেল্ড ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। কার্যকর কৌশল অবলম্বনসহ চমৎকার ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে খেলতেন। প্রচলিত পন্থায় স্ট্রোকের বিস্তৃত ফুলঝুড়ি ছোটান। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নর্দার্ন, নর্দার্ন ট্রান্সভাল ও টাইটান্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন, কেন্ট ও নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লোয়ারহাউজ ও সাফোকের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।
১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা এবং ২০০২-০৩ মৌসুমে জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলের সদস্য হিসেবে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরের জন্যে তাঁকে কিছুটা সময়ক্ষেপণ করতে হয়েছিল। ২০০১-০২ মৌসুমে পাঁচ শতক সহযোগে ৭৪.৫৮ গড়ে ১২৬৮ রান তুলেন।
স্বদেশী গার্নেট ক্রুজারের পর গ্ল্যামারগনের দ্বিতীয় কোলপ্যাক খেলোয়াড় হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন। ৩৭ বছর বয়সে এসে ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে কয়েকমাস দলটিতে খেলেন। এ পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় নশুয়া টাইটান্সের দ্বৈত শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে টি২০ ও লিস্ট-এ খেলায় মিশ্র সফলতার সন্ধান পান।
২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও ১১টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে নিজ দেশে খালেদ মাসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ১৮ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে ইস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩৯* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। গ্রায়েম স্মিথের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১০৭ রানে জয় পেলে সিরিজে এগিয়ে যায়। এর পূর্বে একই সফরের ৬ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে বেনোনিতে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
২০০৩ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। এরপর, ২০০৩-০৪ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড, ২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ড এবং ২০০৪-০৫ মৌসুমে ভারত সফরে যান। ২০০৩-০৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৬ মার্চ, ২০০৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে ৫৯ ও ১৩* রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ঐ খেলায় তাঁর দল ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
২০০৪-০৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৪ আগস্ট, ২০০৪ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৭ ও ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মাহেলা জয়াবর্ধনে’র অসাধারণ দ্বি-শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ২০ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যান্ড্রু হলের অসাধারণ অল-রাউন্ড কৃতিত্বে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৪ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ৪৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জ্যাক ক্যালিসের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টে তিনটি অর্ধ-শতক হাঁকালেও কোন শতকের সন্ধান পাননি। এমনকি ওডিআইয়ে কোন অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেননি। দক্ষতা, প্রতিভা ও ফুরফুরে মেজাজের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারেননি। ফলশ্রুতিতে, দল নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক উপেক্ষিত হন। লোয়ারহাউজ ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সময়কালে খেলেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর ২০০৫ সালে কেন্টের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। একই বছর ক্যাপ লাভ করেন ও চার নম্বর অবস্থানে খেলেন। ২০০৫ সালে এ দলটিতে খেলে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৬২ রান তুলেন। চারদিনের ও একদিনের ক্রিকেটে ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ তারিখে লন্ডনে পিসিএ বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ২০১১ সাল পর্যন্ত এখানে অবস্থান করেন।
