৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
তাঁর প্রতিভা সম্পর্কে কারও মনে কোন সন্দেহ ছিল না। ১৯ বছর বয়সে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় ও অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকদের কাছ থেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা কুড়ান। এমনকি এক পর্যায়ে তাঁকে স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডসের ন্যায় তারকা ক্রিকেটারের সাথে তুলনায় আনা হয়েছিল। দূর্ভাগ্যবশতঃ খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে সাড়া জাগিয়ে পরবর্তীতে তিনি আর তা ধরে রাখতে পারেননি।
১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা, লিওয়ার্ড আইল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অ্যান্টিগুয়া হকসবিলস, সাজিকর হাই পারফরম্যান্স সেন্টার, সেন্ট কিটস ও নেভিস প্যাট্রিয়টস, সেন্ট লুসিয়া স্টার্স, বাসনাহিরা ক্রিকেট ডান্ডি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, দূরন্ত রাজশাহী, রাজশাহী রয়্যালস, কর্ণাটক তুস্কার্স, পুনে ওয়ারিয়র্স, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, কাউলুন ক্যান্টন্স, মেলবোর্ন রেনেগাডেস ও পেশাওয়ার জালমি’র পক্ষে খেলেছেন।
২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৭১ টেস্ট, ২০৭টি ওডিআই ও ৬৭টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ৪ অক্টোবর, ২০০০ তারিখে নাইরোবির জিমখানায় অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
২০০০-০১ মৌসুমে জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৫ ডিসেম্বর, ২০০০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩৫ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪৯ ও ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কলিন মিলারের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০০২ সালে ভারত সফরে দলের নিয়ম-শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে অংশ নেন। এরফলে, দলীয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দেশে ফেরৎ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেও পিছু হটে। কলকাতা টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। তবে, তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন আঘাতের কবলে পড়াসহ ছন্দ ধরে রাখতে হিমশিম খাবার ফলে সর্বদাই দলে আসা-যাবার পালায় থাকতে হতো। ২০০৭ সালে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ওডিআই শুরুর পূর্বে জুয়াড়ীদের তথ্যের আলোকে আরও একবার ভারতীয় পুলিশের জেরার কবলে পড়েন। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও তদন্ত তখনও চলমান ছিল। শেষ খেলায় ব্রায়ান লারা’র সাথে রান-আউটে জড়িত হবার মাধ্যমে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। পরের বছর তাঁর খেলার মান আরও নিচেরদিকে চলে যায়।
২০০৭-০৮ মৌসুমে ডোয়াইন ব্র্যাভো’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১০ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক স্প্রিংবকের বিপক্ষে বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৬ ও ১০৫ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যাশওয়েল প্রিন্সের অনবদ্য শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১০০ রানে জয় পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
বোলিং ভঙ্গীমায় নেতিবাচক ফলাফল আসলে সঠিক বোলিং কৌশল গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হন। এরপর, জুয়াড়ীদের সাথে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের জন্যে তথ্য বিনিময়ের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্যে নিষিদ্ধ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পর পুণরায় দলে ফিরে আসেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে বেশ ভালো করেন। ২১ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে খুলনায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশে বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৬০ রান তুলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিক দল ১০ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
এছাড়াও, সীমিত-ওভারের খেলায় দলের অন্যতম ধারাবাহিকতাপূর্ণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। প্রকৃতপক্ষে ২০১২ সালে ইংল্যান্ড সফরে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। এ সফরে পাঁচ ইনিংস থেকে ৩৮৬ রান তুলেন। ইংরেজ বোলিং আক্রমণ রুখে দিয়ে একটি শতক ও তিনটি অর্ধ-শতকের সন্ধান পান। ঐ বছরের শেষে ২০১২ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭৮ রানের ইনিংস খেলে ১৯৭৯ সালের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে প্রথমবারের মতো বিশ্ব শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।
২০১৩ সালে ভারত সফরে যান। এ সফরে কৌণিক বোলিংয়ের কারণে ফাস্ট বোলিং করার সুযোগ পাননি। তবে, সবগুলো টেস্টেই সাধারণমানের অফ-ব্রেক বোলিং করেছিলেন।
২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ২৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসেই টিম সাউদি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। রস টেলরের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০১৪-১৫ মৌসুমে দিনেশ রামদিনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ১৭ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৩৩ ও ১৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, হাশিম আমলা’র অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে ঐ খেলায় সফরকারীরা খুব সহজে ইনিংস ও ২২০ রানে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১৬-১৭ মৌসুমে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যান। ৩০ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ১০ রান সংগ্রহ করে ইয়াসির শাহের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, ক্রেগ ব্র্যাদওয়েটের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে তাঁর দল ৫ উইকেটে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০১৩ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন।
