|

মার্ক উড

১১ জানুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে নর্দাম্বারল্যান্ডের অ্যাশিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

অ্যাশিংটন হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস, ডারহাম একাডেমি, ইংল্যান্ড লায়ন্স, লন্ডন স্পিরিট ও নর্দাম্বারল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। ডারহামের পক্ষে খেলার পর থেকে দলের প্রধান বোলিং চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। নিচেরসারিতে মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ৩ এপ্রিল, ২০১১ তারিখে ডারহামে অনুষ্ঠিত ডারহাম এমসিসিইউ বনাম ডারহামের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেন। একই বছরে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথম খেলেন।

প্রথম মৌসুমেই স্বীয় দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে সচেষ্ট হন। ২১.৬৩ গড়ে ১৯ উইকেট দখল করেছিলেন। পল কলিংউড তাঁর উপর আস্থা ও ভরসা রেখেছিলেন। ২০১৩ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপ বিজয়ে ডারহামের অগ্রযাত্রায় অংশ নেন। এ মৌসুমে ২৪.০৭ গড়ে ২৭ উইকেট পান।

তবে, এরপর থেকে ক্রমাগত আঘাতের কবলে পড়তে শুরু করেন। ২৭ মার্চ, ২০২২ তারিখে ডান কনুইয়ে আঘাত পেলে অস্ত্রোপচারের দিকে অগ্রসর হন। ১৯ মে, ২০২২ তারিখে কনুইয়ের অস্ত্রোপচার শেষে খেলার জগতে ফিরে আসেন। তাসত্ত্বেও কিছু দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সুবাদে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে খেলার উপযোগী করে তুলেন। দ্রুতগতিতে চমৎকার পেস আনয়ণসহ গড়ে ঘণ্টাপ্রতি ১৪০ কিলোমিটার গতিবেগে বোলিং করতে পারেন।

২০১৫ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আই খেলতে শুরু করেন। বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলের ব্যর্থতায় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশের পথ প্রশস্ত হয়। ৮ মে, ২০১৫ তারিখে ডাবলিনের মালাহাইডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম অংশ নেন। এ খেলার মাধ্যমেই নিউজিল্যান্ড বিজয়ের সূচনা ঘটে। ঐ মাস শেষে টেস্টে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ২০১৫ সালে নিজ দেশে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২১ মে, ২০১৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অ্যাডাম লিথের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বল হাতে নিয়ে ৩/৯৩ ও ১/৪৭ পান। এছাড়াও, খেলায় তিনি ৮* ও ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। বেন স্টোকসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১২৪ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরের খেলায়ও তিনি ৫ উইকেট পান ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

পরবর্তীতে, একই সফরের ২৩ জুন, ২০১৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে টি২০আইয়ে প্রথম খেলেন। অভিষেকের পর থেকে ইংল্যান্ড দলের নিত্য অনুষঙ্গে পরিণত হন। প্রায়শঃই আঘাতের কবলে পড়লে দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েন। শারীরিক সমস্যায় টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন। তবে, সীমিত-ওভারের খেলায় দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। অন্যান্য ইংরেজ পেসারের তুলনায় ভিন্নতর প্রভাব ফেলতেন। ব্যাট হাতে তেমন সুবিধে না করলেও নীচেরসারিতে বেশ কার্যকর প্রভাব রাখতেন।

২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে ঘিরে তিনি সেরা ছন্দে ছিলেন না। তবে, সুস্থ হবার পর নটিংহামে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেকে বেশ মেলে ধরেন। নিষ্প্রাপণ পিচে ২/৭১ নিয়ে বিশ্বকাপ দলে নিজেকে ঠাঁই করে নেন। ঐ প্রতিযোগিতা তাঁর দল শিরোপা জয় করে ও ইংরেজদের ইতিহাসের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি উত্তোলনে অংশ নেন। কুচকিতে টান পড়ায় চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিতে পারেননি ও অ্যাশেজ সফরে যেতে পারেননি।

ঐ বছরের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে তাঁকে দলে রাখা হয়। ২০১৯-২০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। সিরিজের তৃতীয় ও চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। উভয় খেলায় ভালো করেন ও ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

১৬ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৩১ ও ৩/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অলি পোপের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৩ রানে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে বিপক্ষে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৪৬ ও ৪/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩৫* ও ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে সফরকারীরা ১৯১ রানে জয়লাভ করলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। ওডিআই ও টি২০আইয়ে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন।

আঘাতের কারণে স্বাভাবিক উত্তরণে ব্যাঘাত ঘটায় ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ খেলা থেকে বাদ পড়েন। পরবর্তীতে অবশ্য, কোভিড-১৯ বৈশ্বিক অতিমারীর কারণে এ সিরিজটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২১ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/২১ ও ০/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মিচেল স্টার্কের অনবদ্য বোলিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

Similar Posts

  • | | |

    জ্যাক চিদাম

    ২৬ মে, ১৯২০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের মোব্রে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম পর্যন্ত…

  • | |

    জো ট্রাভার্স

    ১০ জানুয়ারি, ১৮৭১ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯০০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ১৯০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    রাজেশ চৌহান

    ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে বিহারের রাঁচিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মধ্যপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে মধ্যপ্রদেশ…

  • | | |

    সনথ জয়সুরিয়া

    ৩০ জুন, ১৯৬৯ তারিখে মাতারায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়েছিলেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। যখনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রথমবারের মতো পদার্পণ করেছেন, ঠিক তখন থেকেই শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিধর খুঁটির…

  • |

    উইলিয়াম সলোমন

    ২৩ এপ্রিল, ১৮৭২ তারিখে কেপ কলোনির ফোর্ট বিউফোর্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ১৯০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন…

  • |

    অ্যান্ডি রবার্টস, ১৯৪৭

    ৬ মে, ১৯৪৭ তারিখে ওয়াইকাটোর টি আরোহা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১১২টি প্রথম-শ্রেণীর…