২৭ অক্টোবর, ১৯৬৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের লিটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেট অধিনায়ক হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ও কার্যকরী অধিনায়কের গুণাবলীর কারণে খেলোয়াড়ী জীবনে ‘টাবি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। অ্যালান বর্ডারের অবসর গ্রহণের পর অস্ট্রেলিয়া দলের পুণর্গঠনে কার্যকর ভূমিকা রেখে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে থেকে শুরু করে ২০০০-এর দশক পর্যন্ত বিশ্ব ক্রিকেটে একাধিপত্য বজায়ে অনন্য অবদান রেখে গেছেন।

১৯৮৫-৮৬ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ম্যাথু হেইডেনের সাথে তিনিও ল্যাঙ্কাশায়ার ক্লাবে খেলেছেন।

১৯৮৯ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১০৪ টেস্ট ও ১১৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে নিজ দেশে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ বছর বয়সে ২৬ জানুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ট্রেভর হোন্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২৫ ও ৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে কার্টলি অ্যামব্রোসের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়ক অ্যালান বর্ডারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর বদৌলতে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৮৯ সালে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৮ জুন, ১৯৮৯ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩৬ ও ৬০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। টেরি অল্ডারম্যানের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ২১০ রানে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১০ আগস্ট, ১৯৮৯ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২১৯ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮০ রান জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৮৯-৯০ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৯ ও ১৬৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অরবিন্দ ডি সিলভা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে হোবার্টে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২৩ ও ১০৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, অরবিন্দ ডি সিলভা’র প্রাণান্তঃকর ব্যাটিং স্বত্ত্বেও স্বাগতিকরা ১৭৩ রানে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১০১* রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও ১-০ ব্যবধানে স্বাগতিক দল সিরিজ জয় করে নেয়। তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

এরপর, একই মৌসুমে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৫ মার্চ, ১৯৯০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ ও ৫ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক জন রাইটের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পায়।

১৯৯০-৯১ মৌসুমে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৭ এপ্রিল, ১৯৯১ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে ৫৯ ও ১৪৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ১৫৭ রানে জয় পেলেও ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিজ দেশে কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন ও ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৪০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৭০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। আলোকস্বল্পতা ও বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত খেলায় সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৭ ও ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, খেলায় তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেন। টেস্টের দ্বিতীয় দিন নিজস্ব শততম ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৫ জানুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ২১ ও ১০ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, স্টিভ ওয়াহ’র অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ১৪৮ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ করায়ত্ত্ব করে।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৭ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র ক্যাচ তালুবন্দী করে ৫৭ টেস্টে শেন ওয়ার্নের বোলিং থেকে ৪০তম ক্যাচ মুঠোয় পুড়েন। এরফলে, যে-কোন বোলারের নির্দিষ্ট ফিল্ডারের সহায়তায় সর্বাধিক ক্যাচ নেয়ার রেকর্ড গড়েন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এলআর গিবসের ৬০ টেস্টে বোলিং থেকে জিএস সোবার্সের সর্বাধিক ক্যাচ নেয়ার রেকর্ড ম্লান হয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ১১২ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ পাঁচটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮৬ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

এরপর নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৩০ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের চতুর্থদিন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে মাঠ ত্যাগ করেন। এরফলে, ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে অকল্যান্ড টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ডিসি বুনের পর প্রথম অস্ট্রেলীয় হিসেবে এ কৃতিত্বের অধিকারী হন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১৬৯* ও ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

একই মৌসুমে অজি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ভারত গমন করেন। ২৫ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ ও ১০২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মাইকেল কাসপ্রোভিচের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

৫০ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে পাকিস্তান সফরে অজি দলকে নেতৃত্ব দেন। ঐ সফরে স্বাগতিক পাকিস্তান দলকে টেস্ট সিরিজে পরাজিত করেছিলেন। এরফলে মাত্র দুইবার ঐ দেশে অ্যাশেজ সিরিজ জয়ী দলের একটি হিসেবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। এ সফরে সর্বকালের অন্যতম সেরা ইনিংস উপহার দেন। অক্টোবর, ১৯৯৮ সালে পেশাওয়ারে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৩৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এ ইনিংস খেলতে বারো ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন। ৫৬৪ বল মোকাবেলায় ৩২টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। এরফলে, ১৯৩০ সালে লিডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের গড়া রেকর্ডের সাথে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ টেস্ট রানকে যুক্ত করেন। খেলাটি অবশ্য ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।

একই সফরের ২২ অক্টোবর, ১৯৯৮ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে ১৬ ও ৬৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, আমির সোহেলের অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। এ সিরিজে ৫১৩ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

টেস্টে দূর্ভাগ্যজনক ঘটনার সাথে নিজেকে জড়ান। ২৩জন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে রান-আউটের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ইয়ান হিলি’র সাথে দুই টেস্টের উভয় ইনিংসে রান সংগ্রহ ব্যতিরেকে মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

স্লিপ অঞ্চলে ফিল্ডিং করতেন। ক্যাচের মাধ্যমে খেলায় জয়লাভে তাঁর ন্যায় অপর কেউ ভূমিকা রাখতে পারেননি ও বেশ সৌভাগ্যের অধিকারী ছিলেন। ১৯৯৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যান কার্ল হুপারের বল লাথি মেরে ওপরে তুলে বিদেয় করেন। মাইকেল বেভানের বল থেকে এ সাফল্য পান। কিংবদন্তীতুল্য ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো বলেছিলেন যে, ‘আপনি কি তা বিশ্বাস করবেন? সত্যিই অসাধারণ।’

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালেক স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। বক্সিং ডে পুরোপুরি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায় ও ৬০০০০ দর্শকের আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খেলা শুরু হবার পূর্বক্ষণে বৃষ্টি আঘাত হানে। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৭ ও ১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ডিন হ্যাডলি’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ১২ রানে পরাজয়বরণ করলেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালেক স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৯৯৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ২ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে মার্ক রামপ্রকাশের ক্যাচ নিয়ে নিজস্ব ১৫৭তম ক্যাচ ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এরফলে, অ্যালান বর্ডারের বিশ্বরেকর্ড ভেঙ্গে যায়। স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯৮ রানে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ৪৩.৫০ গড়ে ৭৫২৫ রান তুলেছিলেন। স্লিপ অঞ্চলে দণ্ডায়মান থেকে অসাধারণ ফিল্ডারের পরিচয় দিয়েছিলেন। ১৫৭ ক্যাচ মুঠোয় পুড়ে তৎকালীন বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন।

সার্ভেয়ার হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্য কর্মের দিকে মনোনিবেশ ঘটান। নাইন নেটওয়ার্কে যুক্ত রয়েছেন। মার্ক নিকোলাস ও ইয়ান চ্যাপেলের সাথে খেলা বিশ্লেষকের ভূমিকা অবতীর্ণ হন।

১৯৯০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ১৯৯৯ সালে বর্ষসেরা অস্ট্রেলীয় হিসেবে মনোনীত হন। ২০০৩ সালে খেলোয়াড়, প্রশাসক, পরামর্শক ও সম্প্রদায়ে অসামান্য অবদান রাখা বিশেষতঃ ক্যান্সার গবেষণা তহবিল গঠনে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া পদবীতে ভূষিত হন। ১৯৯৭ সালে স্পোর্টিং চান্স ক্যান্সার ফাউন্ডেশনে গঠনে সহঃপ্রতিষ্ঠাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ২০০৩ সালে স্পোর্ট অস্ট্রেলিয়া হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়াসহ সম্প্রদায় ও ক্রিকেটে অনবদ্য ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ শতবার্ষিকী পদক লাভ করেন। ২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। ক্রিকেটের বাইরে অবসর সময়ে মৎস্য শিকারে মনোনিবেশ ঘটান।

Similar Posts

  • | | |

    বিজয় মেহরা

    ১২ মার্চ, ১৯৩৮ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শীর্ণকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তেমন সাফল্য না পেলেও শারীরিক সক্ষমতা ব্যতিরেকে মনেপ্রাণে যে-কোন পরিবেশে সংগ্রাম করে গেছেন। খেলোয়াড়ী…

  • |

    শাদমান ইসলাম

    ১৮ মে, ১৯৯৫ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধন করেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের অনেক পরিবারের ন্যায় পারিবারিক খাবার গ্রহণকালে তিনিও ক্রিকেট বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিতেন। কেননা, পিতা শহীদুল ইসলাম বিসিবি’র বয়সভিত্তিক দলে অনেকগুলো বছর জড়িত ছিলেন। নভেম্বর, ২০১৮ সালে…

  • |

    হামিশ মার্শাল

    ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে অকল্যান্ডের ওয়ার্কওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। স্বল্পসংখ্যক প্রতিভাবান ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দল নির্বাচকমণ্ডলীর উপেক্ষার শিকারে পরিণত হয়েছেন। তাঁর অপর যমজ ভ্রাতা জেমস…

  • |

    আলফ্রেড মার

    ২৮ মার্চ, ১৮৬২ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের পিরমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৮৯০-৯১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • | |

    মার্ক ডেকার

    ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে ম্যাশোনাল্যান্ডের গাটুমা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। খাঁটিমানসম্পন্ন শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ও কভার অঞ্চলে চমৎকার ফিল্ডার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনায় সচেষ্ট ছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ…

  • |

    ড্যাস্টি ট্যাপস্কট

    ৭ নভেম্বর, ১৮৮৯ তারিখে কেপ প্রভিন্সের বার্কলি ওয়েস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ১৯১০-১১ মৌসুম থেকে…