|

মার্ক হ্যাসলাম

২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের বারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। পাশাপাশি, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ধীরগতিসম্পন্ন বামহাতি বোলার ছিলেন। তাঁর উত্থানপর্বটি বেশ দৃষ্টিনন্দন ছিলেন। ২০ বছর বয়সে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কা গমনার্থে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়। এ পর্যায়ে তিনি অকল্যান্ডের পক্ষে মাত্র পাঁচটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে মার্টিন ক্রো’র অধিনায়কত্বে জিম্বাবুয়ে সফরে কিউই দলের সাথে যান। ১ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। সায়মন ডৌলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কোন ইনিংসেই ব্যাটিং করার সুযোগ না পেলেও দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ১২০ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ০/৪৪ ও ০/৭৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। স্মর্তব্য যে, জিম্বাবুয়ে-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে এটিই ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট ছিল।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই টেস্টে অংশগ্রহণ করলেও তেমন আশাব্যঞ্জক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে পারেননি। ১৫৩ রান খরচায় নিচেরসারির একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। শ্রীলঙ্কায় একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক ঘটে।

পরের মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে তাঁকে দলে রাখা হলেও সেখানে তিনি সীমিত পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে ভারত গমনার্থে পুণরায় তাঁকে দলে ঠাঁই দেয়া হয়। প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে লি জার্মনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ২৫ অক্টোবর, ১৯৯৫ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্টে ০/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৮ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে কটকে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত এ খেলায় একমাত্র ইনিংসে ১/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায় তাঁর দল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ স্পিনারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলে তাঁর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলার উচ্চাশা ত্যাগ করতে হয়। তবে, ঘরোয়া আসরের নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলতে থাকেন। পরবর্তীতে, কেবলমাত্র একদিনের খেলার উপযোগী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেন।

Similar Posts

  • |

    জর্জ হার্ন, ১৮৮৮

    ২৭ মার্চ, ১৮৮৮ তারিখে লন্ডনের ক্যাটফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ক্রিকেটপ্রিয় বিখ্যাত হার্ন পরিবারের সন্তান ছিলেন। ১৮৮৯ সালে পরিবারের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসিত হন। পিতা ফ্রাঙ্ক হার্ন পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন এবং ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা – উভয়…

  • |

    ফজল-উর-রেহমান

    ১১ জুন, ১৯৩৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে লাহোর ও পাঞ্জাবের…

  • | |

    জন কিং

    ১৬ এপ্রিল, ১৮৭১ তারিখে লিচেস্টারশায়ারের লাটারওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়েও সমান দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নিজের সেরা দিনগুলোয় অন্যতম সেরা বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে বেশ…

  • |

    মেহেদী হাসান মিরাজ

    ২৫ অক্টোবর, ১৯৯৭ তারিখে খুলনায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করে থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটে অন্যতম উদীয়মান তরুণ হিসেবে আবির্ভুত হয়েছিলেন। লাল-বলের ক্রিকেটে বীরোচিত ভূমিকার কারণে খ্যাতি পেয়েছেন। ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতর সংস্করণের তুলনায় লাল-বলের ক্রিকেটেই অধিক…

  • |

    শেন থমসন

    ২৭ জানুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে ওয়াইকাটোর হ্যামিল্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। প্রকৃত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডার হিসেবে ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও একই ধারা প্রবাহমান রাখতে সমর্থ হন। কিন্তু, দীর্ঘ…

  • |

    জেমস ক্রান্সটন

    ৯ জানুয়ারি, ১৮৫৯ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের বোর্ডস্লে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, বামহাতে বোলিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। টানটন কলেজে পড়াশুনো করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সতেরো বছর বয়সে দলটির সাথে প্রথম যুক্ত হন।…